Interior
Sananda fashion

আরামের আস্তানা

সহজ, মার্জিত, সুরুচির পরিচায়ক। আদর ও বহু যত্নে গড়া বিশ্বজিৎ ও কেয়া ভট্টাচার্যর অন্দর।

g

একটা ছোট্ট প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি। অন্দরসাজ বলতে ঠিক কী বোঝেন বলুন তো? নানা মুনির নানা মত থাকবেই। তবে আমার মতে অন্দরসাজ তখনই সার্থক যখন তার মধ্যে প্রাণের ছোঁয়া থাকে। বিপুল আয়োজন বা দামি জিনিসের ভিড় মানেই যে অন্দরমহল খুব সুন্দর এমন প্রচলিত ধারণায় বিশ্বাস করি না বলতে পারেন। যে অন্দরমহল তার বাসিন্দাদের অন্তরমহলের প্রতিরূপ, যে অন্দরমহল সহজ, স্বাভাবিক, সেটাই তো সুন্দর। নিখুঁত হতে হবে না, বাহুল্যমণ্ডিত হতে হবে না, মার্জিত রুচির পরিচায়ক হলেই যথেষ্ট। ঠিক এমনটাই মনে হল বিশ্বজিৎ ও কেয়া ভট্টাচার্যর বাড়িতে ঢুকে। পরিপাটি কিন্তু হাঁটাচলা করতে অস্বস্তি বোধ হয় না। বেশ নিজের বাড়ি বলে মনে হয়। তার ক্রেডিট অবশ্যই বাড়ির সদস্যদের প্রাপ্য। নিজেরা যেমন আন্তরিক, খোলা মনের মানুষ বাড়ির মধ্যেও সেই উষ্ণতার আভাস পাওয়া যায়। স্বামী-স্ত্রী খুব যত্ন, আদরে গড়ে তুলেছেন তাঁদের এই বাড়ি। ‘‘আমরা খুব সাদামাঠা, সিম্পল বলতে পারেন। ইন্টিরিয়র ডিজ়াইনার দিয়ে বাড়ি সাজাবো এমন কখনও ভাবিনি। কিন্তু ফাইনালি এমন একজনকে পেলাম যিনি আমাদের রুচি এবং পছন্দ অপছন্দকে বুঝে ফ্ল্যাট সাজিয়ে দিয়েছেন। সাধ আর সাধ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি করেছি আমাদের এই অন্দরমহল।’’ জানালেন কেয়া। মোট ২০০০ স্কোয়্যার ফিটের ফ্ল্যাটে। বলা ভাল দুটো ফ্ল্যাটএকসঙ্গে করে বাড়ানো হয়েছে আয়তন। বিশ্বজিৎ পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়র। ভাঙাগড়ার দিকটা ভাল বোঝেন। বেশ সুষ্ঠভাবে, সুপরিকল্পনা করে লেআউট বদলেছেন, যাতে জায়গার অপচয় না হয়। ঢুকেই বেশ বড় ড্রয়িং-ডাইনিং এরিয়া। একটি ফ্ল্যাটের দুটি বেডরুম ভেঙে জায়গা বাড়ানো হয়েছে। ঢুকেই বাদিকে ছিমছাম শু ক্যাবিনেট। উপরের রাখা ফুলদানিতে লাল-হলুদ গোলাপের সমাহার। পাশেই ফ্রেমবন্দি করা পারিবারিক ছবি। দেওয়ালে লাগানো রাধা-কৃষ্ণের মূর্তি কেয়ার অতি প্রিয়। হস্তশিল্প মেলা থেকে কিনেছিলেন। ‘‘আমার নানারকম মেলায় যেতে ভাল লাগে। বাড়ি সাজানোর জন্য টুকটাক জিনিস ঠিক কিনে ফেলি। তারপর ভাবতে হয় কোথায় কোনটা রাখব।’’ হাসতে হাসতে জানালেন কেয়া। আসবাব খুব একটা রাখেননি বসার জায়গায়। লেদারের গা ডোবানো সোফায় লাল-মেরুন কুশনের জ্যামিতিক বিন্যাস। সাদা সেন্টার টেবলের প্রেক্ষিতে টুকটুকে লাল গালিচা নডর কাড়ে। লালের আধিক্য দেখে বুঝলাম রংটা বেজায় পছন্দের ভট্টাচার্য পরিবারের। আমার মনের ভাব বুঝেই যেন কেয়া বললেন ‘‘শুধু লাল নয়, মেরুনও খুব ভাল লাগে। আসলে উজ্জ্বল রঙের প্রতি আমাদের একটা দূর্বলতা আছে। বাড়িতে রঙের ছোঁয়া থাকলে দেখবেন মনেও একটা স্ফূর্তি থাকে। বাড়ি ঢুকলেই কেমন মেজাজটা ফুরফুরে হয়ে যায়।’’ সোফার ঠিক মুখোমখি টিভিক্যাবিনেট। বেশ স্মার্ট ডিজ়াইন। এখানেও চোখে পড়ল লাল ফুলের তোড়া। টিভি ক্যাবিনেটের দেওয়ালটা আবার টেক্সচার্ড। হাইলাইট করার জন্যই এই ব্যবস্থা। সোফার ঠিক পাশেই আবার বাহারি বার ক্যাবিনেট। আগে এখানে একটা পিলার ছিল। দেখতে ভাল লাগত না বলেই সেটাকে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে এই ক্যাবিনেট। অভিনব আইডিয়া নিঃসন্দেহে।

ড্রয়িং রুমের সঙ্গেই লম্বাটে ডাইনিং এরিয়া আর ওপন কিচেন। ছিমছাম, কোনও আতিশয্য নেই। ঠিক যেটুকু আসবাব প্রয়োজন সেটুকুই রেখেছেন কেয়া। কাঠের টেবল ঘিরে ছ’জনের বসার জায়গা। একইসঙ্গে রান্নাঘর। গোছানো আধুনিক মডিইলার কিচেন। তারপরেই দুটো বেডরুম। দুটো ফ্ল্যটের মাধে কাচ দিয়ে পার্টিশন করা আছে। যাতে পরবর্তীকালে এককভাবেও ব্যবহার করা যায় এই ফ্ল্যাট। অন্য দিকের ড্রয়িং রুমটাকে ঠাকুক ঘরে পরিণত করা হয়েছে। বারান্দা এখন সার্ভিস ব্যালকনি। প্রধান ড্রয়িং রুমের সঙ্গে অবশ্য সুন্দর বড় বারান্দা আছে। মাস্টার বেডরুমে বাকি ফ্ল্য়াটের মতোই মিনিমাল আসবাব। ‘‘বাড়িতে একদাগা জিনিস থাকলে কেমন যেন লাগে। ক্লাটার ডিনিসটা আমাদের বা ছেলেদের কারও পছন্দ নয়। তাই ছিমছামভাবে সাজিয়েছি। পরিষ্কার, পরিপাটি থাকবে। দেখতে অগোছালো লাগবে না। ’’ জানালেন কেয়া। বেডরুমের ছবিটা ঠিক তাই। এখানেও আপহোলস্ট্রিতে লাল আর মেরুনের প্রাধান্য। আলমারির জন্য যে জায়গা বরাদ্দ ছিল সেখানে ড্রেসিং ইউনিট বানিয়েছেন। আর অন্যদিকে রয়েছে দেওয়াল জোড়া আলমারি। অতিরঞ্জন বা বাহুল্যর চিহ্ন নেই। আর এটাই এই অন্দরমহলের সৌন্দর্য। দেখানোর প্রগলভতা নেই। আছে শুধুই আন্তরিকতা ও ভালবাসা।

facebook
facebook