Interior
Sananda fashion

বিস্তৃত অন্দর

ফ্ল্যাটের সীমিত চৌহদ্দির বাইরে বাড়ির বিস্তৃত অন্দরের নিবিড় সান্নিধ্য।

g

কলকাতার কোলাহলের মধ্যেও পাওয়া যায় প্রাণের আরাম, মনের শান্তি। তার জন্যে প্রয়োজন নেই প্রতিদিন ছুটে যাওয়া শহরতলির কোনও নিশ্চুপ প্রান্তে। এখানকার গা ঘেঁষাঘেঁষি ফ্ল্যাটের পরিসিমীত গন্ডির অভ্যস্ত দৃশ্যের বাইরে একটু চোখ ফেরালেই দেখতে পাওয়া যায় ছবির মতো সাজানো বাড়ির হদিশ। ঠিক যেমনটা পাওয়া যায় সল্ট লেক সেক্টর ৩-র এই নিরিবিলি জায়গায়।

সল্টলেকের ল্যান্ডমার্ক আইল্যান্ড আর ট্যাঙ্ক পেরিয়ে যখন আমাদের গন্তব্য ব্লকে গিয়ে পৌঁছলাম তখন বাড়িটি প্রথমবার দেখেই মনে হয়েছিল এই বাড়ির অন্দরমহলে নিশ্চয়ই নেই অযথা আসবাবের এলোমেলো ভিড়। দু’তলা এই বাড়ির আয়তনে সব মিলিয়ে ১৯০০ স্কোয়্যার ফিটের মতো হবে। তাই অ্যাভেলেবল স্পেস নিয়ে খুব একটা ভাবতে হয়নি অন্দরমহলের স্ট্রাকচারাল এবং এস্থেটিক ডিজ়াইন প্ল্যান করার সময়ে। এই বাড়ির স্ট্রাকচচারাল ডিজ়াইন প্ল্যান করার সময়ে একটা আইডিয়াই বার বার ঘুরে ফিরে এসেছে ফিলিং অফ এক্সটেনশন অ্যান্ড ওয়াইড ওপেন স্পেস। এই আইডিয়াকে বেস করেই গ্রাউন্ড ফ্লোরে বেশি অ্যাক্টিভিটি জ়োন রাখেননি এই বাড়ির বাসিন্দারা। তাই গ্রাউন্ড ফ্লোরে রয়েছে কিচেন, সিটিং কাম ডাইনিং অ্যারেঞ্জমেন্ট, একটি বেডরুম। মাঝখানের অনেকটা ওপেন স্পেস আনে চোখের আরাম। এই ফ্লোরের অন্যান্য অংশের থেকে সিটিং এরিয়াকে আলাদা করার জন্যে ব্যবহার করা হয়েছে গ্লাস পার্টিশন। একদিকে যেমন সেপারেট জ়োন তৈরি করা গিয়েছে, ঠিক তেমনই গ্লাস পার্টিশন ব্যবহার করার ফলে অযথা স্পেস নষ্ট হয়নি এবং ইলিউশন অফ স্পেসও তৈরি হয়েছে। সিটিং এরিয়ারই একটা সাইড দিয়ে দু’তলায় সিঁড়ি উঠে গিয়েছে মেন লিভিং স্পেসে। সিঁড়ি দিয়ে উঠে মাঝখানের স্পেস আলাদা করে রাখা হয়েছে আড্ডা জ়োন হিয়েবে। এখানকার সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্টেও নেই কোনও বাহুল্য। আর রয়েছে তিনটি বেডরুম। তবে সব থেকে ইন্টারেস্টিং ডেকর দেখতে পাওয়া যায় গৃহকর্ত্রীর ক্লাস এইটে পড়া ছেলের ঘরে। ছেলে যেহেতু নানা রকম অ্যানিমেটেড ক্যারেক্টারের ফ্যান, তাই ওর ঘরের দেওয়ালে আঁকা হয়েছে ফিডো ডিডো। আর্ট কলেজের এক মূক ও বধির শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় এই ঘর পেয়েছে এক অন্য লুক। আর যেহেতু ছেলের প্যাশন মিউজ়িক, তাই ফিডো ডিডোর হাতে দেওয়া হয়েছে নানা রকম মিউজ়িকাল ইনস্ট্রুমেন্ট। এই ঘরের প্রতিটি লুক তৈরি করতে শিল্পীকে সাহায্য করেছে গৃহকর্ত্রীর ছেলে ও তার বন্ধুরা। ঘর সাজানোর জন্যে দেশ বিদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করে এনেছেন নানা সুভিনিয়র। জর্ডন থেকে যেমন নিয়ে এসেছেন সিরিয়ান টেবল, ল্যাম্প। একটি পুরনো টেবল রেনোভেট করে নিয়ে জর্ডান থেকে নিয়ে আসা ইন্টারেস্টিং টাইলস দিয়ে টেবল টপ বানিয়ে নিয়েছেন। অন্দরমহলে নিশ্চয়ই এ এক অভিনব সংযোজন।

শুধু মাত্র ঘর সাজানোর নানা শো-পিস নয়, বিভিন্ন স্বাদের ও ব্র্যান্ডের লিকার কালেকশন করাও গৃহকর্ত্রীর স্বামীর শখ। তাই বসার ঘরে নজরে পড়ে ওয়েল স্টকড বার ক্যাবিনেট। সব মিলিয়ে এই বাড়ির অন্দরে রয়েছে একটা পজ়িটিভ ভাইব। এই বাড়ির অন্দরমহল অনায়াসেই আপনাকে সাহায্য করতে পারে আপনার অন্দরমহলের নানা দিক প্ল্যান করার সময়ে।

তবে অন্দরসাজকে হাইলাইট করার জন্যে প্রয়োজন সঠিক ফ্যাব্রিক সিলেকশন, যা আপনার রুচি এবং পছন্দকে রিফ্লেক্ট করবে। তাই ফ্যাব্রিক বাছার সময়ে কয়েকটি বিশেষ দিকে খেয়াল রাখবেন। বিশেষ করে বেডরুমের জন্যে ফ্যাব্রিক বাছার সময়ে চেষ্টা করবেন নিউট্রাল শেড বাছতে। বিশেষ করে আপনি যদি ছোট ফ্ল্যাটে থাকেন, তা হলে সাদা, ক্রিমি বাটার, সিলভার গ্রে এই সব শেডের রং বাছার চেষ্টা করুন। এতে ইলিউশন অফ স্পেস তৈরি হবে। ছোট ছোট জিনিস যেমন কুশন কভারে ভাইব্রেন্ট রং বা এমবেলিশড কুশন কভার ব্যবহার করতে পারেন। বেডস্প্রেড একটু ভারী ফ্যাব্রিকের ব্যবহার করাই ভাল। গরমের সময়ে অর্গানিক কটন ফ্যাব্রিক আর শীতকালে সিল্ক বা মাইক্রোফাইবার ব্যবহার করুন।

facebook
facebook