Monemone
Sananda fashion

অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার

ওসিডি আসলে একটাই অসুখ যার প্রকাশ কখনও চিন্তায়, কখনও কাজে, কখনও বা দুটোতেই। যে মানুষ এর শিকার, তাঁকে অর্থহীন কোনও কাজ অনিচ্ছাসত্বেও বারবার করে যেতে হয়।একটি আলোচনা ।

g

আমার বয়স ৫০ বছর। আমার সমস্যা হল আমি খুব এঁটো মানি। এই নিয়ে বাড়িতে নিয়ে সমস্যা হয়। ছেলে মেয়েরা কিছুতেই এঁটো মানতে চায় না। তারা বলে আমি ওসিডি-এর শিকার। আসলে কোথাও এঁটো আছে দেখলে আমার সারা গা কেমন করে ওঠে। যতক্ষণ না ধুয়ে মুছে সাফ করছি স্বস্তি পাই না। ফলে সারাদিনই হাতে মোছার কাপড় নিয়ে ঘুরি। আমি কি সত্যিই ওসিডি-র শিকার? যদি তাই হয় আমার কি করা উচিত? আমি কি এর থেকে সেরে উঠব?

অতিরিক্ত এঁটো মানাটা যে একটা সমস্যা এটা আপনি নিজেও অনুভব করেছন। যেকোনও অনাবশ্যক কাজ অনবরত করে যাওয়াটা অবশ্যই একটা মানসিক রোগ য়ার পোশাকি নাম ‘অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার’ বা সংক্ষেপে ওসিডি। আমরা বাংলায় এটাকে বলি বাতিক। ‘এঁটো’ মানাটাকে আপনি হয়তো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অঙ্গ হিসেবেই দেখেন। আবার আপনার মতোই কেউ কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে স্নান করেন অথবা বহুবার বাসনকোসন ধুয়ে কিংবা ঘরদোর মোছামুছি করে কলুষমুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেন। বছরের পর বছর একই জিনিস করতে করতে এমন এক বদভ্যাসে জড়িয়ে পড়েন যা থেকে আর নিষ্কৃতি মেলে না। তাঁদের আচরণে আশেপাশের মানুষ বিরক্ত হন, বিব্রত বোধ করেন, তবু রোগগ্রস্থ মানুষটি নিজেকে অপ্রয়োজনীয়, অর্থহীন কাজ থেকে নিজেকে বিরত করতে পারেন না।

ওসিডি আসলে একটাই অসুখ যার প্রকাশ কখনও চিন্তায়, কখনও কাজে, কখনও বা দুটোতেই। অবসেশনের প্রকাশ চিন্তায়, অর্থাৎ অবসেশনের রোগী শুধু উদ্ভট চিন্তাই করে চলেন, অথবা সঠিক ভাবে বললে চিন্তাগুলোকে মন থেকে সরাতে পারেন না। কমপালশনের প্রকাশ কাজে। যে মানুষ এর শিকার, তাঁকে অর্থহীন কোনও কাজ অনিচ্ছাসত্বেও বারবার করে যেতে হয়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে একই রোগীর মধ্যে দু’রকমের উপাদানই দেখতে পাওয়া যায়। ধরা যাক কারওর মনে সবসময় ভয়, এই বুঝি হাতে নোংরা জীবাণু এসে লাগল, এই চিন্তা থেকেই বারবার হাত ধুয়ে যাওয়া এবং তাতেও যে সংশয় কমে তা নয়। দেখা যাচ্ছে অসুখটার প্রকাশ ঘটছে চিন্তায় এবং সেই চিন্তারই প্রতিফলন ঘটছে রোগীর আচরণ বা কাজের মধ্যে।

উদ্বেগ উৎকণ্ঠা থেকেই শুচিবাই রোগের সূচনা। রোগীর অবচেতন মনে একটা ধারণা তৈরি হয় জীবনে সে যা কিছু পেয়েছে তা সবই ক্ষণিকের ব্যাপার। সবকিছু হারানোর ভয়ে কতকগুলি কাজ সে বারবার করে যায়। এটা তাঁর কাছে টেনশন থেকে বাঁচার একটা প্রক্রিয়া।

বাতিকে অসুখে যাঁরা বোগেন তাঁরা সাধারণত সংশয়বাদী হয়ে থাকেন। কোনটা ছিক আর কোনটা বেঠিক তা নিয়ে এদের মধ্যে সবসময় অন্তর্দ্বন্দ্ব চলতে থাকে। খুঁতখুঁতে স্বভাবের জন্য অন্যান্যদের সহ্গে খাপ খাওয়াতে এঁদের অসুবিধে হয়। এরা সাধারণত রসকষহীন, অন্তমুর্খী ও আত্মকেন্দ্রিক হয়ে থাকেন।

বাতিক সারানোর জন্য নানাধরনের উৎকণ্ঠানাশক ওষুধ পাওয়া যায়। একে বারবার একই কাজ করার প্রবণতা কমে। আশেপাশের মানুষের সহমর্মিতা ওসিডি রোগীদের সেরে উঠতে সাহায্য করতে পারে।

facebook
facebook