vvvv
Diet
Sananda fashion

তেলের ভাল মন্দ

রিফাইনড অয়েল না অলিভ অয়েল, চিনি না আর্টিফিশিয়াল শুগার কোনটা বেশি স্বাস্থ্যকর? ঠিক বুঝতে পারছেন না? বিশেষজ্ঞের পরামর্শ।

sananda

আমি জানতে চাই অলিভ অয়েল না তিলতেল কোনটা শরীরের জন্য বেশি ভাল? এগুলো রোজকার ডায়েটে কি রাখা যেতে পারে? এগুলো সরষের তেল বা রিফাইনড অয়েলের চেয়ে ভাল?
মধুমিতা সাহা, যাদবপুর

অলিভ অয়েল ও তিলতেল, দু’ ধরনের তেলই মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিডের উত্স। এই দু’ধরনের তেলেই ‘ব্যাড ফ্যাট’-এর পরিমাণ অনেক কম, তাই শরীরের জন্য ভাল। তবে এগুলোতে যে গুড ফ্যাট থাকে, তা ভেবে নেবেন না। আসলে সব তেলেই ১০০% ফ্যাট থাকে। আর ফ্যাট যত কম পরিমাণে খাওয়া যায়, ততই স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল। তবে সরষের তেল বা রিফাইনড অয়েলের চেয়ে অলিভ, তিল, সোয়াবিন, রাইসব্রান অয়েলে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ অনেক কম। তেলে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি হলে তা শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে হার্টের নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। সাধারণ তেলের তুলনায় অলিভ অয়েল বা তিলতেলে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড বেশি পরিমাণে থাকে। ফলে এই তেল হার্টের জন্য ভাল। শুধু তাই নয়, এগুলো হার্টের অসুখ প্রতিরোধেও কার্যকর। তাই এক কথায় বলা যেতে পারে, সাধারণ তেলের চেয়ে অলিভ অয়েল বা তিলতেল অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। তাই রোজকার রান্নাতে এই তেল আপনি স্বচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করতে পারেন। তবে সরষের তেল হোক বা রিফাইনড অয়েল বা অলিভ অয়েল, কোনও তেলই অত্যধিক পরিমাণে ব্যবহার করা ভাল নয়। রান্নায় যতটা সম্ভব কম তেল ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

আমার বয়স ২৭ বছর। আমি সারাদিনে বেশ অনেক বার চা খাই। সাধারণত চিনি দিয়ে চা খাই। অনেকে বলছেন, চিনি দেওয়া চা খাওয়া একেবারেই ভাল নয়। এতে নাকি ওজন বেড়ে যায়। চিনির পরিবর্তে আমি কি শুগার ফ্রি ( যেগুলো বাজারে কিনতে পাওয়া যায়) ব্যবহার করতে পারি? দীর্ঘদিন ধরে এই আর্টিফিশিয়াল শুগার খেলে শরীরের কোনও ক্ষতি হবে না তো?
রুশা ঘোষ, ভবানীপুর

আর্টিফিশিয়াল শুগার আদৌ চিনির ভাল বিকল্প নয়। আমি তো বলব, কৃত্রিম কোনও কিছু না খাওয়াই ভাল। কারণ, প্রাকৃতিক খাবার আমরা যতটা সহজে হজম করতে পারি, কৃত্রিম কোনও খাবার হজম করতে একটু সমস্যা হয়। শুধু তাই নয়, কৃত্রিম খাবারের নানান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও থাকে। যেমন ধরুন, দীর্ঘদিন ধরে আর্টিফিশিয়াল শুগার খেলে মাইগ্রেন, মেমরি লস, বমি বমি ভাব, স্কিন র্যাশ, নার্ভাসনেস, হার্টবিট বেড়ে যাওয়ার মতো নানা সমস্যাও কিন্তু দেখা দিতে পারে। তাই যতটা সম্ভব কৃত্রিম জিনিস কম খান। আর আপনি তো দিনে বেশ কয়েকবার চা খান। একবার ভেবে দেখুন তো প্রতিকাপ চায়ে যদি দু’টো করে আর্টিফিশিয়াল শুগারের দানা খান, আর দিনে যদি অন্তত দু’বার করে চা খান। এভাবে যদি ক্রমাগত চলতে থাকে, তাহলে আজ থেকে ২৫- ৩০ বছর পরে কতটা কৃত্রিম জিনিস আপনার শরীরে যাচ্ছে। দেখুন, চায়ে চিনি খাওয়া মোটেও শরীরের জন্য খারাপ নয়। তবে যে কোনও খাবারই মাত্রাতিরিক্ত খেলে তা কিন্তু শরীরের ক্ষতি করতে পারে। আপনার যদি ওজন বেড়ে যাওয়ার সমস্যা থাকে, তাহলে চিনি ছাড়া চা খান। হ্যাঁ, প্রথম প্রথম হয়তো একটু অসুবিধে হবে। কিন্তু কিছুদিন খাবার পর দেখবেন, আপনার অভ্যেস হয়ে গেছে। চিনির পরিবর্তে আর্টিফিশিয়াল শুগার খাওয়ার কোনও দরকার নেই।

facebook
facebook