vvvv
Interior
Sananda fashion

আধুনিক অন্দরসাজ

নিজেরা যেমন আধুনিক মনস্ক, বাড়িও সাজিয়েছেন সেই ধাঁচেই। কনটেম্পোরারি লিভিংয়ে বিশ্বাস করেন বিশ্বজিত্‌ ও সুপ্রিয়া ঘোষ। দেখে এসে লিখলেন ঋতুপর্ণা রায়।

g

ঝাঁ চকচকে বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট। গেটে সিকিউরিটিরির কড়া নিরাপত্তা। ক্যামেরা নিয়ে হাজির হতেই জেরার মুখে পড়তে হল। বাড়ির মালকিনকে ফোন করে আস্বস্ত হওয়ার পরই মিলল উপরে ওঠার ছাড়পত্র। আমাদের গন্তব্য ৩৪ তলা। বলা ভাল ৩৪ ও ৩৫ তলা। কারণ দুটো ফ্লোর জুড়েই সুপ্রিয়া ঘোষের সাজানো ডুপ্লেক্স।

দরজা দিয়ে ঢুকেই ছোট্ট প্যাসেজ। তারপরেই রান্নাঘর। লাল- সাদা, কেতাদুরস্ত মডিউলার। দরজা ভেঙে আর্চ করা হয়েছে। অনেকটা ওপেন কিচেনের মতো দেখতে লাগে। রান্নাঘরে একটা খুশি খুশি ভাব আনার জন্যে হলুদ, কমলা, অফ হোয়াইটের মতো রং ব্যবহার করা বয়েছে দেওয়ালে। একটা দেওয়া দিল্লি থেকে আনা বিশেষ টাইল লাগানো। দেখলে মনে জেমস ক্লিপ দিয়ে কফি মাগ, চায়ের কাপ ঝোলানো আছে।

রান্নাঘর ছাড়িয়ে ড্রয়িং ডাইনিং এরিয়া। ঝকঝকে মার্বলের মেঝের উপর একদিকে সিক্স সিটার আধুনিক ডাইনিং টেবল, অন্যদিকে সফিস্টিকেটেড লেদার সোফা। ডাইনিং এরিয়ার লাগোয়া দেওয়ালে রট আয়রনের আড়াই ফুট ওয়াল হ্যাঙ্গে দেখা যায় শহর কলকাতার স্কাইলাইন। “আমি এটা বিশেষ অর্ডার দিয়ে বানিয়েছি। কোনও এক লন্ডনের রেস্তরাঁ কলকাতার থিমের উপর বানাতে দিয়েছিস। দেখে এত ভাল লেগেছিল যে আমার দেওয়ালের আয়তন অনুযায়ী ছোট আকারের একই জিনিস বানাই।” জানালেন শ্রীমতি ঘোষ। ডাইনিং-ড্রয়িংয়ের সঙ্গে লাগোয়া টেরেস বেশ অভিনব। “টেরেসগুলোর জন্যে এই প্ল্যাটটা পছন্দ হয়েছিল। বারান্দার তো তাও একটা সীমিত পরিশর থাকে, টেরেস হলে বাড়িটা যেন আরও খোলামেলা দেখায়। উপরের তলায়ও এরক আর একটা টেরেস আছে।” এক গাল হেসে বললেন গৃহকর্ত্রী। টেরেসটা যে ওঁর কতটা প্রিয় তা তার সাজ দেখেই বোঝা যায়। পুরোটাই পাথরখচিত বলা যায়। মাটিতে হলুদ পাথর, তো দেওয়ালে খয়েরি আর বলুদ পাথর সাজানো। ছাদটা এতটাই খোলামেলা অনেকদূর পর্যন্ত দেখা যায়। এই তলায় ঘর বলতে একটাই। বাড়ির দুই খুঁদে সদস্যের জন্যে। ছেলে বলে ঘর ও বাথরুমে সাদা ও নীলের আধিপত্য। ছোট ছোট নীল এলইডি স্ট্রিপ লাগানোর ফলে ঘরে সুন্দর একটা মায়াবী আবহ আছে।

সিঁড়ি উঠে দোতলায় চলে গেছে। ওঠার সময় চোখে পড়ে দেওয়াল জুড়ে করা ওরলি পেন্টিং। আদিবাসীদের যাপনচিত্র নিখুঁতভাবে ধরা পড়েছে। সিড়ির ল্যান্ডিংয়ে দাঁড়ানেই মনে হয় কোনও মনাস্ট্রিতে তলে এসেথেল। দেওয়াল জুড়ে কালো পাথর খচিক বিশাল বদ্ধর মুখ, মানানসই টাইল দিয়ে বর্ডার করা। উল্টোদিকের টেবলে আবার মেহগনি কাঠের বুদ্ধ মূর্তি সাজানো। “যে কোনও ধর্মের থেকে আমার কেন জানি না মনে বৌদ্ধ ধর্মে শান্তি আর সংহতি অনেক বেশি। আর তাই জন্যে বাড়িতে এগুলো করিয়েছি। আমার ভীষণ প্রিয়।” এখানেই ভারি সুন্দর বসার ব্যবস্থা করা আছে। দেওয়াস জোড়া কাচ আর তার ঠিক সামনেই মোটা গদি পাতা। সোফা রেখে এখানটা ভারি করতে চাননি বলেই এই আয়োজন। শুয়ে-বসে দিব্যি আড্ডা মারা যায়। এই তলাতেও ওপেন টেরেস আছে, তবে থিম একেবারেই অন্য। ওয়াটার ট্রিটমেন্ট করে একরকমের কয়ার পাতা হয়েছে মাটির বদলে। ঘাসের লন আছে। গাছও আছে বেশ কিছু। শিউলি থেকে শুরু করে জবা, লম্বা লম্বা বাঁশ। নিজেই যত্ন করেন বাড়ির মালকিন। বসার ব্যবস্থাও করা আছে। লো হাইট আসবাব দেখতে বেশ সুন্দর লাগে।

ঘরের সংখ্যা মোট দু’ই। একটা থাকেন স্বামী-স্ত্রী, অন্যটা শ্বশুরের। শ্রীমতি ঘোষের ঘরে সব আসবাবই বেশ আধুনিক। ওয়াল ক্যাবিনেটে ভিনিয়ারের সঙ্গে মাদার অফ পার্ল মেশানো হয়েছে। দরজায় আবার ছোট ছোট গর্ত করে ডোকরার হিউম্যান মোটিফ সাজানো। এই বাড়ির দেওয়াল সাজও অভিনব। সবাই যেখানে ছবি ফ্রেমবন্দি করে দেওয়ালে লাগায়, সেখানে নানা জায়গা থেকে সংগ্রহ করে আনা আর্টিফ্যাক্টস ফ্রেম করে দেওয়ালের উপর রাখা আছে। কোথাও জাপানি পাথা, কোথাও ব্যাগ। আলাদা ডিসপ্লে ইউনিটও আছে অবশ্য। দেওয়ালেই সুন্দর র‌্যাকের ব্যবস্থা, সেখানে শোভা পাচ্ছে বাকিংহাম থেকে আনা ওয়াইন গ্লাস, ব্রাজ়িলের ছোট্ট গ্রাম থেকে আনা তীর-ধনুক, আরও কত কী! চিন্তাভাবনা থেকে এগ্জ়িকিউশন, সবকিছুই বেশ আধুনিক। বাড়ির বাসিন্দাদেরও কনটেম্পোরারি অন্দরসাজই পছন্দ।“ ট্প্যাডিশনাল সাদ খুব ভাল লাগে, কিন্তু আমার জায়হা তো কুব বড় নয়, তাই কনটেম্পোরারি ইন্টিরিয়র চেয়েছিলাম। যেতে স্লিক ও স্লিম লাগে।” জানেলেন সুপ্রিয়া ঘোষ। সত্যি তো অন্দরসাজ আয়তন, পরিমাপের উপরই নির্ভর করে। তবেই না অন্দরমহল আর অন্দরসাজ একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠতে পারে।

facebook
facebook