vvvv
Interior
Sananda fashion

ছোট ফ্ল্যাটের অন্দরসাজ

একদিকে নৃত্যশিল্পী, অন্যদিকে আর্ট ডিরেক্টর, কস্টিউম ডিজ়াইনার, তাই বোধহয় নিলয় সেনগুপ্তর অন্দরমহল জুড়েই শিল্পসৃষ্টির ভাবনা।

g

ব্যাচেলর ছেলের বাড়িতে অন্দরমহলের ফোটোশুট, পরিকল্পনা শুনেই অবাক হয়ে গেছিলাম। একলা মানুষ, তায় আবার অবিবাহিত, এরকম বাড়িতে ছবি তোলার মত কী থাকতে পারে। ভুলটা অবশ্য ভাঙল আনওয়ার শাহ রোডের ছোট্ট এক কামরার ফ্ল্যাটে ঢুকে। সাউথ সিটি মলের উল্টোদিকের একফালি রাস্তা দিয়ে বাড়ি খুঁজে পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। তবে সিঁড়ি দিয়ে উঠতেই মুখ থেকে অজান্তেই বেরিয়ে গেল ‘বাহ!’ কারণটা অভিনব নেমপ্লেট। কাঠের ফলকে নিজের হাতে লেখা নিলয় সেনগুপ্ত। নেমপ্লেটের সঙ্গেই ঝুলছে ঘুঙুর, মেজ়ারিং টেপ, আর চুয়িং গামের ঢাকা। ‘‘আমার ব্যক্তিত্বর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার নাম। তার বর্হিপ্রকাশ বলতে পারেন এই নেমপ্লেট। আমার কাজ, আমার কাজ, ভাললাগাগুলো এখান থেকেই আন্দাজ করতে পারবেন’’, জানালেন নিলয়। সত্যিই তো অন্দরমহল তো আর তার বাসিন্দাদের থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। তাই তো অন্তরমহলের থেকে আলাদা করে অন্দরমহলের এগজ়িসটেন্স হতে পারে না। আর তাই বোধহয় আর পাঁচটা এক কামরার ফ্ল্যাটের থেকে একেবারেই আলাদা। ঢুকেই একটা ছোট্ট প্যাসেজ। একমুখে বাথরুম, অন্যদিকে ওপেন কিচেন। মাঝখানে ছোট্ট ফ্রিজ, আলমারি। রান্নাঘরটা বেশ অন্যরকমভাবে সাজানো। মডিউলার কিচেন নয়, ক্যাবিনেটের সংখ্যা বলতে গেলে একটাই। খোলা জায়গাগুলো রংবেরঙের দড়ি দিয়ে ঢাকা। সঙ্গে লম্বালম্বি ঝোলানো মাছের ছবি আঁকা পটচিত্র। একটা ফিশনেটও ঝোলানো আছে। খুব ইন্টারেস্টিং লাগে দেখতে। ‘‘বাঙালি মানেই তো মাছের ভক্ত। আর রান্নাঘরে তাই মাছের রেফারেন্স রাখতে চেয়েছিলাম। সেখান থেকেই এই ভাবনা,’’ জানালেন নিলয়। রান্নাঘরের ঠিক বাইরে ট্রাইবাল আর্টেরও কিছু রেফারেন্স পাওয়া গেল। ‘‘আমি মনে প্রাণে আর্টিস্ট, যে কোনও শিল্পের প্রতি একটা আকর্ষণ আছে। তাই অন্দরমহলে যাতে একটা শৈল্পিক ছোঁয়া থাকে, সেই প্রচেষ্টাই করেছি’’।

বাড়ির অন্য অংশের মতো বেডরুমটাও অন্য আঙ্গিকে সাজানো। কোনায় এখটা ছোট্ট মন্দির রাখা। সারা ঘরে খাট ছাড়া মাটিতে কোনও আসবাব নেই, সবই ঝোলানো। ‘‘আসলে আমি ফ্লোর স্পেসটা খোলামেলা রাখতে চেয়েছিলাম। তাই মাটিতে কোনওরকম কিছু রাখিনি।এতে আমার নাচ প্র্যাক্টিস করতেও সুবিধে হয় আবার ঘরের উচ্চতাও বেশি মনে হয়,” জানালেন নিলয়। এই ভাবনাটা যেমন অভিনব, ঠিক তেমনই ঘরের ডেকর আইটেম। দেওয়ালে নিজের আঁকা ছবিতো আছেই, এ ছাড়াও আছে হাতে তৈরি করা ঘড়ি, ল্যাম্পশেড ইত্যাদি। ‘‘আমার বন্ধুরা বলত এখানে সব আছে, কিন্তু কোনও মিউজ়িকাল এলিমেন্ট নেই, তাই রবিঠাকুরের ছবি লাগিয়েছি, আর ঠিক তার পাশে এতটা একতারা ঝুলিয়ে রেখেছি। তারপর মনে আমার ঘর বেশ একটা পূর্ণতা পেয়েছে’’, খুশি খুশি মুখে জানালেন বাড়ির বাসিন্দা। খাটের সঙ্গে লাগোয়া একটা শেল্ফ আছে, বেশ উঁচু, দড়ি দিয়ে ঢাকা। দরজা থেকে খাট যাতে সরাসরি না দেখা যায়, তাই এই ব্যবস্থা। শেল্ফের উপর টুকোটাকরা কাঠের জিনিস, মানি প্ল্যান্ট সাজানো আছে যত্ন করে। ‘‘মানি প্ল্যান্টের কোনও মেন্টেনেন্স লাগে না, তাই রেখেছি।’’ ঘরের সঙ্গেই লাগোয়া ছোট্ট এক চিলতে বারান্দা। অবশ্য শুধু বারান্দা বললে ভুল হবে, নিলয়ের ওয়র্কস্পেসও বটে। নটরাজের মূর্তি, আঁকার খাতা, লম্বা, সরু, মোটা, নানা মাপের তুলি, রং পেনসিল ছড়ানো ছেটানো। তবে এলোমেলো, অবিনস্ত্য মনে হয় না। আর এটাই এই বাড়ির বৈশিষ্ট্য। এই অন্দরমহলের একটা আলাদা ভাষা, আলাদা চরিত্র আছে, যা কোথাও যেন বাড়ির বাসিন্দার সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। আর এখানেই তো অন্দরমহলের স্বার্থকতা, অন্তরমহলের বাঙ্ময় প্রতিরূপ।

facebook
facebook