Diet
Sananda fashion

ওজন নিয়ে অবসেশন

মোটা-রোগাটা কোনও ফ্যাক্টরই নয়। আসল কথাটা ফিট থাকা। জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ ডায়েটিশিয়ান।

sananda

পুরনো ডেনিম তা কোমরের কাছে টাইট হচ্ছে দেখে নিশ্চয় মনে বেজায় দুঃখ। খালি হা হুতাশ করছেন যে, ইসস! যদি ১০ বছরের আগের চেহারাটা ফিরে পেতাম। ডায়েট, এক্সারসাইজ় কতই না কৃচ্ছ্রসাধন করেছেন তাও ওয়েয়িং মেশিনের কাঁটা আর ষাটের থেকে নীচে নামে না। কিন্তু ভেবে দেখুন তো ফিট থাকার মাপকাঠি কি শুধুই একটা মেশিন হতে পারে। তাও যদি সেটা একেবারে সঠিক হত তা হলেও বুঝতাম। মেট্রো স্টেশনের ওয়েয়িং মেশিন ৫০ কেজি দেখালে, ডাক্তারের চেম্বারে ৫৩ কেজি দেখায়। আবার বাড়িতে মাপলে দেখা যায় প্রায় ৫৭ ছুঁইছুঁই। তা হলেই বুঝুন, এমন একটা যন্ত্রকে বিশ্বাস করবেন না নিজের শরীরকে। এই যে ওয়েয়িং মেশিনের কাঁটা ওভারওয়েট বলছে বলেই খাওয়াদাওয়া ছেড়ে সারাদিন শশা খেয়ে বেঁচে থাকতে হবে কে বলেছে? আমি জানি যে আপনারা বলবেন যে কিছু তো একটা মাপকাঠি হওয়া উচিত। না হলে বুঝবেন কী করে রোগা হলেন না মোটা। আমার আপত্তিটা সেখানেই, মোটা-রোগাটা কোনও ফ্যাক্টরই নয়। আসল কথাটা ফিট থাকা। এই যে সারাক্ষণ মোটা হয়ে গেলাম, এই ভাবনাটাই তো অসুস্থ করার জন্য যথেষ্ট। এর মানে আপনি মোটেই নিজেকে ভালবাসেন না। মহিলাদের ছোট বেলা থেকেই শেখানো হয় সবার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করতে, কিন্তু নিজের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা উচিত সেটা মোটেও বলা হয় না। ফলে দিনের পর দিন আমরা শরীরের উপর অত্যাচার করি। কখনও অতিরিক্ত খেয়ে, কখনও না ঘুমিয়ে, কখনও আবার ক্র্যাশ ডায়েটিং করে। আর তারপর যখন শরীর বিদ্রোহ ঘোষণা করে তখনই কপালকে দোষারোপ করি। আপনি বাড়ির সবাইকে খুশি রাখার যেমন চেষ্টা করেন, তেমনই যদি একটু নিজের যত্ন নেন তা হলে দেখবেন শরীর এমনি ভাল থাকবে।

আচ্ছা একটা ছোট্ট উদাহরণ দিই। ধরে নিলাম জীবনে শাশুড়ির সঙ্গে আপনার ঝগড়া হয়নি, তার মানে কি আপনি আপনার শাশুড়িকে অত্যন্ত ভালবাসেন? নিশ্চয়ই না। ঠিক যেমন ঝগড়া না হওয়া ভালবাসার ইন্ডিকেটর নয়, তেমনই ওয়েয়িং মেশিনের নম্বর ফিটনেসের মাপকাঠি নয়। আপনি ফিট কি না সেটা আপনি উত্তর দিতে পারবেন। কয়েকটা প্রশ্ন করি আপনাদের—

সকালে যখন ঘুম থেকে ওঠেন ফ্রেশ লাগে?

আপনার খিদেখিদে ভাব কি কমেছে?

শরীর হালকা লাগে কি?

এক্সারসাইজ় করতে ইচ্ছে করে কি?

ব্রণ, দাগছোপ কমে গেছে?

বন্ধুবান্ধব, আত্ময়ীদের সঙ্গে দেখা করতে ইচ্ছে করছে?

নিজের জন্য কেনাকাটা করতে ইচ্ছে করছে?

এই সব ক’টা প্রশ্নের উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তা হলে বুঝবেন আপনি নিজের প্রতি যথেষ্ট যত্নশীল। আর ওজন কমাবার জন্য আপনাকে বেশি কিছু করতে হবে না। আর ওজন মেশিনের কোনও প্রয়োজন নেই। আপনার মাইন্ড রিল্যাক্সড থাকলে ফ্যাটি অ্যাসিড মোবিলাইজ়ড হয় এবং বডি ফ্যাট কমে। কিন্তু তাই বলে ভেবে নেবেন না যে দশ বছরের আগের চেহারাটা আপনি ফিরে পাবেন। বা হাই স্কুলের ডেনিমে অনায়াসে ঢুকে যাবেন। কারণ তখনকার পরিস্থিতি আর এখনকার পরিস্থিতির মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ। স্কুল বা কলেজে পড়ার সময়ে যা খেতেন বা যত অ্যাক্টিভ ছিলেন, তার সঙ্গে এখনকার সময় মেলানো মুশকিল। তখন আপনাকে বাড়ির দশটা লোকের খেয়াল রাখতে হত না। ঠিকমতো খাওয়া, ঘুম, এক্সারসাইজ়ের সুযোগ পেতেন। ফলে তখন কোমরের মাপ ২৬ ইঞ্চি থাকতেই পারে। কিন্তু এখন আপনার দায়িত্ব অনেক বেশি। ভেবেই দেখুন না তখনকার মতো ফুড হ্যাবিট কি আপনি তৈরি করতে পারবেন? জীবন থেকে স্ট্রেস পুরোপুরি কমাতে পারবেন? তা হলে কি করে আশা করেন সেই ২৬ ইঞ্চির কোমরটা ফেরত পাবেন। তবে এখানে কিন্তু বয়সের কোনও দোষ নেই। হতেই পারে আপনার বয়স এখন ৩৫ বা ৪০ ছুঁইছুঁই, কিন্তু তাই বলে আপনি মোটা ভ্যাদভ্যাদে হয়ে গেছেন তা কিন্তু নয়। বয়স কিন্তু আমাদের অনেক বেশি অভিজ্ঞ করে, ভাল-মন্দের বিচার করতে শেখায়। তাই আপনি এখন বেশি করে বুঝতে পারবেন আপনার কি করা উচিত, শরীরের কীভাবে যত্ন নেওয়া উচিত। আরও ভাল হয় যদি মনে করতে পারেন যে আপনার শরীরটা আপনার নয়, কেউ আপনাকে ভাড়া দিয়েছে। তাহলেই দেখবেন শরীর সম্পর্কে আপনি অনেক বেশি সচেতন হয়েছেন। আসলে আমরা কেউই নিজেদের জিনিসকে হেলাফেলা করি, টেকেন ফর গ্র্যান্টেড নিয়ে ফেলি। ব্যাপারটা অনেকটা নিজের গাড়ি আর বন্ধুর গাড়ি চালানোর মতো। বন্ধুর গাড়ি চালানোর সময় কিন্তু আপনি অনেক বেশি সচেতন থাকেন। শরীরকেও সেইভাবে ট্রিট করতে শিখুন। আর অন্যের শরীরকে নিশ্চয়ই আপনি বেশি খেয়ে, না খেয়ে, কাউচ পোট্যাটো হয়ে, অতিরিক্ত সিগারেট বা অ্যালকোহল খেয়ে নষ্ট করবেন না। ঠিক এই ভাবনা একবার মাথায় ঢুকিয়ে নিতে পারলেই দেখবেন ফিট থাকাটা কোনও ব্যপারই নয়। তখন নিজে থেকেই সময়ে খাবেন, সঠিক খাবেন। তা গলেই দেখবেন ফিট থাকাটা কোনও সমস্যাই নয়। কোমরের মাপও ৩২ ইঞ্চি থেকে কমে ২৮ হয়ে যাবে!

facebook
facebook