Interior
Sananda fashion

পুরনো দিনের গন্ধ

পেশায় ডিজ়াইনার। বাড়ি জুড়ে তাই পরিশিলীত মার্জিত রুচির ছাপ। শুচিশ্মিতা দাশগুপ্তের বাড়িজুড়ে রয়েছে এক পুরনো দিনের গন্ধ।

g

সাবেকিয়ানা আর আধুনিকতা যে একসঙ্গে বিচরণ করতে পারে, সেটা কালিকাপুরের এই ফ্ল্যাটে ঢুকলেই বোঝা যায়। মোটামুটি ১৪৫০ স্কোয়্যার ফিট। জায়গা বেশ বড়ই, ফলে মনের মতো সাজিয়েগুছিয়ে নিয়েছেন শুচিশ্মিতা। তবে একেবারে ম্যাগাজ়িনের পাতায় দেখা ঝাঁ চকচকে ফ্ল্যাটের মতো নয়। সারা বাড়ি জুড়েই একটা বেশ পুরনো পুরনো গন্ধ। পুরনো আসবাবের প্রতি বরাবরই একটা আলাদা আকর্ষণ ছিল, তাই জন্যে কোনও কনটেম্পোরারি ফার্নিচার রাখেননি বাড়িতে। পুরনো কাঠের চেয়ার, আলমারি, চেস্ট, খাট এ বাড়ির সম্পদ। ‘বাড়ি সাজানোর সময় অনেক কিছু মাথায় ঘুরছিল। কিন্তু এটুকু জানতাম যে একটা পুরনো মেজাজ রিক্রিয়েট করতে হবে। তাই বেছে বেছে পুরনো আসবাব জোগাড় করেছি গোপালনগর থেকে। বাকি বাড়িটা আসবাবের সঙ্গে মিলিয়ে সাজিয়েছি।’ জানালেন শুচিশ্মিতা। তবে পুরনো আমেজর সঙ্গে কিন্তু প্র্যাক্টিকালিটির উপরও বেশ নজর দেওয়া হয়েছে। পুরনো আসবাব ভাল লাগে বলেই সারা বাড়িকে মিউজ়িয়ম বানানো হয় নি। বরং ফাংকশনালিটির কথা মাথায় রেখে এমন ভাবে প্লেস করা হয়েছে, যাতে বাড়ি এলোমেলো, অগোছালো না লাগে। তিনটে বেডরুম, ড্রয়িং, ডাইনিং সব জায়গাতেই তাই খুব বেশি আসবাব নেই। ঠিক যেটুকু প্রয়োজন, সেটুকুই। আসলে পরিমিতি বোধটা তো যে কোনও শিল্পের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে। সেটা ডিজ়াইনিং হোক কি অন্দরসাজ।

ঢুকেই মোটামুটি প্রসস্ত ড্রয়িং রুম। লেদার সোফা নয়, বেতের আরামকেদারার উপর রঙিন কুশনের বিন্যাশ। ‘সেই ছোটবেলা থেকেই বেতের চেয়ার আমার খুব পছন্দ। বন বড় ঢাউস সোফার প্রতি কোনো ইন্টারেস্ট নেই। আমার নস্টালজিয়ার সঙ্গে প্রবলভাবে জড়িয়ে আছে এই চেয়ারগুলো। তাই জন্যে কুশনগুলো ছোট আকারের বানিয়েছি, যাতে চেয়ার বেশিভাগ অংশটাই দেখা যায়।’ জানালেন শুচিশ্মিতা। সেন্টার টেবলের জায়গায় কাঠের পুরনো দিনের চেস্ট। দেখতে তো ভাল লাগেই, স্টোরেজ হিসেবেও দারুণ। একটা কাঠের আলমারিও আছে, যার উপর সাজানো আছে নানা রঙের, নানা আকারের পেঁচার মূর্তি। কোনওটা কাঠের, কোনওটা মাটির। ‘‘পেঁচা কালেক্ট করারা আমার নেশা বলতে পারেন। আসলে আমি যে কোনও সুন্দর জিনিস খুব পছন্দ করি। তাই যেখানেই যাই কিছু না কিছু নিয়ে আসি। বাড়ি প্ল্যান করার সময় এটাও মাথায় ছিল যে এমনভাবে সাজাব, যাতে সংগ্রহ করা জিনিসগুলো ভালভাবে ডিসপ্লে করা যায়।” অকপট স্বীকারক্তি বাড়ির মালকিনের। ড্রয়িং রুম শেষ হতেই লম্বা প্যাসেজ। তারপর রান্নাঘর। ছিমছাম পরিপাটি মডিউলার কিচেন। একদিকে স্টাডি রুম। অসংখ্য বই সাজানো রয়েছে। সঙ্গে ‘নায়ক’ সিনেমার একটা পোস্টারও। ‘আমার অফিসে এরকম প্রচুর সিনেমার পোস্টার ফ্রেমে বাঁধিয়ে লাগানো আছে। বাড়িতে লাগাবার ইচ্ছে আছে,’’ জানালেন শুচিস্মিতা। লাইটিং নিয়ে যথেষ্ট চিন্তাভাবনা করা হয়েছে। সারা বাড়ি জুড়ে ল্যাম্পের নরম হলুদ আলো। নানা ধরনের কেতাবি ফুট ল্যাম্প, হ্যাঙ্গিং ল্যাম্প আছে। ‘আমি হলুদ আলো ভালবাসি। আমার স্বামী অবশ্য টিউবলাইটের সাদা আলোতেই স্বচ্ছন্দ। তাই দুটোই রাখতে আছে। ব্যালেন্স করতে হবে তো, তবে টিউবলাইটগুলো অবশ্য এতটু লুকিয়ে রেখেছি।’ হাসতে হাসতে জানালেন গৃহকর্ত্রী। সত্যি তো এই ক্রিয়েটিভ ব্যালেন্সটাই অন্দরসাজের মূল কথা।

facebook
facebook