vvvv
Monemone
Sananda fashion

স্বামী অ্যালকোহলে আসক্ত

যাঁরা ক্রমাগত মদ খেতে খেতে মদের ওপর নির্ভরশীল, প্রতিদিন মদের নেশা করার দরকার হয় তাঁরা সব সময়েই তাঁদের আসক্তির পিছনে একটা যুক্তি খাড়া করেন। আলোচনায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।

g

আমার স্বামীর বয়স ৩৩ বছর। গত দুই বছর ধরে বিভিন্ন পারিবারিক সমস্যার জেরে অ্যালকোহলে আসক্ত হয়ে পড়েছেন। সম্প্রতি মদ না খাওয়ার জনে উইথড্রল সিম্পটম দেখা যায়। ফিটও হয়। হাসপাতালে থাকতে হয় আট দিন, দু’দিন আবার ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে। ডাক্তার রিহ্যাবিলিটেশন ও ডি-অ্যাডিকশন সেন্টারে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু আমার স্বামী যেতে চান না। কথা দিয়েছেন যে আর ড্রিংক করবেন না। ডাক্তারও বলেছেন যে জোর করে নিয়ে গেলে কোনও লাভ হবে না। উপকার তখনই হবে যদি উনি নিজে থেকে রিব্যাহিলিটেশন সেন্টারে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। আমার মনে হয় না ও নিজের জোরে অ্যালকোহল থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকতে পারবে। ওঁর পায়েও প্রচন্ড ব্যথা। কীভাবে ওঁকে সুস্থ করব বুঝতে পারছে না। উনি আবার মানতেই চান না যে ওঁর কোনও সমস্যা আছে এবং মনে করেন ইচ্ছে করলেই মদ ছাড়তে পারবেন। আমরা সবাই খুব দুঃশ্চিন্তায় আছি। কীভাবে পরিস্থিতি সামলাব জানতে চাই।
নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক

আপনার স্বামী মাত্র ৩৩ বছর বয়সেই মদে আসক্ত হয়ে পড়েছেন এবং আপনার স্বামীর সঙ্গে সঙ্গে আপনারও ধারণা আপনার স্বামীর এই আসক্তির পিছনে রয়েছে সাংসারিক অশান্তি। যারা ক্রমাগত মদ খেতে খেতে মদের ওপর নির্ভরশীল, প্রতিদিন মদের নেশা করার দরকার হয় তারা সব সময়েই তাদের আসক্তির পিছনে একটা যুক্তি খাড়া করেন। কারও ক্ষেত্রে প্রেমে ব্যর্থতা, কারও ক্ষেত্রে অফিসে কাজের চাপ, কারও ক্ষেত্রে আবার পারিবারিক বা দাম্পত্য অশান্তি। পরিবারের লোকেদের প্রচ্ছন্ন সমর্থন থাকে বলেই এইসব যুক্তিগুলিকে খাড়া করেন নেশায় আসক্ত মানুষেরা।

সম্ভবত আপনার স্বামীও কম বয়সেই মদ খেতে শুরু করেছিলেন। হয়তো বন্ধুদের পালায় পড়ে কিংবা পরিবারের অন্য কাউকে দেখে সামাজিক অনুষ্ঠান বা আড্ডায় মদ খাওয়া শুরু হয়েছিল। গত কয়েকদশকে আমাদের দেশে সোশ্যাল ড্রিঙ্কিং অবিশ্বাস্য ভাবে বেড়েছে এবং এ ব্যাপরে সামাজিক বাধানিষেধ ক্রমশ শিথিল হয়েছে। যারা মনের দিক থেকে দুর্বল, স্ট্রেস এবং অবসাদ কাটাতে তারা মদ্যপানের দিকে ঝোঁকেন। যদিও মদের নেশা শেষপর্যন্ত মানুষকে অবসাদের দিকেই ঠেলে দেয়। আনন্দের চটজলদি উপায় হিসেবেও মদের নেশাকে বেছে নেন অগণিত মানুষ।

অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে লিভার, হার্ট, ব্লাড-প্রেসারের সমস্যার পাশাপাশি এপিলেপসির মতো ফিট, প্রলাপ বা ডেলিরিয়াম, ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিশক্তি লোপ, হ্যালুসিনেশন এবং ভ্রমবিকার বা ডিলিউশন দেখা দিতে পারে। অবসাদের কথা তো আগেই বলেছি। অ্যালকোহলে আসক্ত মানুষ হঠাৎ করে মদ খাওয়া ছেড়ে দিলে উইথড্রয়াল সিনড্রোম হিসেবে একই ধরনের উপসর্গগুলি সাময়িকভাবে ফিরে আসে। আপনার স্বামীর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। গোপনে মদ ছাড়াতে গিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই যারা বাজার থেকে ওষুধ জোগাড় করে নিজের স্বামী অথবা ছেলেকে খাওয়াতে যান তারা যে কত বড় ঝুঁকি নেন, আপনার স্বামীর নার্সিং হোমের আইসিইউ-তে ভর্তি হবার ঘটনাটাই তার প্রমাণ। আসলে মদ এবং যে কোনও মাদকের নেশা ছাড়াতে হলে ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে হাসপাতাল বা ডি-অ্যাডিকশান সেন্টারে রেখেই তা করতে হয়। সে ক্ষেত্রে কয়েকদিনের মধ্যেই নেশার প্রতি শারীরিক নির্ভরতা কাটানো সম্ভব। অনেকেই মনে করেন, স্রেফ মনের জোরেই তারা নেশা ছেড়ে দিতে পারেন। দু’-চারদিন মদ না খেয়েও যে তারা থাকতে পারেন না তা নয়, তবে শেষ পর্যন্ত মনের দুর্বলতা শতকরা নিরানব্বই ভাগ অ্যালোকহিলককে নেশার দিকে আবার ঠেলে দেয়।

আপনার ডাক্তার যে বলেছেন, আপনার স্বামীর মধ্যে মদের নেশা থেকে নিষ্কৃতি পাবার আকাঙ্খা না জাগলে ডি-অ্যাডিকশনে পাঠিয়েও যে লাভ নেই, সেটা খাঁটি সত্যি। ডি-অ্যাডিকশন এবং মাসের পর মাস রিহ্যাবিলিটেশন প্রতিষ্ঠানে থেকে কাউন্সেলিং করানোর পরও শতকরা ৮৫ জন মানুষ ১৫ দিন থেকে ৩ মাসের মধ্যে নেশার জগতে ফিরে যান।

আপনার স্বামীর ক্ষেত্রে নতুন নতুন শারীরিক উপসর্গগুলি যদি যথেষ্ট ভয় জাগাতে পারে এবং নেশা ছাড়ার জন্য প্রেরণা জোগাতে পারে তবেই একমাত্র কাজ হতে পারে। বেশ কিছুদিনের জন্য ওনাকে রিহ্যাবে যাবার জন্য রাজি যেমন করাতে হবে, তেমনি ফিরে আসার পর নেশার দিকে আবার চলে না যান তার জন্য কাউন্সেলিং করানো যেতে পারে। অ্যালকোহলিক অ্যানোনিমাস বা অ্যাল-অ্যাননের মতো সংস্থাও আপনাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করতে পারে।

facebook
facebook