Interior
Sananda fashion

রুচিশীল অন্দরসাজ
বেঙ্গালুরুর দশতলার উপরে ফ্ল্যাটকে মনের মতো করে সাজিয়েছেন মণিকুন্তলা কিশেন। বাড়ির প্রতিটা কোনায় সৃজনশীলতা এবং রুচির পরিচয় স্পষ্ট।

g

ঘরের প্রতিটা কোণা সযত্নে সাজানো অথচ একবারও মনে হয় না আতিশয্য। ফ্রি স্পেসের অভাব নেই কোথাও। ঘরে একই সঙ্গে রয়েছে সাবেকি কাঠের ফার্নিচার আবার কন্টেম্পোরারি ডিজ়াইনের আসবাব। ঠিক এইভাবেই ঘর সাজাতে চেয়েছিলেন মণিকুন্তলা কিশেন। বেঙ্গালুরুর আউটার রিং রোড। মূল শহর থেকে বেশ কিছুটা দূরে মন্ত্রি এসপানা রোডে উপর বিশাল কমপেক্সের ১০ তলার ফ্ল্যাটে তাঁদের ছোট্ট সুখি পরিবার। মণিকুন্তলার অন্দরে ঢুকতেই একরাশ ভাললাগায় মনটা ভরে ওঠে। একেবারে পরিপাটি অন্দরমহল। চারদিকে ওয়র্ম কালারস। হালকা হলুদ আলো মায়াবি আবহ সৃষ্টি করেছে। তাঁদের ঘরে হলুদ লাইটের আধিক্যই বেশি। জিজ্ঞেস করায় জানালেন, “আমার হলুদ আলোটাই বেশি প্রিয়। তাই ডেকোরেশনে হলুদ আলোই প্রাধান্য পেয়েছে।” সত্যিই, ঘরের চারদিকে নানারকম লাইট রয়েছে। কোথাও স্পট লাইট আবার কোথাও সুন্দর ঝোলানো লাইট। মণিকুন্তলা জানালেন, “ঘরের ডেকোরেশনে লাইটে খুব গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে লাইট দিয়ে সাজালে ঘর এক অন্য মাত্রা পায়।” গৃহকর্ত্রীর কথা যে সত্যি তা একবার তাঁর ঘরের চারদিকে তাকালেই বোঝা যায়।অন্দরের প্রতিটা কোণা অত্যন্ত সযত্নে সাজিয়েছেন গৃহকর্ত্রী। রুচি, সৃজলশীলতায় বিশ্বাস করেন। কলকাতায় বড় হয়েছেন, বাঙালি, তবে দীর্ঘদিন বেঙ্গালুরুতে। এই ফ্ল্যাটে অবশ্য এসেছেন বছর দেড়েক হল। হাত পা ছড়িয়ে থাকার ইচ্ছেতেই ৪০০০ স্কোয়ার ফিটের এই ফ্ল্যাট। ইন্টিরিয়র ডিজ়াইনার বাড়ি সাজালেও, পুরো ভাবনাচিন্তা বাড়ির বাসিন্দাদেরই। “আমি ভালবাসি ক্লাসিক লুক। পুরনো আসবাব, সাবেকি জিজ়াইন আমাকে টানে। তাই বাড়িতে যে পুরনো ফার্নিচার ছিল তা ফেলে দিতে পারিনি। নতুন ভাবে সাজিয়ে নিয়েছি নিজের ঘরে। এদিকে হাজ়ব্যান্ড ভালবাসেন আধুনিক ডিজ়াইন। তাই দু’জনের পছন্দ মাথায় রেখেই আমরা আমাদের ঘর সাজিয়ে তুলেছি। আমাদের যিনি ইন্টেরিয়র ডিজ়াইনার তাঁকে আমাদের পছন্দের কথা বলেছিলাম। তিনি সুন্দরভাবে আমাদের ইচ্ছে অনুযায়ী ঘর সাজিয়ে দিয়েছেন।” বলতে বলতে গলায় স্পষ্ট খুশির আমেজ। আর সত্যিই তো বাড়ির সাজ তো তখনই সম্পূর্ণতা পায়, যখন তা বাড়ির সদস্যদের পছন্দ-অপছন্দ, তাঁদের রুচিকে প্রতিবিম্বিত করে।

৪০০০ স্কোয়্যার ফিটের ফ্ল্যাটে বেশ খোলামেলা মেজাজ। আর শুধু বিস্তৃতির জন্যে নয়। আসবাব এমনভাবে ডিজ়াইন এবং প্লেস করা হয়েছে যাতে অন্দরমহল ক্লাটারড না মনে হয়। আর দশতলা বলে হাওয়া বাতসও ভাল খেলে। ঢুকেই সাজানো গোছানো ড্রইংরুম। দশতলা থেকে অসামান্য ল্যান্ডস্কেপিং-এর ভিউ পাওয়া যায়। নীল রঙের রেফারেন্স ঘরে একটা আলাজা আমেজ ক্রিয়েট করে। ডাইনিং স্পেসের লাগোয়া ওপেন কিচেন। পরিষ্কার, গোছানো। মুলত কাঠের মডিউলার কিচেন। উপরের স্টোরেজ অবশ্য কাচের। ভিতরে আলো ফিট করা হয়েছে। সমস্ত আধুনিক গ্যাজেট সম্পন্ন রান্নাঘরের মাঝখানে কাউন্টার আছে। টুকটাক জিনিস রাখার জন্যে খুব কাজের।

ড্রইংরুমের উল্টোদিকে ফ্যামিলি রুম। মণিকুন্তলাদের মোট তিনটে বেডরুম। মাস্টার বেডরুম ছাড়া ছেলে এবং মেয়ের জন্য আলাদা আলাদা রুম। মাস্টার বেডরুম বেশ বড়। ছিমছাম অথচ নিঁখুতভাবে সাজানো। ঘরে ঢুকতেই বেশ বড় বেড। ক্রিমরঙের দেওয়ালের কনট্রাস্টে ডার্ক ব্লু বেডকভার দেখতে বেশ ভাল লাগে। বিছানায় রাখা সাদা নীলের কম্পিনেশনের কুশান। দেওয়ালের একপাশে বেশ বড় সাবেকি ডিজ়াইনের টেবল। দেওয়ালে তিনটি পেন্টিং। হাতে আঁকা কলকাতা শহরের পেন্সিল স্কেচ। “আসলে আমার ছোটবেলা কেটেছে কলকাতায়। ওই শহরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার অনেক স্মৃতি।” মৃদু হেসে জানালেন মণিকুন্তলা। খাটের দু’পাশে কাঠের ছোট সাইড টেবল। বাঁ দিকের সাইড টেবলে একটি সুদৃশ্য ল্যাম্পশেড। বিছানা লাগোয়া দেওয়ালে তাঁদের ছেলে ও মেয়ের হাসিখুশি মুহূর্তের একটা বড় ছবি। মাস্টার বেডরুমের একদিকে একটি কাঠের প্যানেল। এখানেই টিভি লাগানো। মড়িকুন্তলা জানালেন, “টিভির পজ়িশনটা এমন যে বিছানায় শুলে টিভিটা ঠিক মাঝখানে হত না। তাই টিভিটা কাঠের প্যানেলটার সঙ্গে সেট করা হয়েছে। এটা ঠেলে সরিয়ে দেওয়া যায়। টিভি দেখার সময় আমরা নিজেদের পছন্দ মতো অ্যাডজাস্ট করেনি।” বুদ্ধির তারিফ করতেই হয়। এই ঘরেরই একদিকে ছোট্ট ডের্সিং কাম স্টোরেজ রুম। এখানে ছোট্ট রুমের দেওয়াল জোড়া ওয়র্ডরোব। এছাড়া ভিতরে আয়নাও রয়েছে। সাজগোজের পাট ওখানেই সেরে ফেলা যায়। স্টোর রুমে যাওয়ার জন্য কনভেশনাল দরজা না করে কাঠ আর কাচের কম্বিনেশনের সুন্দর প্যানেল বানিয়েছেন তাঁরা। ঢোকার জন্য স্লাইডিং ডোর। এতে যেমন স্পেশ সেভ হয়েছে তেমনই দেখতেও দারুণ ভাল লাগে।

মেয়ের ঘরের থিম কালার ক্রিম এবং সবুজ। কলেজে পড়া মেয়ে পড়াশোনার জন্য বিদেশে রয়েছে। মেয়ের পছন্দ ছিমছাম অন্দরসাজ। ঘরে ঢুকলে তা বোঝা যায়। ঘরে ঢুকেই চেখে পড়ে মেয়ের বেড। বেড সাইড টেবলে সুদৃশ্য টেবল ল্যাম্প। ঘরের দেওয়ালের রঙের সঙ্গে মানানসই কুশান। একই রঙের রেফারেন্স লম্বা ঝুলের রিচ ফ্যাব্রিকের পরদায়। উলটো দিকের দেওয়ালে ড্রেসিং টেবল। আয়নার পাশের শেলফে ছোট ছোট শোপিস রাখা। পাশে টেবলের উপর পিয়ানো রাখা। মেয়ের গান বাজনার প্রতি শখ রয়েছে বোঝা যায়। টেবল লাগোয়া স্টাডি এরিয়া। অ্যাসিম্যাটিকাল শেফের শেলফ দেখতে বেশ ভাল লাগে।

ছেলের ঘরের সাজটা কিন্তু আবার একেবারে আলাদা। ক্লাস টেনে পড়া ছেলে ফুটবলের দারুণ ভক্ত। নিজেও ফুটবল খেলে। গিটার বাজায়। লাল, কালো আর সাদার দুর্দান্ত কম্বিনেশনে ঘরটা দারুণ ভাইব্র্যান্ট লাগে। বিছানা লাগোয়া দেওয়ালে লাইট আর ডার্ক ব্লুর লম্বা লম্বা স্ট্রাইপ। উলটো দিকের দেওয়ালে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের বিশাল ফ্ল্যাগ। একদিকে স্টাডি কাম কমপিউটার টেবল। জানলায় লম্বা ঝুলের গাঢ় লাল পরদা। বিছানার চাদরে এবং কুশানেও ওই তিনটি রঙের রেফারেন্স স্পষ্ট। সব মিলিয়ে বলতে হয়, শৌখিনতার পরিচায়ক এই অন্দরমহল, কিন্তু প্রাণের পরশও রয়েছে। সত্যি রেয়ার কম্বিনেশন।

facebook
facebook