Swastha
x

মাথাব্যথার নিরাময়

মাইগ্রেন, সাইনাসের ব্যথা বা ব্রেন টিউমার—সবেতেই লক্ষণ কিন্তু মাথাব্যথা। সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ডা. বিশ্বজিৎ ঘোষ দস্তিদার।
- – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - -

মাথাব্যথা বিষয়টা সকলেরই কমবেশি হয়। তবে বাচ্চাদের মধ্যে মাথাব্যথার প্রবণতা তুলনায় কম। বয়স বাড়লে মাথাব্যথার ঘটনাও বাড়ে। তবে কোনও ধরনের মাথাব্যথাকেই অবহেলা করা উচিত নয়। পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যাবে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা টেনশনজনিত মাথাব্যথায় ভুগি। তবে যে কোনও মাথাব্যথাকে টেনশন হেডএক বলে ধরে নেবেন না।

কারণ

বাচ্চাদের মাথাব্যথা হলে ও তার সঙ্গে ব্যবহারগত পরিবতর্ন, বমি হওয়া ইত্যাদি সমস্যা থাকলে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। খুব কম ক্ষেত্রে হলেও, বাচ্চাদেরও ব্রেন টিউমার হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে চোখের কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। তাই, মাথাব্যথা হলে প্রাথমিকভাবে একবার চোখের পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভাল। যাঁদের সর্দিকাশির প্রবণতা বেশি, তাঁদের সাইনাসের কারণেও মাথাব্যথা হতে পারে। বারেবারে ঠান্ডা লাগলে বা অ্যালার্জির প্রবণতা থাকলে ও সঙ্গে প্রায়ই মাথাব্যথা হলে ডাক্তারের পরামর্শে সাইনাসের এক্স রে বা সি.টি স্ক্যান করতে পারেন। অনেকসময় সাইনাসের মধ্যে পুঁজ জমার ফলেও ক্রনিক মাথাব্যথা হতে পারে। সেক্ষেত্রে অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে। স্ট্রেস বা টেনশনের ফলে মাথাব্যথা হলে রিল্যাক্সেশন এক্সারসাইজ়ে কাজ হতে পারে। আবার কোনও জটিল সাইকলজিকাল সমস্যার ফলেও অ্যাংজ়াইটি হেডএক হতে পারে। বিষয়টি খুব গুরুতর হলে কাউন্সেলিংয়ের সাহায্য নিতে হতে পারে। মাইগ্রেনের ফলেও মাথাব্যথা হওয়া বেশ কমন। মাথার মধ্যে রক্তের স্প্যাজ়ম হলে মাইগ্রেনের সমস্যা হয়। কারওর কারওর ক্ষেত্রে এই স্প্যাজ়ম বেশি হয়। এর নির্দিষ্ট কারণ বোঝা মুশকিল। এর ফলে প্রায়ই মাথাব্যথা হয়। খুব অল্প ব্যথা থেকে শুরু হয়ে বাড়তে থাকে। মাথার একদিকে, চোখের পিছনে ব্যথা হয়। বমিভাব হয়। রোগী আলোয় থাকতে পছন্দ করেন না। কিছুক্ষণ পরে ব্যথা চলে যায়।

চিকিৎসা

প্রতিকারে দু’রকমের ওষুধ আছে: মাইগ্রেন প্রতিরোধে ওষুধ দেওয়া হতে পারে। এই ওষুধ নিয়মিত খেয়ে যেতে হয়। আবার মাইগ্রেন অ্যাটাকের সময় ওষুধ দেওয়া হয়। সবই ওরাল মেডিসিন। ওষুধের ডোজ় এক একজনের ক্ষেত্রে এক একরকমের হতে পারে। তবে মাইগ্রেন সেরে যায়। তবে মাইগ্রেন দীঘর্কালীন ভিত্তিতে (এমনকি দশ বছরও হতে পারে) ভোগায়। এমমিতে মাইগ্রেন থেকে কোনও জটিল সমস্যা না হলেও, খুব কম ক্ষেত্রে আর্টারিয়াল স্প্যাজ়ম এতটাই বেশি মাত্রায় হয় যে, সাময়িক স্ট্রোকের মতো অবস্থা হতে পারে। তবে বেশিরভাগ রোগীই মাইগ্রেনের সঙ্গে টেনশন হেডএক গুলিয়ে ফেলেন। মাইগ্রেনের মাথাব্যথা শুরু হওয়ার আগে অস্বস্তিবোধ হওয়া খুব কমন। টেনশন হেডএকে ঘাড় বা পিঠে ব্যাথা, মাথার পিছনে ব্যথা, সারা শরীরে ব্যথা বা অ্যাংজ়াইটির লক্ষণ থাকতে পারে। ব্রেন টিউমারের ক্ষেত্রে প্রথম দিকে কোনও লক্ষণ থাকে না। মস্তিষ্কের উপর টিউমার যখন চাপ বাড়াতে থাকে, তখন এটি ধরা পড়ে। ফলে অনেকক্ষেত্রেই লেট ডায়াগনোসিসের সম্ভাবনা থাকে। মস্তিষ্কের কিছু অংশ এমন আছে, যেখানে ছোট টিউমারেও চাপ বাড়ে। আবার কিছু কিছু অংশে ব টিউমার থাকলেও বোঝা যায় না। তাই, মস্তিষ্কের কোন অংশে টিউমার আছে, তার উপর নির্ভর করবে এটি কখন জানান দেবে! ব্রেন টিউমারে মাথাব্যথার সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, কথা বলতে সমস্যা হওয়া, হাত-পায়ে দুবর্লতা, চোখে কম দেখা ইত্যাদি দেখা যেতে পারে। এরকম লক্ষণ যদি খুব সূক্ষ্ম হলেও সতর্ক হওয়া উচিত। ব্রেন টিউমারের ক্ষেত্রে মাথাব্যথা হলে সারাদিন মাথায় কমবেশি অস্বস্তি থাকবে। এধরনের মাথাব্যথা স্থায়ী হয়। এরকম হলে দিন সাতেকের বেশি অপেক্ষা করা উচিত নয়। মাথাব্যথা যে কারণেই হোক না কেন, কথায় কথায় পেন কিলার খাবেন না। ব্যথার চিকিৎসা নয়, যে কারণে মাথাব্যাথা হচ্ছে, তার চিকিৎসা করা জরুরি। তবে সাময়িক স্বস্তির জন্য প্যারাসিটামল খেতে পারেন। তবে পেন রিলিফ মলম লাগাতে পারেন। এগুলোয় কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

facebook
facebook