Interior
Sananda fashion

অভিজাত অন্দরমহল
বাগান, গাছগাছালিতে ঘেরা। আধুনিক স্ট্রাকচার, নান্দনিক কালার স্কিম, প্রায়োগিক ব্যবস্থাপনা। অম্বরীশ ও অনিন্দিতা দাশগুপ্তর অন্দর জুড়ে আভিজাত্যের প্রকাশ।

g

এ বাড়ির যে দিকেই যাওয়া যায়, চোখে পড়ে সবুজ গাছগাছালি। প্রকৃতি ঘেরা শহুরে বাড়ি সচরাচর চোখে পড়ে না। তাই টেবল, চেয়ার, সোফা, কার্পেটে সুসজ্জিত অন্দরমহলেও বেশ এক প্রাণের আরাম, যা একমাত্র প্রকৃতি থেকেই পাওয়া সম্ভব। অম্বরীশ এবং অনিন্দিতা দাশগুপ্তর এই বাংলো প্যাটার্নের বাড়ি এমনই প্রকৃতির উদার দাক্ষিণ্যে ঋদ্ধ। প্রায় প্রতিটি ঘরের সঙ্গেই খোলা টেরেস বা বারান্দা। তাই রোদ, হাওয়ার কোনও অভাব তো নেইই, সেইসঙ্গে প্রকৃতির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের উদার সুযোগ এই অন্দরমহলের বিশেষ প্রাপ্তি।

দু’জনেই ব্যস্ত মানুষ। কিন্তু তার মাঝেও বাড়ি সাজানোয় মন আছে তা বাড়িতে ঢুকলেই বোঝা যায়। তাঁদের এক কন্যার স্কুলের পড়াশোনা, আঁকা, গান সবকিছু নিয়ে ব্যস্ত জীবন তারও। এই হাজারও ব্যস্ততার মাঝে, সারাদিনের ক্লান্তির পর আরামের আশ্বাস দিতে এই অন্দরমহল বড়ই সুন্দর। অনিন্দিতার বাগানের নেশা ছোটবেলা থেকেই। তাই তাঁর আদর যত্নে বেড়ে ওঠা গাছপালা এই বাড়ির বাসিন্দাদের নিত্যসঙ্গী। গেট খুলেই বাঁহাতে যত্নে লালিত সবুজ লন, মোরাম বিছানো পথ পেরিয়ে সদর দরজা। সদর দরজা দিয়ে ঢুকে ছোট্ট প্যাসেজে দেওয়ালের গায়ে আয়না। সামনে গ্লাস শেল্ফের ওপর সাজানো রয়েছে নানা সংগ্রহ। নটরাজ মূর্তি, টিবেটান ঘন্টা সবই সাজানো রয়েছে।

একতলায় বসার ঘরে দু’ভাগে সাজানো বসার ব্যবস্থা। কাঠের হাতল দেওয়া সোফায় পুরু ফ্যাব্রিকের ব্যবহার। একদিকের দেওয়ালে হালকা ধূসর রঙা ওয়ালপেপার। বাড়তি বাহুল্য নেই কোথাও। আলোর ব্যবস্থা প্রায়োগিক এবং নান্দনিকও বটে। গা-ডোবানো সোফায় কুশনের রুচিশীল ব্যবহার চোখে পড়ে। বসার ঘরের ডানদিকে আধুনিক কিচেন। উডেন ফ্লোর, উডেন ক্যাবিনেট। চিমনি, মাইক্রোওয়েভ আভেন সবই রয়েছে। বেশ প্রশস্ত রান্নাঘর।

দ্বিতীয় বসার জায়গায় লেদার সোফা। বেজ রঙের সোফায় বাদামি, সবুজ রঙের কুশন দেখতে ভাল লাগে। দু’টি বসার ব্যবস্থা থাকায় দু’ধরনের আপহোলস্ট্রির ভাবনা অন্দরসাজে বৈচিত্র্য এনেছে। উডেন সেন্টার টেবলটিও নজর কাড়ে।
বসারঘর লাগোয়া ওপেন টেরেস পুনর্নির্মাণে খাবার ঘরের রূপ নিয়েছে। বসার ঘরের এক ধাপ নিচে এই ডাইনিং স্পেসটি ভারি সুন্দর। আগের খোলা জায়গাটিকে খাবার ঘর বানানোর প্ল্যানটি অভিনবত্বের দাবি রাখে। গোল ডাইনিং টেবল। ছয় জনের বসার ব্যবস্থা। ঘরের সঙ্গেই সুন্দর বাগান। শীতে বা বর্ষায় কী দারুণ! আবার ছুটির দিনে গানবাজনার সান্ধ্য আসরে এই ডাইনিং এরিয়াই মঞ্চের রূপ নেয়। বসার ও খাবার ঘরের মাঝে পরদার ব্যবহারও রুচির পরিচয় দেয়। ঘরের ভেতরেও গাছপালার যথাযথ ব্যবহার অন্দরসাজে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। বসার ঘরের সঙ্গে বারান্দায় লোহার বেঞ্চ ও সেন্টার টেবল। চা খেতে খেতে সামনের বাগান উপভোগ করার জন্য আদর্শ।

মাস্টার বেডরুমে ডার্ক পলিশড আসবাবে ঋদ্ধ আমেজ। মেয়ের ঘরের কালার স্কিম গোলাপি। গোলাকৃতি খাটে মানানসই গোলাপি বেডকভার। আয়নার আকৃতিও গোলাকার। ঘরের এক কোনায় তানপুরা, নিয়মিত সঙ্গীতচর্চার জন্য।

বইয়ে ঠাসা রিডিং রুম। এই বাড়ির সকলেরই বড় প্রিয় ঘর। এই বাড়ির মানুষজন অতিথিবত্‌সল। গান ভালবাসেন, ভালবাসেন জমাটি আড্ডা, খাওয়াদাওয়া। এই অন্দরমহল তার জন্যও আদর্শ। আড্ডার জায়গাটি অতি মনোরম। উডেন ফ্লোরের ওপরে সামান্য এলিভেটেড জ্যামিতিক আকারের স্পেস। তার ওপর গদি পেতে আড্ডা, গান শোনা, টিভি দেখার ব্যবস্থা। বাড়ি জুড়ে সংযত রুচি ও পরিশীলিত বোধের বাঙ্ময় প্রকাশ।

facebook
facebook