Beauty tips
Sananda fashion

দশ মিনিটে রূপচর্চা

রূপচর্চা মানেই একগাদা জিনিস মুখে বা চুলে মেখে ঘণ্টাখানেকের অপেক্ষা। কে বলেছে? হাতে মাত্র দশ মিনিট রাখলেই যথেষ্ট! চুল বা ত্বকের যত্ন থেকে মেক-আপ টিপস— দশ মিনিটে তৈরি আপনি।

সকাল সকাল ঘড়ির দিকে চাইতেই চক্ষু চড়কগাছ! ঘড়ির কাঁটা পৌনে দশটা ছুঁই ছুঁই। এখন স্নান সেরে, পেটে কিছু পুরতে না পুরতেই আবার ছুটতে হবে দৈনন্দিন রুটিনে। আবার সব কাজ সেরে রাত আটটার সময়ই বা কার ইচ্ছে করে মুখে দুধ আর মধু মাখতে? তবে একটু যত্ন না নিলেও তো নয়। অনুষ্ঠানেরও শেষ নেই, তার ওপর আবার পুজো প্রায় দোড় গোড়ায়। আর ত্বক আর চুলের সাধারণ সমস্যা তো লেগেই আছে। আজ অ্যাকনে তো কাল চুল পড়ার সমস্যা। আবার রাস্তাঘাটে বেরলে অল্পবিস্তর সাজগোজ না করলেও নয়। কিন্তু ঘড়ি? সে তো আর কারওর বারণ শোনে না। নিজের গতিতে ধাবমান। সুতরাং রূপচর্চা, সোজগোজ আর সময়— এই তিনটিকে একই সরলরেখায় কিছুতেই আনতে পারছেন না। কপালে ভাঁজ পড়েছে তো? না না, চিন্তা করবেন না। সমস্যা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করে আর সময় নষ্ট করব না, এমনিতেই তার বড়ই অভাব। চলুন, বরং সমাধানের দিকে নজর দিই। হেডলাইন পড়ে নিশ্চয়ই ভাবছেন, হয় দশ মিনিট শুধু কথার কথা, না হয় সেই পুরনো কাসুন্দিই আরও একবার ঘাটব। প্রথমেই বলব দশ মিনিট কিন্তু খুব একটা কম সময় নয়। ভেবে দেখুন, প্রতিদিন যখন মুখ পরিষ্কার করেন, ঠিক কতক্ষণ সময় ব্যয় করেন? বড় জোর ২-৩মিনিট। শ্যাম্পু করতেও সেই মেরে কেটে ৫ মিনিট। মানে হাতে রইল আরও ৫-৭ মিনিট সময়। এই অতিরিক্ত সময়টুকু বিউটি রুটিনে যোগ করুন না। তবে শুধু দশ মিনিট দিলেই হবে না। পুরো সময়টাকে ভালভাবে ব্যবহারও করতে হবে। আজ সেই পরামর্শই দেব। তবে হ্যাঁ, ত্বক, চুলের যত্ন এবং মেক-আপ পুরোটা দশ মিনিটে সম্ভব নয়। প্রতিটা ক্ষেত্রে অন্তত ১০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখতে হবে। আর প্রতিদিন তো চুলে শ্যাম্পু করেন না, তেমনই প্রতিদিন মুখে প্যাকও লাগাবেন না। সুতরাং মিলিয়ে মিশিয়ে করলে দশ মিনিটেই পর্যাপ্ত যত্ন নিতে পারবেন।

ত্বকের যত্ন

একেবারে প্রাথমিক যত্ন থেকে শুরু করা যাক। ক্লেনজ়িং, টোনিং এবং ময়শ্চারাইজ়িং। দশ মিনিটের অনেক কম সময়েই কিন্তু এই রুটিন কমপ্লিট করে ফেলতে পারেন। তবে কিছু কথা মাথায় রাখুন। সামান্য ফেসওয়াশ জেল হাতে নিয়ে তাতে সামান্য জল মিশিয়ে ভালভাবে ঘষে মুখে লাগিয়ে অন্তত ২ মিনিট মাসাজ করুন। এরপর পুরো এক মিনিট ধরে মুখে ঈষদুষ্ণ জলের ঝাপটা দিন। সপ্তাহে দু’দিন স্ক্রাবিং করুন। এক্ষেত্রে আগে মুখ পরিষ্কার করে তারপর স্ক্রাবার মুখে লাগিয়ে ২ মিনিট মতো ঘষুন। এরপর ধুয়ে নিন। মাঝে মাঝে লেবুর রস, মধু এবং বেকিং সোডা মিশিয়ে স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। মুখ পরিষ্কার করে টোনার লাগান। আঙুল দিয়ে ২ মিনিট ধরে মাসাজ করে নিন। এরপর ময়শ্চারাইজ়ারের পালা। অল্প ময়শ্চারাইজ়ার নিয়ে মুখে এবং গলায় ১ মিনিট মাসাজ করুন। তবে শুধু বেসিক কেয়ার নিলেই তো সবসময় হয় না। ত্বকের জেল্লা বাড়াতে অথবা বিশেষ কোনও সমস্যায় কিছু অতিরিক্ত যত্নও নেওয়া প্রয়োজন। না না, অতিরিক্ত সময় লাগবে না। বেসিক রুটিনের পর হাতে যে ৫ মিনিট থাকবে, সেটাই যথেষ্ট।

অল্প গরম জলে ৩ টেবলচামচ চিনি গুলে সেই জল মুখে লাগিয়ে রাখুন ৩ মিনিট। এরপর আঙুলের সাহায্যে পুরো মুখ মাসাজ করে নিন। চিনি ত্বক নরম করতে এবং ত্বকের সমস্ত অশুদ্ধি দূর করতে সাহায্য করবে।

চটজলদি জেল্লা চাইলে সামান্য ঠান্ডা দুধে হলুদগুঁড়ো মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে মুখে লাগান। ৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

রোদে পোড়া ত্বকের জন্য বেসন এবং টকদই একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন। ৫মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

ত্বক টানটান রাখতে চাইলে ডিমের সাদা অংশ ফেটিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন ৫ মিনিট। এরপর মুখ ধুয়ে নিন।

অ্যাকনে থেকে মুক্তি পেতে চাইলে পরিষ্কার মুখে সামান্য আলুর রস এবং দারচিনিগুঁড়ো মিশিয়ে লাগিয়ে রাখুন। ৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

চুলের যত্ন

দশ মিনিটে চুলেরও কিন্তু পর্যাপ্ত যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সপ্তাহে শ্যাম্পু করার জন্য ২ দিন রাখুন। শ্যাম্পু করার ক্ষেত্রে প্রতিবার দু’বার করুন এবং শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার এবং হেয়ার সিরামও কিন্তু মাস্ট। তবে বাকি ৫ দিন শ্যাম্পুর পরিবর্তে বিশেষ কিছু যত্ন নিতে পারেন। যেহেতু প্যাক খুব বেশিক্ষণ লাগিয়ে রাখবেন না, তাই প্যাক লাগানোর পর শ্যাম্পু করারও প্রয়োজন নেই।

চুল ধোওয়ার জলে অল্প ভিনিগার মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে চুল চকচকে হবে।

চায়ের লিকার অথবা বিয়ার দিয়ে চুল ধুয়ে সাধারণ জল দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। চুল নরমও হবে এবং কালো ও চকচকেও হবে।

রুক্ষতা কমাতে মধু এবং পাকা কলা চটকে চুলে লাগাতে পারেন। ৭-৮ মিনিট রাখলেই হবে। এরপর চুল ভাল করে ধুয়ে নিন। শ্যাম্পু করার প্রয়োজন নেই।

ডগা চেরার সমস্যায় পাকা পেঁপে এবং টকদই পেস্ট করে চুলে লাগান। ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

চুল পড়া কমাতে একটা ডিমের সাদা, ২ টেবলচামচ বেসন, ১/২ চামচ লেবুর রস এবং এক টেবলচামচ টকদই মিশিয়ে চুলে লাগান। ৫-৭ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

খুশকির সমস্যায় লেবুর রস অল্প জলে মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগান। এটা প্রতিদিন করতে পারেন। ৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। উপকার পাবেন।

দশ মিনিটে মেক-আপ

এ যেন প্রতিদিনের সমস্যা! বাইরে বেরলে একটু সাজগোজ না করলেই নয়। অথচ সময়ের বড্ড অভাব! কী মাখবেন, কোন স্টেপটা এড়িয়ে গেলেও অসুবিধে নেই, এটা বুঝে গেলেই আর চিন্তা করতে হবে না। দশ মিনিট মেক-আপ করার জন্যও কিন্তু অঢেল সময়। রইল চটজলদি মেক-আপ করার টিপস।

দিনেরবেলা বাইরে বেরলে সানস্ক্রিন মাস্ট। তবে সানস্ক্রিন মেখেই সঙ্গে সঙ্গে মুখে কিছু মাখবেন না। অন্তত দু’-এক মিনিট সময় দিন যাতে সানস্ক্রিন ত্বকের সঙ্গে মিশতে পারে। এরপর বেস মেক-আপ করুন। প্রতিদিনের মেক-আপের ক্ষেত্রে ভারি ফাউন্ডেশন ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। শুধু কমপ্লেকশন ইভন থাকলেই হবে। বি বি ক্রিম এর জন্য আদর্শ। অল্প বি বি ক্রিম নিয়ে পুরো মুখে ভালভাবে মিশিয়ে নিন। এবার কমপ্যাক্ট বুলিয়ে নিন। প্রতিদিনের মেক-আপ করার ক্ষেত্রে আরও একটা বিষয় মাথায় রাখবেন যে, অতিরিক্ত মেক-আপ করার কোনও প্রয়োজন নেই। শুধু নিজের মুখের বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটিয়ে তোলাই উদ্দেশ্য। তাই চোখের মেক-আপের ক্ষেত্রে সামান্য কাজল বা লাইনার ব্যবহার করলেই যথেষ্ট। পছন্দ না হলে শুধু মাস্কারা ব্যবহার করুন। আই ব্রো শেপ করতে ভুলবেন না। ভাল লাগলে সামান্য কাজল নিয়ে ওপরের পাতায় স্মাজ করে দিতে পারেন। চোখ অনেকটা স্পষ্ট দেখাবে। এবার পছন্দের লিপস্টিক বা লিপ বাম লাগিয়ে নিন। আজকাল নানা রঙের লিপ বাম পাওয়া যায়। এতে লিপস্টিকের কাজও হয়। অথবা ম্যাট লিপস্টিক লাগাতে পারেন। ইনেকক্ষণ থাকবে এবং বার বার টাচ-আপেরও প্রয়োজন হবে না। এই ক’টা স্টেপই কিন্তু প্রতিদিনের মেক-আপের জন্য যথেষ্ট। অবশ্যই পছন্দের সুগন্ধীও ব্যবহার করবেন।

শুধু মেক-আপ তো নয়, হেয়ারস্টাইলও একটা সমস্যা। এমন প্রচুর হেয়ার স্টাইল রয়েছে যা নিমেশের মধ্যে করে ফেলা সম্ভব এবং দেখতেও পরিষ্কার লাগে। নানা রকমের পনিটেল বা বিনুনি ট্রাই করতে পারে। চুল খোলা রাখতে চাইলে, অল্প ব্লো-ড্রাই করে নিতে পারেন। চটজলদি চুলে বিচ ওয়েভ তৈরি করতে, চুল কয়েকটা ভাগে ভাগ করে একটা করে ভাগ পেঁচিয়ে নিন। এরপর পেঁচানো অবস্থাতেই স্ট্রোটনার অথবা ব্লো-ড্রায়ার ব্যবহার করুন। হেয়ার স্টাইল রেডি!
দেখলেন তো, দশ মিনিটে কত কিছু সম্ভব! শুধু সময়টাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করলেই দেখবেন দশ মিনিটেও ত্বক থেকে চুল— সবই কেমন পালটে গেছে। যত্ন নেওয়ার ইচ্ছেটাই হল আসল। ফল পেতে শুরু করলে দেখবেন রোজের রুটিন থেকে দশ মিনিট সহজেই বেরিয়ে আসছে।

facebook
facebook