vvvv
Diet
Sananda fashion

ওভারইটিং অ্যান্ড ওভারইটিং থ্রেশহোল্ড

ওভারইটিং শুধুমাত্র বেশি পরিমাণে খাওয়া নয়, ভুল সময়ে অতিরিক্ত খাওয়া। বিশদে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ ডায়েটিশিয়ান।

sananda

আয়ুর্বেদ বলে যে কোনও রোগেরই মূলে আছে অতিরিক্ত খাওয়া। ভাবে দেখুন না, আমাদের প্রত্যেকের শরীরেরই তো নির্দিষ্ট একটা হজমশক্তি আছে। তার অতিরিক্ত যদি আমরা খেয়ে ফেলি, তা হলে শরীর তো খারাপ হবেই। তবে শুধু ভুলভাল খাওয়া বা বেশি খাওয়াই কিন্তু ওভারইটিংয়ের মূল বিষয় নয়। আগেই বলেছি মানুষের খাওয়ার ক্ষমতা বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে। বয়স, কাজের ধরন তো আছেই, এমনকী দিনের বিভিন্ন সময়ে এই হজমশক্তি প্রত্যেকের ক্ষেত্রে আলাদা আলদা হতে পারে। একটা সময় যদি পেটের হজম করার ক্ষমতা একেবারে তলানিতে থাকে, তা হলে একটুকরো আপেল খাওয়াও ক্ষতিকর হতে পারে। এটাই কিন্তু ওভারইটিং। তা হলে বুঝতেই পারছেন ওভারইটিং শুধুমাত্র বেশি পরিমাণে খাওয়া নয়, ভুল সময়ে অতিরিক্ত খাওয়া।

গল্পে আছে অগ্যস্ত মুনি নাকি একবারে পুরো সমুদ্র পান করে ফেলেছিলেন। আপনিও যা ইচ্ছে খেতে পারেন, যদি আপনার হজম করার শক্তি খুব ভাল হয়। মানে বলতে চাইছি, আপনার ডাইজেস্টিভ সিস্টেমকে একেবারে সুস্থ, সবল থাকতে হবে। আর সেটা তখনই সম্ভব যদি আপনি অনুশাসন মেনে চলেন। নিয়মিত এক্সারসাইজ়, সঠিক খাওয়াই এবং পজ়িটিভ চিন্তাভাবনাই ভাল থাকার মোক্ষম দওয়াই।

ওভারইটিং থ্রেশহোল্ড মেন্টেন আপনাকেই করতেই হবে। ইট ইজ় আ ভেরি থিন লাইন। সঠিক পরিমাণে খাওয়া আর অতিরিক্ত খাওয়ার মধ্যে ব্যবধান কিন্তু এক চামচ, এক গ্রাস হতে পারে। ব্যপারটা অনেকটা লক্ষণরেখার মতো। একবার পেরিয়ে গেলেই মুশকিল। ইন্দ্রিয়গুলো খুব শিথিল হয়ে যায়। ফলে ক্ষমতার চেয়ে পাঁচগুণ খাওয়া তখন অসম্ভব নয়। আর এতে শরীরের উপর কী প্রভাব পড়ে, সে তো নিশ্চয় বুঝতেই পারছেন। আর ওজন বাড়ার জন্যে যে অতিরিক্ত খাওয়া দায়ী সে তো আর আলাদা করে বলতে হবে না।

আসলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সব সময় রুটিন মেনে খাওয়া সম্ভব হয় না। হতেই পারে কোনও বন্ধুর বাড়িতে গেচেন কিংবা কোনও বিয়েবাড়িতে। সেখানে সব সময় মেপে মেপ খাওয়া যায় না। হয়তো বন্ধুর অনুরোধে একটা মিষ্টি বেশি খেয়ে ফেললেন কিংবা বাফেতে নানারকমের খাবার দেখে লোভ সামলাতে পারলেন না। আর তার মানে অজান্তেই লক্ষণরেখা পেরিয়ে গেলেন। আর ব্যাপারটা এত তাড়াতাড়ি ঘটে যায়, যে মাথা বুঝতেই পারে না। অনেকটা দূর্ঘটনার মতো। শুধু ক্ষতিটা পরে উপলব্ধি করা যায়।

এ ধরনের ডায়েট অ্যাক্সিডেন্ট এণাবার উপায় অবশ্য আছে। কাজুবরফি বা রসগোল্লা দেখলে খেতে ইচ্ছে করবে না তা তো হতে পারে না, কিন্তু জোর করেই নিজেকে এইসব খাওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে। অর্ধেক টুকরো খাব বা এক টুকরোর বেশি মুখে দেব না, এসব কথা কিন্তু কাজে আসবে না। কারণ একটু খেলেই পুরোটা খেতে ইচ্ছে করবে। আর সেখান থেকেই শুরু হবে ডাউনহিল জার্নি। সুতরাং গোড়াতেই সমস্যাকে নির্মূল করতে হবে, না হলে গন্ডগোল। এই যেমন বাড়িতে রেডি টু ফ্রাই খাবার বা মিষ্টি একেবারেই রাখবেন না। অনেক সময় বাড়িতে কেউ এলে মিষ্টি নিয়ে আসে। এক থেকে দু’টো খাওয়ার পর সেক্ষেত্রে বন্দুবান্ধব, কাজের মাসি কিংবা কেয়ারটেকারকে দিয়ে দিন। এইভাবেই কিন্তু অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যেসটা কমতে পারবেন।

আর তারপর তো কমফোর্ট ফুড আছেই। মানে সিনেমা দেখছেন, এক প্যাকেট পপকর্ন না হলেই নয়। পার্টিতে গিয়ে বোর হচ্ছেন, প্রন ককটেলই একমাত্র ভরসা। একই ভাত, ডাল, রুটি খেতে খেতে বিরক্ত, ফলে পিত্‌জ়া খেতে তো ইচ্ছে করবেই। এমনকী সেক্স লাইফ নিয়েও অখুশি, আরাম যেন শুধু পেস্ট্রিতেই। খাবার তো আর এন্টারটেনমেন্টের সূত্র নয়, শরীরের পুষ্টির জন্যে। সুতরাং সেভাবে খাবারকে দেখা বন্ধ করুন। কারণ এতে শরীরে শুধু ক্যালরি যোগ হয়, মন খারাপ বা বোরডম দূর হয় না। এই করেই বেশি খাওয়ার অভ্যেস তৈরি হয়ে যায়। সুতরাং নিজের মধ্যেই সচতনাতা গড়ে তুলতে হবে, যাতে ওভারইটিংয়ের ঘেরাটোপ থেকে আপনি বেরিয়ে আসতে পারেন।

facebook
facebook