Interior
Sananda fashion

ছিমছাম অন্দরসাজ

আসবাবের আতিশয্য নেই। নেই চড়া রংয়ের ব্যবহার। নৃত্যশিল্পী পারমিতা সাহার ফ্ল্যাটে ছড়িয়ে আছে ছিমছাম সারল্য।

g

কলকাতার উপকণ্ঠে নিরিবিলিতে তাঁর ঠিকানা। পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঘরেও কিন্তু খুঁজে পাবেন প্রশান্তি। আসলে সমকালীন নৃত্যশিল্পী ও আর্টস ম্যানেজার পারমিতা সাহার ১২০০ স্কোয়ার ফুটের ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়লে প্রথমেই আপনাকে মুগ্ধ করবে ছিমছাম অন্দরসাজ। কোথাও আসবাবের বাহুল্য নেই, কোথাও চড়া রংয়ের ব্যবহার নেই। শিল্পীর কথায় এই বাহুল্যবর্জিত, অনাড়ম্বর ব্যাপারটাই তাঁর ফ্ল্যাটের ইউএসপি। আসলে সারাদিনের ব্যস্ততার ফাঁকে কোথাও যদি শান্তি খুঁজে পাওয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে তো সেটা নিজের বাড়িই হবে!

বাড়িতে ঢুকলেই বুঝবেন পারমিতা জোর দিয়েছেন স্পেস ম্যানেজমেন্টের উপরে। মোট চারটে ঘর। লিভিং এরিয়া, দু’টো বেডরুম ছাড়া রয়েছে আর একটি ঘর। এটি তাঁর যোগাসন-মেডিটেশনের জায়গা। ঘরে ঢুকেই প্রশস্ত লিভিং এরিয়া। কোথাও কোনও ক্লাটার নেই। ঝকঝকে মার্বেল ফ্লোরিংয়ের উপরে সুদৃশ্য কার্পেট। খুব বেশি আসবাব তিনি রাখেননি এই ঘরে। তবে সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট বেশ ভাল লাগে। ছোট কাঠের গদিওয়ালা বসার জায়গা থেকে পাঁচ পা-ওয়ালা বসার জায়গাসবই রয়েছে লিভিং এরিয়াতে।

ঘরের এক কোণায় জানালার ঠিক পাশেই রাখা আছে গাছ। বাড়িতে সবুজের এই ছোঁয়া বোধহয় আজকাল খুব দরকার। ডাইনিং ও ড্রয়িং এরিয়া একসঙ্গেই। পারমিতার নিজস্ব পছন্দের জায়গা হচ্ছে এই ডাইনিং টেবল। যতক্ষণ বাড়িতে থাকেন, বেশিরভাগ সময় তিনি এখানেই কাটান। তবে লিভিং এরিয়ার সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে দেওয়ালে সাদা-কালো পেন্টিং আর ছোট হ্যাঙ্গিং ল্যাম্প। পারমিতা নিজে বইপোকা। আর তাই বোধহয় তাঁর বইয়ের কালেকশনের হদিশ লিভিং এরিয়াতে ঢুকলেই পাওয়া যায়! কাঠের বুক র্যাকে থরে থরে সাজানো একাধিক দেশি-বিদেশি বইয়ের কালেকশন।

লিভিং এরিয়া পেরিয়ে বাড়ির আরও অন্দরে ঢুকলেও সেই ছিমছাম, বন্ধুত্বপূর্ণ আবহাওয়াটা কিন্তু অমলিনই থাকে। হয়তো মানুষটার নিজের মধ্যেই এরকমই সারল্য সবসময় বিদ্যমান! মেন বেডরুমের টাইলড ফ্লোরিং আর দেওয়ালে বাঁধানো ফোটোফ্রেম চোখে পড়ে। ডার্ক ব্রাউন খাটের উপরে অসলভাবে ছড়িয়েছিটিয়ে রাখা কুশন দেখলেই এ বাড়ির মেজাজ বোঝা যায়! ছিমছাম, আতিশয্যবিহীন অথচ উষ্ণ। বিছানার পাশের প্রশস্ত জানলা দিয়ে শহরটাকে দেখা যায়। অলস দুপুরে এর থেকে উপভোগ্য আর কীই বা হতে পারে! আর একটি বেডরুমের ফ্লোরেই রয়েছে বসার ও শোওয়ার ব্যবস্থা। মেঝেতে সুদৃশ্য মাদুর পাতা। আর তার পাশেই সিটিং কাম স্লিপিং অ্যারেঞ্জমেন্ট। ভাবনার দিক থেকে বেশ অভিনব। এ ঘরের দেওয়াল জুড়ে রয়েছে বই ও অন্যান্য নানা জিনিস রাখার ওপেন স্টোরেজ র্যাক। বই তো আছেই, রয়েছে বেশ কিছু আর্ট কালেকশনও।

নিজে দেশে-বিদেশে পারফর্ম করেন বলে বিভিন্ন জায়গার নানা আর্টিফ্যাক্টের কালেকশনও রয়েছে তাঁর কাছে। বাড়িতে একটি দেওয়াল আছে যেটি জুড়ে রয়েছে নানারকম মুখোশ। বাড়ির কর্ত্রীর ইচ্ছে, আরও নানা মুখোশ এনে এখানে লাগানো। বাড়িতে যা আসবাব আছে, তার প্রায় সবক’টিই অ্যান্টিক। বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে এই আসবাবগুলো সংগ্রহ করেছেন তিনি। পুরনো আসবাবগুলোকেই দিয়েছেন নতুন ফিল। অ্যান্টিক আসবাবের ডার্ক ব্রাউন রংয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঘরের দেওয়ালগুলোয় অফ হোয়াইট রং ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরেই মোটামুটি একই কালার কম্বিনেশন।

পুরো বাড়ি জুড়েই ছড়িয়ে থাকা আভিজাত্য, এই অন্দরের প্রতীক। ছিমছাম অথচ সুন্দর। আনাচে কানাচে খুশির ছোঁয়া। বেশ বাড়ি-বাড়ি একটা ফিল রয়েছে এই অন্দরে। এটাই তো অন্দরসাজের মূল উদ্দেশ্য!

facebook
facebook