Interior
Sananda fashion

কিডস রুমের সাজ

বাড়ির ছোট সদস্য খুব আদরের। তাই তার ঘরটাও হতে হবে যত্নে, আদরে সাজানো। একটি আলোচনা।

g

ঠিক যেন ফেয়ারিল্যান্ডের গল্প। বেবি পিঙ্ক দেওয়াল জুড়ে সিন্ডারেলা, স্নো হোয়াইট কিংবা টম অ্যান্ড জেরির দুষ্টু-মিষ্টি জুটি। আলো নিভলেই সিলিংয়ে হাজার তারার মিটমিটে আলো। র্যাক জুড়ে টেডি বিয়ার, কুকুর, সিংহ হাজারটা সফ্ট টয়। বাচ্চার ঘরটা তো সত্যিই তো এমনটাই হওয়া উচিত—একটা আলাদা জগত, আ ম্যাজিক ল্যান্ড। আমাদের ছোটবেলায় অবশ্য বাচ্চার জন্যে আলাদা ঘরের কনসেপ্টাটাই ছিল না। ভাই-বোনেরা গাদাগাদি করে একটাই ঘরে থাকতাম। একটা দেওয়াল আমার পছন্দের মতো তো একটা দাদাভাইয়ের। পড়ার ডেস্ক, আলমারি, খাট ভাগ করে নিতে হত। পড়াশোনা, নাচগান কি খেলাধুলো সবের জন্যেই বরাদ্দ ছিল একটাই ঘর। তারপর আবার দিদি-দাদার বন্ধু এসে গেলে ঘরে লেগে যেত নো এন্ট্রির বোর্ড। তখন ভরসা মা-বাবার বেডরুম। তবে এখন তো সময় অনেকটাই বদলেছে। আর তার সঙ্গে পাল্টেছে চিন্তাভাবনা। বাচ্চারা ছোট হলেও পরিপূর্ণ মানুষ, তাদের ও ভাললাগা মন্দলাগা, প্রয়োজন, অপ্রোয়জন আছে। তাই আলাদা জগতের অধিকারও তাদের কম কিছু নয়। তাই তো আজ বাড়ি বা ফ্ল্যাটে বাচ্চার ঘর নিয়েও রীতিমতো ভাবনাচিন্তা করা হয়। তাদের পছন্দ মাথায় রেখেই সাজিয়ে দেওয়া হয় তাদের নিজস্ব পৃথিবী।

তবে বাচ্চাদের ঘরের ইন্টিরিয়র প্ল্যান করাটা সহজ কথা নয়। কালার কোঅর্ডিনেশন থেকে শুরু করে স্টোরেজ সব বিষয় নিয়েই ভাবতে হয়। খুব বেশি আসবাবে ভরা হবে না আবার দরকারের প্রতিটা জিনিস রাখতে হবে। আর এখানেই তো অন্দরসাজের মুনশিয়ানা। প্রথমেই আসে কালার স্কিমের কথা। কিডস রুমের জন্যে উজ্জ্বল রঙই আদর্শ। অরেঞ্জ, পিঙ্ক, রেড কিংবা ব্রাইট ব্লু ভাল লাগবে। বেডস্প্রেড, পিলো কভার, পরদাতেও ব্যবহার করুন ব্রাইট কালার। দেওয়ালে কার্টুনের ছবি আঁকতে পারেন। আসলে ঘরে একটা চিয়ারফুল আর ভাইব্রেন্ট মুডটা কালার টোনেই সেট হয়ে যায়। একদিকের দেওয়ালে সাজিয়ে দিতে পারেন বাচ্চার নানা মুডের ক্যামেরাবন্দী করা ছবি। স্পেস মডিফিকেশন কিন্তু এখানে একটা বড় ব্যপার। জায়গা ছোট হলে বাঙ্কবেড করতে পারেন। জায়গা তো বাঁচেই, আর বাচ্চাদের কাছেও এটা মজার জিনিস বটে। বাঙ্ক বেডের নীচে স্টোরেডজের ব্যবস্থা করলে মন্দ হয় না। একই কারণে আলাদা আলমারি না রেখে দেওয়ালে ক্যাবিনেট বানাতে পারেন। এতে ঘর বড় দেখায় আর ক্লাটারডও লাগে না। ক্যাবিনেটে জামাকাপড়, খেলাপত্র, বইখাতার আলাদা আলাদা জায়গা রাখেত পারেন। বাচ্চার খেলাধুলোর প্রতি আগ্রহ থাকলে, ঘরে রাখতে পারেন ডার্ট বোর্ড বা বাস্কেটবল খেলার ব্যবস্থা। আর মেয়েদের জন্যে রং-বেরঙের সফ্ট টয় তো আছেই।

টিনএজারদের ঘর আবার হবে একটু অন্যরকম। তাদের মতামত, ভাললাগা মেনে ডেকর প্ল্যান করুন। টিনএজ মানেই হিরো ওয়ারশিপের শুরু। ঘরের দেওয়ালে কখনও ফুটবলার, কখনও ক্রিকেটার কখনও বা সিনেমার নায়ক-নায়িকাদের পোস্টার। তাই ঘরের একটা দেওয়াল সব সময় খালি রাখুন, যেথানে ও নিজের ইচ্ছেমাফিক ছবি লাগাতে পারেন। টিনএজারদের ঘরের আর একটা জিনিস না থাকলেই নয় রিডিং টেবল বা কম্পিউটার টেবল। টেবলের উপর র্যাক বানিয়ে করতে পারেন সাউন্ড সিস্টেম রাখার ব্যবস্থা। তবে বাচ্চার ঘরে টিভি না রাখাই ভাল। তারচেয়ে যদি জায়গা থাকে সাজিয়েগুছিয়ে দিতে পারেন একটা ছোট্ট লাইব্রেরি। তা হলে আর কী, প্ল্যানিংয়ের পালা এবার শেষ। হাতে কলমে এবার তৈরি করুন আপনার বাচ্চার ‘ম্যাজিক ল্যান্ড’।

facebook
facebook