vvvv
Monemone
Sananda fashion

ছেলে মায়ের প্রতি অতিরিক্ত পসেসিভ

সেপারেশন অ্যাংজাইটি অর্থাৎ মায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন হবার ভয় থেকেই শিশু নিশ্চিত হতে চায় যে মা তাকে কখনই ছেড়ে যাবে না। মা তাকে সবসময় ভালবাসবে এবং আগলে রাখবে। এর থেকেই শিশুর মধ্যে, বিশেষ করে পুরুষ-শিশুর মধ্যে মায়ের ওপর একচ্ছত্র অধিকারবোধ জন্মায়।

g

আমার সাত বছরের ছেলে ওর মা অর্থাৎ আমার স্ত্রীর ব্যপারে অত্যন্ত পসেসিভ। অন্য কারও সঙ্গে নিজের মাকে কথা বলতে দেয় না। অদ্ভুত ধরনের আবদার করে ওর মায়ের কাছে। ওর বক্তব্য মা খালি ওকেই ভালবাসবে, অন্য কারও সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখবে না। আমার স্ত্রী যদি অন্য কোনও বাচ্চাকে আদর করে ও প্রচন্ড রেগে যায়, চিৎকার করতে শুরু করে। মাকে সবসময় নিজের কাছে রাখতে যায়। আমার স্ত্রী যদি অন্য কোনও কাজে ব্যস্ত থাকেন, তা হলে বলে যে মা আর ওকে ভালবাসেনা। আমার সঙ্গে পর্যন্ত ভাল করে কথা বলে না। সারাক্ষণ মাকে বলে ওকে আদর করতে, জড়িয়ে ধরতে, আই লভ ইউ বলতে। বুঝতে পারছি না ওর আচরণে কোনও অসঙ্গতি আছে কি না, না কি এটা স্বাভাবিক। কী করব বলে দিলে উপকার হয়।
মলয় ধর, ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক

শিশুকে বড় করে তোলার প্রাথমিক দায়িত্ব মায়ের। নাড়ি কাটার মধ্যে দিয়ে মায়ের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হবার মুহূর্ত থেকেই শিশু অসহায়। যে কোনও প্রাণীর তুলনায় মানুষের শৈশব যেমন অনেক বেশি দীর্ঘ তেমনিই শৈশবে মা এবং বড়দের ওপর নির্ভরতাও তার অনেক বেশি। মনের দিক থেকে ছেলেমেয়েকে কতটা শক্তপোক্ত করে তোলা যাবে তা অনেকটাই নির্ভর করে মায়ের মানসিকতার ওপর।

শিশুর সঙ্গে মায়ের অ্যাটাচমেন্ট বা বন্ধনের ধরনটা কেমন হবে সেটা বুঝতে হলে মায়ের ব্যক্তিত্ব কেমন সেটা জানা দরকার। মা যদি উৎকণ্ঠাপ্রবণ হন, পরিবারে যদি অশান্তি থাকে, স্বামী অথবা শ্বশুরবাড়ির লোকজনের আচরণের জন্য তিনি যদি মানসিক চাপের মধ্যে থাকেনতবে তার জন্য নিজের বাচ্চার প্রতি উদাসীনতা অথবা তাকে অতিরিক্ত আঁকড়ে ধরার মানসিকতা দেখা দিতে পারে। যে মা নিজেই খুব পজেটিভ, ছেলেমেয়েকে চোখে হারান। সন্তানের জন্যই নিবেদিত-প্রাণতার ছেলেমেয়েও মাকে আঁকড়ে ধরে বড় হতে শেখে। শৈশবের শুরু থেকেই এরা মা ছাড়া অন্য কারওর কাছে গেলেই অসহায় বোধ করে। অন্য শিশুদের সঙ্গে মেলামেশায় স্বচ্ছন্দ বোধ করে না। স্কুলে যাবার সময় এবং স্কুলে গিয়েও মায়ের জন্য কান্নাকাটি করে।

সেপারেশন অ্যাংজাইটি অর্থাৎ মায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন হবার ভয় থেকেই শিশু নিশ্চিত হতে চায় যে মা তাকে কখনই ছেড়ে যাবে না। মা তাকে সবসময় ভালবাসবে এবং আগলে রাখবে। এর থেকেই শিশুর মধ্যে, বিশেষ করে পুরুষ-শিশুর মধ্যে মায়ের ওপর একচ্ছত্র অধিকারবোধ জন্মায়। মা শুধু একলা তারই, আর কারওর নয় এটা মাকে মনে করিয়ে দেবার একটা প্রক্রিয়া হল যে মাকে দিয়ে বারবার বলানো যে মা তাকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসে। এই কারণেই ক্রমাগত মায়ের কাছ থেকে আদর পাবার আকাঙ্খাও তৈরি হয়।

শুরু দিকে শিশুর এই চাহিদাকে প্রশ্রয় দিতে শুরু করলে যে পরিণতি হয় তা আপনি নিজের স্ত্রীর অবস্থা দেখে বুঝতে পারছেন। প্রথম প্রথম ছেলের চাহিদায় উনি খুশি হতেন, ছেলে যে তাকে এত করে চায় সেটা তার মায়ের প্রতি ভালবাসা বলে ভুল করেন। ছেলের আবদার এখন অত্যাচারের পর্যায়ে পৌঁছছে বলেই আপনার স্ত্রীকে শক্ত হতে হবে। আপনার ছেলের এখন যা বয়স তাতে ওর একা শোওয়া, নিজের কাজ যতটা সম্ভব নিজে করার কথা। সম্ভবত ওর মায়ের এবং হয়তো আপনারও প্রশ্রয়ে ও পুরোপুরি মা-নির্ভর হয়ে গিয়েছে। একদিক যেমন ওর স্বার্থপরের মতো আচরণ, অন্যদিকে মায়ের ওপর নির্ভরতা। চিত্‌কার করে সবকিছু আদায় করাএটা থেকে ওকে বের করতে হলে মাকে ওর কাছ থেকে কিছুদিনের জন্য সরিয়ে নেওয়া জরুরি। স্কুল থেকে ফিরে মাকে দেখতে না পেয়ে প্রথম প্রথম চিত্‌কার- চেঁচামেচি-কান্নাকাটি করলেও একসময় ওকে মায়ের অভাব মেনে নিতেই হবে। ভবিষ্যতে অন্যদের সঙ্গে মানিয়ে নেবার জন্যেও এটা জরুরি।

facebook
facebook