vvvv
Monemone
Sananda fashion

জ্যোতিষির ভবিষ্যদ্বাণীতে খুব ভয় পেয়ে গেছি

জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাস রাখা নিয়ে কোনও মন্তব্য না করেও এটুকু বলা যায়, যাঁদের মন দুর্বল, যাঁরা সমস্যার চটজলদি সমাধানে বিশ্বাসী, তাঁরাই সাধারণত জ্যোতিষীদের কাছে গিয়ে হাত দেখান, কোষ্ঠিবিচার করেন, রত্ন ধারণ করেন। একটি আলোচনা।

g

আমার বয়স ৩৫ বছর। আমি ছোটবেলায় থেকেই লেখাপড়ায় ভাল। একটা ভাল অফিসে চাকরিও করি। আমি কোনওদিনই হাত দেখায় বিশ্বাস করতাম না। কিন্তু পড়াশোনা শেষ করে আমি অনেকদিন ধরে চাকরি পাচ্ছিলাম না। এই সময় আমার এক বন্ধু আমাকে এক জ্যোতিষীর কাছে নিয়ে যায়। উনি আমায় হাত দেখে বলেছিলেন আমি সামনের মাসেই চাকরি পাব। আশ্চর্যের বিষয় সত্যিই আমি পরের মাসে চাকরি পাই। এরপর আমার ওঁর প্রতি বিশ্বাস জন্মায়। ফলে আরও কয়েকবার ওই জ্যোতিষীর কাছে গিয়েছি। এবং তার বলা অনেক কথাই মিলে গিয়েছে। কিন্তু মাস চারেক আগে একটা ঘটনা ঘটে। আমি ওঁর কাছে গিয়েছিলাম হাত দেখাতে। উনি আমাকে হাত দেখে বলেছেন আমার রোড অ্যাক্সিডেন্টের যোগ আছে। এই কথা শুনে আমি খুব ভয় পেয়ে যাই। এই ঘটনার পর থেকেই থেকেই আমি প্রচণ্ড ভীতু হয়ে গিয়েছি। রাস্তায় বেরতে ভীষণ ভয় করে। মনে হয় যদি অ্যাক্সিডেন্ট হয়! এখন প্রায়ই অফিসে ছুটি নিয়ে বসে থাকি। কাজেকর্মে ভীষণ অসুবিধা হচ্ছে। খুব সমস্যার মধ্যে আছি। পরামর্শ পেলে উপকার হবে।
সুবল সরকার, রাজডাঙা

জ্যোতিষশাস্ত্রের সঙ্গে বিজ্ঞানের যে চিরন্তন বিরোধ তার কারণ যাঁরা জ্যোতিষচর্চা করেন তাঁরা বিজ্ঞানের নিয়ম পদ্ধতি মেনে তা করেন না। বিজ্ঞান যুক্তি নির্ভর, জ্যোতিষ অনেকটাই বিশ্বাস নির্ভর। জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাস রাখাটা ভুল না ঠিক তা নিয়ে কোনও মন্তব্য না করে এটুকু শুধু বলতে পারি যাঁদের মন দুর্বল, যাঁদের নিজের উপর আস্থা নেই, যাঁরা সমস্যার চটজলদি সমাধানে বিশ্বাসী, তাঁরাই সাধারণত জ্যোতিষীদের কাছে গিয়ে হাত দেখান, কোষ্ঠিবিচার করেন, রত্ন ধারণ করেন। এক জ্যোতিষীর কথা না মিললে অন্য জ্যোতিষীর কাছে যান। যাঁরা সংখ্যা গুনে ভবিষ্যতবাণী করেন, যাঁরা মন্ত্র-তন্ত্রের সাহায্যে বশীকরণ করেন, যাঁরা প্ল্যানচেটে আত্মা নামান, তাঁদের কাছেও দৌড়ান। ক্রনিক অসুখে ডাক্তার দেখালে ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই, অথচ হাজার হাজার টাকা দিয়ে তাবিজ কবচ ধারণ করেন, এমন মানুষ মোটেই বিরল নন।

অনেক মানুষই নিজের দুর্বলতা অন্যের সামনে প্রকাশ করতে চান না। আপনিও তার ব্যাতিক্রম নন। আপনি কোনওদিনই হাত দেখায় বিশ্বাস করেন না বলে দাবি করলেও এখন থেকে অনেক বছর আগে এক জ্যোতিষীর ভবিষ্যতবাণীর জন্যই আপনি চাকরি পেয়েছেন এমন একটা ভ্রান্ত ধারণা থেকে আপনি কখনই বেরতে পারেননি। আর একবার যখন জ্যোতিষীর কথা ফলেছে তখন রোড অ্যাক্সিডেন্টের ভবিষ্যতবাণীও যে ফলবেই, আপনার দুর্বল মন তা বিশ্বাস করতেও শুরু করেছে। আপনাকে যিনি ভয় দেখিয়েছেন তাঁর কাছে প্রতিকারের বিষয়টা জানতে চাইলেই নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে তার ব্যবস্থা তিনি নিশ্চয়ই করে দেবেন।

ভয় বা উৎকণ্ঠায় যাঁরা দিন কাটান তাঁদের চিকিৎসার একটা অন্যতম পদ্ধতি হল র‌্যাশনাল ইমোটিভ বিহেবিয়ার থেরাপি। এর উদ্দেশ্য ভীত সন্তস্ত্র মানুষটির মনে যুক্তিবোধ জাগানো। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যে তাঁর ভয়টা অমূলক তা যুক্তির সাহায্যে বোঝাতে পারলে ভয় থেকে তাঁকে বের করে আনা সম্ভব হবে। জ্যোতিষীদের নিজেদের এবং পরিবারের মানুষজনদের মধ্যে কতরকম বিপযর্য় ঘটে, তাঁরা নিজেরাই যে কত দুর্ঘটনার শিকার হন, তা চিকিৎসক আর মনোবিদদের অজানা নয়। তাঁদের ভবিষ্যতবাণী সঠিক হলে তাঁরা নিজেরা নিশ্চয়ই বিপদে পড়তেন না।

ভয় বা ফোবিয়া থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় বারবার সেই ভয়ের মুখোমুখি দাঁড়ানো। পথ দুর্ঘটনার ভয়ে যদি আপনি পথে বেরনো বন্ধ করে দেন, ঘরে বসে থাকেন, তাহলে আপনি নিজে এবং আপনার পরিবার আরও বড় বিপদের মধ্যে পড়বে। জ্যোতিষীর কথায় বিশ্বাস করতে চাইলে রাস্তাঘাটে চলার সময় বরং একটু বাড়তি সতর্কতা মেনে চলুন। কিন্তু ভয়ের কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে মানসিক রোগী হয়ে উঠবেন না। বাইরে বেরন এবং মনের জোর বাড়ানোর চেষ্টা করুন।

facebook
facebook