Beauty tips
Sananda fashion

ত্বকের জেল্লা বাড়ান

ঝকঝকে, উজ্জ্বল, মখমলের মতো ত্বক, তাও আবার বাড়িতে বসে! সোনার পাথরবাটির মতো শোনাচ্ছে? এই অসম্ভবকে সহজে সম্ভব করার উপায় নিয়ে এবারের প্রতিবেদন।

ত্বকের যত্ন নেওয়া কি চাট্টিখানি কথা! মুখ পরিষ্কার রাখা, নিয়মিত স্ক্রাব ব্যবহার করা তো রয়েইছে। উপরন্তু ফেসপ্যাক, মাস্ক, ময়শ্চারাইজ়ার, টোনার ইত্যাদি হাজারও প্রডাক্টের ঝামেলা। অবশ্য তাতে যদি কাজের কাজ হয়, তাহলে এই পরিশ্রমটুকু করে নিতে হয়তো অনেকেই আপত্তি করবেন না। আসলে শরীরের যেমন বিভিন্ন কাজ করতে সময়ে সময়ে খাবারের দরকার হয়, তেমনই ত্বকেরও সুন্দর এবং সুস্থ থাকার জন্য খাবার, অর্থাৎ পুষ্টির প্রয়োজন। আর ত্বকের পুষ্টিতে যদি কোনও ঘাটতি না থাকে, তাহলে তার পরিচয় আপনার মুখে ফুটে উঠতে বাধ্য। নিশ্চয়ই ভাবছেন, ত্বকের উপযুক্ত খাবারগুলো কী কী? সে কথা বলতেই তো আসা। বাড়িতে বসে সহজে ত্বকের জেল্লা বাড়ানোর উপযুক্ত রেসিপি রইল সকলের জন্য।

কোরিয়ান স্কিনকেয়ার রেজিম

ত্বকের জেল্লা বাড়ানোর প্রসঙ্গে এই বিষয়ে কথা না বলে উপায় নেই। পূর্ব-এশিয়ার দেশ কোরিয়ায় মহিলারা দীপ্তিময়, উজ্জ্বল ত্বকের জন্য জগদ্বিখ্যাত। সম্প্রতি ওখানে এক ধরনের স্কিনকেয়ার রেজিম দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নাম ‘গ্লাস স্কিন রেজিম’। অর্থাৎ ত্বক এতটাই মসৃণ এবং জেল্লাদার হবে, যে তাকে অনায়াসে কাচের স্বচ্ছতার সঙ্গে তুলনা করা চলে। আর এই বিশেষ স্কিনকেয়ার রুটিন মেনে চলতে পারলে ফল অবধারিত। একে ‘১০ স্টেপ কোরিয়ান স্কিন কেয়ার রেজিম’-ও বলা হয়। দশটি ধাপের প্রথম ধাপ হল অয়েল ক্লেনজ়ারের ব্যবহার। অয়েল বেসড কোনও ক্লেনজ়ার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে তারপর ব্যবহার করা হয় ফোম বেসড ক্লেনজ়ার। এরপর স্ক্রাব এবং টোনার ব্যবহার করে বিশেষ ধরনের এসেন্স ব্যবহার করা হয়। অবশ্য এসেন্সের পরিবর্তে কোনও সিরাম ব্যবহার করলেও চলবে। ত্বকে বিশেষ কোনও সমস্যা থাকলে সেই অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট বাম বা ক্যাপসুল ব্যবহার করা হয় এরপর। তারপর পালা ফেস মাস্কের। এই স্কিনকেয়ারের শেষ তিনটি ধাপ হল আন্ডার-আই ক্রিম, ময়শ্চারাইজ়ার এবং সানস্ক্রিন। প্রতিদিনই এই দশটা স্টেপ মেনে চলতে হবে। মানছি এই রুটিন বেশ সময়সাপেক্ষ। তবে মেনে চলতে পারলে এক সপ্তাহেই দেখবেন ত্বকের ভোল পাল্টে গেছে।

রূপচর্চার এত লম্বা লিস্ট পড়ে ঘাবড়ে যাবেন না। জানি, অনেকের পক্ষেই হয়তো এতটা সময় ধরে ত্বকের যত্ন নেওয়া সম্ভব নয়। ভাববেন না যে তাঁদের জন্য কোনও টিপসই নেই। এবারে শুধু তাঁদের কথাই বলব। ধরুন যাঁরা প্রতিদিন এতটা সময় দিতে না পারলেও ব্যস্ত রুটিন থেকে অন্তত দশ মিনিট বের করতে পারবেন, তাঁদের জন্য আদর্শ হল অয়েল মাসাজ। ত্বকে চটজলদি জেল্লা আনতে ফেশিয়াল মাসাজ খুব ভাল এবং সহজ একটি পদ্ধতি। এতে ত্বকে রক্ত চলাচল বাড়ে। ফলে ত্বক অনেক বেশি প্রাণবন্ত এবং জেল্লাদার দেখায়। তবে এক্ষেত্রে নারকেল তেল বা সরষের তেল ব্যবহার না করাই ভাল। এই জাতীয় তেল বেশ ভারি হয় এবং তা ত্বকের রন্ধ্রের মুখ বন্ধ করে অ্যাকনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ফেশিয়াল মাসাজের জন্য সবসময় হালকা কেরিয়ার অয়েল ব্যবহার করুন। মোরিঙ্গা অয়েল, ভিটামিন-ই অয়েল, জোজোবা অয়েল, আমন্ড অয়েল ইত্যাদি মাসাজের জন্য আদর্শ। কয়েক ফোঁটা তেল হাতে নিয়ে তালুতে ঘষে নিন। এবার তা মুখে মাসাজ করুন। সবসময় আপওয়র্ড স্ট্রোকে মাসাজ করবেন। খুব জোরে ঘষবেন না। চোখের তলা, গাল ইত্যাদি অংশে আলতো করে চাপ দিয়ে মাসাজ করুন। প্রতিদিন মোটামুটি দশ মিনিট ফেশিয়াল মাসাজ করলেই দেখবেন ত্বক আগের থেকে অনেক বেশি কোমল এবং মসৃণ দেখাচ্ছে।

ইন্সট্যান্ট জেল্লার জন্য

এবার আসি তাঁদের প্রসঙ্গে, যাঁরা সাপ্তাহিক রূপচর্চায় বিশ্বাসী। এই ধরনের লোকের সংখ্যাই কিন্তু আজকাল বেশি। পাঁচ মিনিটে ত্বকের জেল্লা বাড়ানো গেলে, আর দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিশ্রম করতে যাবেন কেন! ত্বকে ইন্সট্যান্ট জেল্লা আনতে একাধিক ফেস প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। তবে নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিলে যে ফলটা পাবেন, তা কিন্ত কখনই এই ইন্সট্যান্ট প্যাকে আসবে না। বলাই বাহুল্য তা দীর্ঘস্থায়ীও হবে না। তবে সময়ের অভাব থাকলে উপায় তো আর কিছু নেই। ১০টি সহজ রেসিপি শিখিয়ে দিচ্ছি। নিয়মিত এই প্যাকগুলো ব্যবহার করলে সার্বিকভাবে ত্বকের উপকারই হবে। চলুন ত্বকে ইনস্ট্যান্ট জেল্লা আনার রেসিপিগুলো শিখে নেওয়া যাক।

হলুদ: আধ চা-চামচ হলুদগুঁড়ো এবং ৪ চা-চামচ বেসন পরিমাণমতো দুধ দিয়ে গুলে ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। মুখে এবং গলায় এই প্যাক লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। হলুদে ত্বকের উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এই প্যাক ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করবে। সপ্তাহে দু’বার এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে পারেন।

গাজর: গাজর ঝিরি ঝিরি করে কেটে রস বের করে নিন। এতে অল্প মধু এবং সামান্য টকদই মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারেন। ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। গাজরে থাকে ভিটামিন এ যা ত্বক টানটান রাখতে সাহায্য করে। ফলে ত্বক মসৃণ থাকে। সপ্তাহে একবার এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করলেই যথেষ্ট। একবার ব্যবহার করলেই দেখবেন ত্বক উজ্জ্বল দেখাচ্ছে।

অ্যালোভেরা: ত্বক নরম থাকলে এবং ত্বকে আর্দ্রতার পরিমাণ সঠিক থাকলে ত্বক এমনিতেই স্বাস্থ্যোজ্জ্বল দেখাবে। আর এই দুইয়ের জন্যই অ্যালোভেরা মোক্ষম দাওয়াই। ১ টেবলচামচ অ্যালোভেরা জেল, ১ চা-চামচ মধু এবং ১ চা-চামচ দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে মিখে লাগান। ২০ মিনিট রেখে ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

বেকিং সোডা: ১ চা-চামচ বেকিং সোডা, ১ চা-চামচ মধু এবং আধ চা-চামচ অলিভ অয়েল একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে এবং ত্বকের পিএইচ লেভেল সঠিক রাখতে বেকিং সোডা অব্যর্থ। ১০ মিনিট এই প্যাক মুখে লাগিয়ে রেখে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে নিলেই পার্থক্য দেখতে পাবেন।

পাতিলেবু: পাতিলেবু ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করে ত্বককে পরিষ্কার রাখে এবং ট্যানও দূর করে। ফলস্বরূপ ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি পায়। ১ চা-চামচ পাতিলেবুর রস এবং ১ চা-চামচ চিনি মিশিয়ে সার্কুলার মোশনে ত্বকে মাসাজ করুন। খুব আলতোভাবে মাসাজ করবেন। চিনি গলে গেলে জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। ত্বক উজ্জ্বল এবং দীপ্তিময় দেখাবে।

পেঁপে: ভিটামিন এ এবং সি-এর অন্যতম প্রধান উৎস পেঁপে। পেঁপেতে রয়েছে বিএইচএ যা ত্বকের মৃত কোষ দূর করতেও সাহায্য করে। ১ টেবলচামচ পাকা পেঁপের ক্বাথের সঙ্গে ২ চা-চামচ শসার রস এবং অর্ধেকট কলা চটকে মিশিয়ে মুখে লাগান। আধঘণ্টা রেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকে চটজলদি জেল্লা আনতে এই প্যাক দারুণ কার্যকরী।

গ্রিন টি: শরীরের টক্সিন দূর করতে যেমন গ্রিন টি উপকারী, তেমনই ত্বকের টক্সিন দূর করে ত্বক ভেতর থেকে পরিষ্কার করতেও গ্রিন টি-র জুড়ি মেলা ভার। ১ কাপ জলে ২ চা-চামচ গ্রিন টি দিয়ে ফুটিয়ে ছেঁকে নিন। ২ চা-চামচ এই গ্রিন টি লিকারে ১ চা-চামচ ব্রাউন শুগার এবং আধ চা-চামচ ক্রিম মিশিয়ে মুখে লাগান। সার্কুলার মোশনে ঘষে ১০ মিনিট পর ঠান্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।

গোলাপজল: ত্বকে উজ্জ্বলতা আনতে গোলাপজলের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। এটি ত্বকে আর্দ্রতাও সঠিক রাখতে সাহায্য করে। টাটকা গোলাপজল আধঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন। এতে তুলো ডুবিয়ে মুখে চেপে চেপে লাগান। প্রতিদিন সকাল এবং সন্ধেতে গোলাপজল ব্যবহার করতে পারেন। অথবা গোলাপজলের আইসকিউব বানিয়ে তাও ব্যবহার করতে পারেন। ভাল ফল পাবেন।

কেশর: উজ্জ্বল, লাবণ্যময় ত্বকের জন্য কেশরও খুব ভাল উপাদান। এতেও ত্বকে নিমেষে জেল্লা আসে। ১ টেবলচামচ মধুতে কয়েকটা কেশর ফেলে রাখুন কিছক্ষণ। এই মিশ্রণ মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। ভাল ফল পেতে এই প্যাক সপ্তাহে তিন-চারবার ব্যবহার করতে পারেন।

কমলালেবুর খোসা: স্ক্রাব হিসেবে তো কমলালেবুর খোসার জবাব নেই। তবে ভিটামিন সি-তে পূর্ণ থাকায় ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতেও কমলালেবুর খোসা কার্যকরী। ১ চা-চামচ কমলালেবুর খোসা গুঁড়োর সঙ্গে ১ চা-চামচ গোলাপজল মিশিয়ে স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। উপকার

facebook
facebook