Beauty tips
Sananda fashion

কিচেন কসমেটিক্স

নিম, মধু, কিংবা হলুদ দৈনন্দিন রান্নার অতি সাধারণ উপকরণ হলেও এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে সুন্দর থাকার যাদুমন্ত্র। সুন্দর থাকার এই ঘরোয়া উপায়কে আবিষ্কার করুন নতুনভাবে।

টিভি বা বিউটি ম্যাগাজ়িনের পাতায় নানা কোম্পানির বিউটি প্রডাক্টের বিজ্ঞাপন দেখে আপনি হয়তো কনফিউজ়ড। কিছু কিছু হয়তো ব্যবহারও করেছেন কিন্তু কাঙ্খিত ফল পাননি। আপনার সাহায্যে এবার রইল রান্নার বিভিন্ন উরকরণ দিয়ে ঘরোয়া রূপচর্চা। এরজন্য বিশেষ কিছু প্রয়োজন নেই। আপনার রান্নাঘরে উঁকি দিলেই পেয়ে যাবেন সব উপকরণ। আর সময়ও বেশি লাগবে না। আর সবচেয়ে সুবিধা ঘরোয়া টোটকায় পাশ্বর্প্রতিক্রিয়ার ভয় নেই, হাতের কাছে সহজে পাওয়া যায়, খরচও নেই বললেই চলে। আর এই ঘরোয়া উপকরণ দিয়ে হয়ে যেতে পারে কমপ্লিট মেকওভার। হ্যাঁ ঠিকই বলছি আমাদের মা- ঠাকুমাদের কথাই ভাবুন না। তখন তো কসমেটিক্সের এত রমরমা ছিল না। ভরসা ছিল ঘরোয়া উপকরণই। স্নানের আগে দুধের সর, ময়দা, হলুদ মাখতেন মায়েরা। এই ছিল তখনকার স্ক্রাবার। আর তাতেই হয়ে উঠতেন রূপসী। চুল পরিষ্কার, সুন্দর রাখতেও কোনও কেমিকাল নয়, ভরসা করতেন আমলকী, রিঠার মতো উপকরণের উপর। ভাবুন তো নিছক কিছু ঘরোয়া উপাদানের সৌজন্যেই এক একজন হয়ে উঠতেন পেলব ত্বক, রেশমি চুলের অধিকারী। আজও কিন্তু অনায়াসে এই ম্যাজিক ক্রিয়েট করা যায়। ত্বক বা চুলের হাজারও সমস্যায় এগুলোই ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এই যেমন ধরুন কলা। জানেন কী কনুইয়ের কালো দাগ দূর করতে পাকা কলা আর তেঁতুল কী দারুণ কাজ করে! কিংবা রসুন। রান্নার স্বাদ বাড়াতে শুধু নয়, ব্রণ সারাতেও খুব উপকারী। আবার সানট্যানের সমস্যা দূর করতে হলুদবাটা অবর্থ। হাজারও ব্র্যান্ডেড প্রডাক্ট যা করতে পারেনি, সামান্য টক দই, হলুদগুঁড়ো সেই অসাধ্য সাধন করতে সক্ষম। তবে হ্যঁা, প্রত্যেকের সমস্যা তো আর এক হয় না, তাই চাই আলাদা আলাদা সমাধান। আসলে পুরো ব্যাপারটাই নির্ভর করে পারফেক্ট কম্বিনেশনের ওপর। আসুন দেখে নিই কীভাবে রান্নাঘরের এই সামান্য উপকরণের সাহায্যে হয়ে উঠবেন পিকচার পারফেক্ট।

হলুদ

রূপচর্চার অন্যতম উপাদান হিসাবে প্রাচীনকাল থেকেই হলুদের কদর রয়েছে। সানট্যান দূর করতেও হলুদ খুব উপকারি। স্নানের আগে টক দই ও কাঁচা হলুদবাটা মিশিয়ে একটা প্যাক তৈরি করে শরীরের এক্সপোসড অংশে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে স্নান করে নিন। নিয়মিত মাখলে সানট্যানের সমস্যা অনেক কমে যাবে। হলুদে আছে অ্যান্টি-এজিং প্রপার্টি। বলিরেখা দূর করতে দুধের সরের সঙ্গে হলুদেরগুঁড়ো মিশিয়ে মুখে ও গলায় লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন ধীরে ধীরে বলিরেখার সমস্যা কমে গেছে। কাঁচা হলুদবাটা, বেসন, চালেরগুঁড়ো, টক দই মিশিয়ে বাড়িতে স্ক্রাবার তৈরি করে ফেলতে পারেন। সপ্তাহে তিনদিন মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে হালকা হাতে সার্কুলার মুভমেন্টে ঘষে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ হবে। ব্রণ বা ফোড়ার দাগ দূর করতেও হলুদ ভীষণ কার্যকর। কাঁচা হলুদ ও নিমপাতাবাটা মিশিয়ে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন দাগ আস্তে আস্তে উধাও হয়ে যাবে। হলুদ অ্যান্টিসেপটিক হিসেবেও দারুণ। যাদের ত্বক সেনসিটিভ বা অ্যালর্জিপ্রবণ, তাদের জন্য হলুদ খুব উপকারি। হলুদ জলে স্নান করলে র্যাশের সমস্যা অনেকটাই কমে যায়।

নিমপাতা

নিমপাতা অ্যান্টিসেপটিক হিসাবে দারুণ। কয়েকটা নিমপাতা জলে ফুটিয়ে ছেঁকে নিয়ে সেই জল দিয়ে স্নান করুন। এতে ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন বা র্যাশ হবে না। ব্রণ, ফুসকুড়ি বা ফানগাল ইনফেকশনে নিমপাতা বেটে লাগান, উপকার পাবেন। শুধু তাই নয় নিমপাতা মুখের ডার্ক স্পট কমাতে সাহায্য করে। নিমপাতা ও হলুদবাটা একসঙ্গে মিশিয়ে ডার্ক স্পটের ওপর লাগান। নিয়মিত লাগালে ডার্ক স্পট কমে যাবে। অনেকের স্ক্যাল্পে ফুসকুড়ি বা র্যাশ বেরয়। এর থেকে রেহাই পেতে নিমজলে চুল ধুয়ে নিন। দু’মুঠো নিমপাতা এক লিটার জলে ভাল করে ফুটিয়ে নিন। ঠান্ডা করে সারা রাত রেখে দিন। পরের দিন ছেঁকে নিয়ে এই জল দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। র্যাশ হওয়ার প্রবণতা কমে যাবে।

পুদিনাপাতা

পুদিনাপাতায় আছে ম্যাঙ্গানিজ়, ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি। তাই ত্বকের পক্ষে খুবই উপকারি। পুদিনাপাতা ও গোলাপের পাপড়ি একসঙ্গে জলে মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। ঠান্ডা হলে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে ছেঁকে নিয়ে বোতলে ভরে ফ্রিজে রাখুন। স্নানের পরে সারা শরীরে লাগিয়ে নিন। ঘাম কম হবে। সানট্যানের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পুদিনাপাতা বেটে লাগান। ত্বকের কালো ছোপ কয়েকদিনের মধ্যে দূর হয়ে যাবে। শুধু ত্বকের জন্যই নয়, চুলের জন্যও পুদিনাপাতা খুব ভাল। নারকেল তেল বা আমন্ড অয়েলের সঙ্গে পুদিনাপাতার রস মিশিয়ে চুলের গোড়ায় নিয়মিত লাগান। চুল গোড়া থেকে মজবুত হবে।

ধনেপাতা

ধনেপাতা রান্নায় স্বাদ তো বাড়ায়ই, রূপচর্চায়ও কিছু কম যায় না। ধনেপাতায় ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফসফরাস, ক্লোরিন আছে। তাই প্রাকৃতিক ব্লিচ হিসাবে খুব কাযর্কর। বিশেষ করে যাঁদের ঠোঁট অপেক্ষাকৃত কালো তাঁদের জন্য ধনেপাতা খুব উপকারি। রোজ রাতে শুতে যাওয়ার আগে ঠোঁটে ধনেপাতার রস ও দুধের সর একসঙ্গে মিশিয়ে লাগান। একমাস ধরে লাগালে ঠোঁটের কালোভাব দূর হয়ে যাবে। ঠোঁট কোমল হবে।

তিল

ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে পারে তিল। একমুঠো তিল গুঁড়ো করে আধকাপ জলে দু’ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন। জল ছেঁকে নিয়ে একটা বোতলে ভরে রেখে দিন। মুখ ধোওয়ার জন্য এই জল ব্যবহার করুন। মুখের দাগছোপ ম্যাজিকের মতো উধাও হয়ে যাবে। ত্বকের জেল্লাও ফিরে আসবে। মুখে অবাঞ্ছিত লোম থাকলে তিল তেল, হলুদগুঁড়ো ও আটা মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করে মুখে লাগান। ১০ মিনিট পর ভিজে তুলো দিয়ে মুছে নিন। মিয়মিত করলে ফেশিয়াল হেয়ারগ্রোথ কমে যাবে। শুধু তাই নয় সানবার্ন সারাতেও তিলের তেল খুবই উপকারী।

আমলকি

ত্বক ও চুল ভাল রাখতে আর জেল্লা বাড়াতে আমলকির কোনও বিকল্প নেই। প্রতিদিন ঠান্ডা দুধে তুলো ভিজিয়ে মুখ মুছে নিন। তারপর আমলকির রস মুখে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে জল দিয়ে ধুয়ে নিন। ত্বক উজ্জ্বল হবে। আমলকি চুলের জন্যও খুব উপকারি। শুকনো আমলকি দুধে তিন-চার ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন। নরম হলে বেটে চুলের গোড়ায় হালকা হাতে ঘষে ঘষে লাগিয়ে নিন। একঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে নিন। চুল চকচক ও মজবুত হবে।

রসুন

রসুন যে শুধু রান্নার স্বাদ বাড়ায় তাই নয় ত্বক সুন্দর রাখতেও দারুণ উপযোগী। তৈলাক্ত ত্বকে অনেকসময় অ্যাকনের সমস্যা দেখা যায়। রসুন থেঁতো করে অ্যাকনের ওপরে লাগান। ১৫ মিনিট পর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। অ্যাকনে দূর হয়ে যাবে। ব্রণর সমস্যা থেকেও মুক্তি দিতে রসুন সিদ্ধহস্ত। রসুনের কোয়া বেটে ব্রণর উপর লাগিয়ে নিন। একঘন্টা পর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে নিন। ব্রণ আস্তে আস্তে কমে যাবে। পায়ে কড়া পরলে, রসুন থেঁতো করে লাগাতে পারেন। উপকার পাবেন।

মেথি

মেথি চুলের জন্য খুব ভাল। মেথি, আমলা, শিকাকাই ও রিঠা গুঁড়ো করে দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। স্ক্যাল্পে ও চুলে লাগিয়ে নিন। আধঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। চুলের গোড়া মজবুত হবে, চুল পড়াও কমবে। দু’-টেবলচামচ মেথি গুঁড়ো করে ৪ কাপ জলে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন চুল ধোওয়ার জন্যে এই জল ব্যবহার করুন। চুল ভাল হবে, খুশকির সমস্যাও কমবে।

গোটা ধনে

অ্যাকনের সমস্যা কমাতে ধনে খুব উপকারি। গোটা ধনে বেটে অ্যাকনের উপর লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে জল দিয়ে ধুয়ে নিন, অ্যাকনে নিয়ন্ত্রনে থাকবে।

মধু

ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে মধু খুব উপকারি। ১/২ চা-চামচ মধুর সঙ্গে দু’চা-চামচ গোলাপজল ও সামান্য দুধের সর মিশিয়ে সারা মুখে (ঠোঁট ও চোখের চারপাশে) লাগিয়ে নিন। ১০ মিনিট রেখে জল দিয়ে ধুয়ে নিন। মধু ত্বকের ভেতর থেকে পুষ্টি যোগাবে, ত্বকের শুষ্কতা দূর হবে। ত্বক উজ্জ্বল হবে। ব্ল্যাকহেডস দূর করতে ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে ওটমিল ও মধু মিশিয়ে লাগান। শুকিয়ে গেলে ঈষদুষ্ণ জলে ধুয়ে ফেলুন। কয়েকটা বাদাম জলে ভিজিয়ে রেখে বেটে নিন। এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। ২০ মিনিট রেখে জল দিয়ে ধুয়ে নিন। ত্বক উজ্জ্বল হবে। ত্বকের খসখসেভাব কমাতে মধু, টক দই, ওটমিল, লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগান। কিছুক্ষণ পর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। বলিরেখা বা সূক্ষ্ম রেখার সমস্যা কমাতে আপেল কোরা, ১ চা-চামচ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। দারুণ কাজে দেবে।

ওটমিল

শুধু শরীরের শরীরের জন্য ত্বকের যত্নে ওটমিল খুব ভাল। এক টেবলচামচ ওটমিল ৩ চা-চামচ দই ও এক চা-চামচ মধু একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ওটমিল আপনার ত্বককে এক্সফোলিয়েট করতে সাহায্য করবে, ত্বক হয়ে উঠবে মসৃণ, কোমল ও তরতাজা হবে।

আলু

জাননে কি ত্বকের জেল্লা বাড়াতে আলু স্ক্রাবার হিসেবে দারুণ কাজ করে। আলু থেেঁতা করে সামান্য অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটা ঘন পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগিয়ে নিন। আধশুকনো হলে ভিজে হাতে সাকুর্লার মুভমেন্টে ঘষে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের কালোদাগ ছোপ দূর হবে, জেল্লা বাড়বে।

শসা

শসাতে ভিটামিন সি ও সিলিকা আছে যা ত্বকের পক্ষে খুব উপকারি। ডার্ক সার্কেলের সমস্যা থাকলে শসা কুরে শসার রস চোখের চারপাশে লাগাল। শুকিয়ে গেলে ভিজে তুলো দিয়ে মুছে নিন। নিয়মিত কিছুদিন করলে ডার্ক সার্কেলের সমস্যা কমবে।

কলা

ঘরোয়া ফেস মাস্ক তৈরির জন্য কলা খুব ভাল। একটা পাকা কলা ভাল করে চটকে নিয়ে এক টেবলচামচ মধি মিশিয়ে মুখে ও গলায় লাগিয়ে নিন।শুকিয়ে গেলে ভিজে হাতে সার্কুলার মুভমেন্টে ঘষে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কলা ও মধু ত্বককে ময়েশ্চারাইজ় করবে। ত্বকের জেল্লাও আগের চেয়ে বাড়বে।

facebook
facebook