Monemone
Sananda fashion

স্বামীর উদ্ধত স্বভাব

আপনার স্বামী উদ্ধত স্বভাবের। অন্যের ওপর আধিপত্য দেখাতে পছন্দ করেন। আপনি সারাক্ষণ সংসারে খাটছেন, অথচ তার জন্য স্বামীর কাছ থেকে কৃতজ্ঞতা বা স্বীকৃতির বদলে সমালোচনা জুটছে! এই নিেয় একটি আলোচনা

g

আমার স্বামী ভীষণ ডমিনেটিং। আমি বাড়ির সবকাজ করি, ১৮ মাসের ছেলের দেখভাল করাও আমার দায়িত্ব। আমার স্বামীর বক্তব্য যে ভাল স্ত্রী সেই যে স্বামীর সব কথা মেনে চলে। ছেলের প্রতিও ওর কোনও টান নেই। বাজার করা, রান্না করা, ঘর পরিষ্কার করা, পরিবারের সবার যত্ন নেওয়ার পরও আমার স্বামী খালি অনুযোগ করেন। বলেন কোনও কাজই আমি ঠিকমতো করতে পারি না। এখনও আমার অনেক কিছু শেখা বাকি । উনি মনে করেন যে স্বামীকে সবদিকে থেকে খুশি রাখাই , স্ত্রীদের একমাত্র কর্তব্য। স্বামীর শারীরিক চাহিদা যদি স্ত্রী পূরণ করতে না পারে, তা হলে বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্কে স্বামী জড়াতেই পারেন। মনে হয় উনি আমাকে হুমকি দিচ্ছেন। ফলে আমি সব সময় আতঙ্কে থাকি। ইদানীং আমি ওঁকে দেখলেই বিরক্ত বোধ করি। উইকএন্ডে উনি বাড়িতে থাকলেই অস্বস্তি হয়। আমি ওঁকে আর সহ্য করতে পারছি না। এর কারণে আমি লজ্জিত, কিন্তু নিজের চিন্তাভাবনা আমি পাল্টাতে পারছি না। আমার মনে হয় বিবাহিত হয়েও আমি আদতে সিঙ্গল পেরেন্ট। আমি ওঁর সঙ্গে ঝগড়া বা অশান্তি করতে চাই না। এই পরিস্থিতে আমার ভূমিকা ঠিক কী হওয়া উচিত? জানালে খুব উপকৃত হব।
নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক

আপনার স্বামী উদ্ধত স্বভাবের। অন্যের ওপর আধিপত্য দেখাতে পছন্দ করেন। তার এই কর্তৃত্ব করার মনোভাব আসলে পুরুষ-শাসিত সমাজে নারীর প্রতি পুরুষের প্রভুত্ব। নারীকে নিয়ন্ত্রণ করার পুরুষের চিরাচরিত মানসিকতার প্রতিফলন। আপনি সারাক্ষণ সংসারে খাটছেন, রান্নাবান্না-বাজারঘাট সবই করছেন, ছোট ছেলের যাবতীয় দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছেন অথচ তার জন্য স্বামীর কাছ থেকে কৃতজ্ঞতা বা স্বীকৃতির বদলে আপনার কপালে সমালোচনা! এতে আপনার মনোবল নষ্ট হচ্ছে, আপনি হীনমন্যতায় ভুগছেন। আর এতে আপনার ওপর কর্তৃত্ব করতে সুবিধেই হচ্ছে আপনার স্বামীর। সাধারণত নারী যেহেতু অর্থনৈতিক দিক থেকে পুরুষের ওপর নির্ভরশীল, সেই নির্ভরতার সুযোগ নিতে চায় পুরুষরা। উপার্জন করাটাই যেন একমাত্র কাজ। সংসার সামলানো, ছেলেমেয়ে মানুষ করা, পরিবারের সকলের শরীর-স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখাটা সেই তুলনায় নেহাতই গৌণ। সত্যি কথা বলতে আপনার স্বামী পুরুষ-শাসিত সমাজেরই যর্থাথ প্রতিনিধি।

আপনার স্বামী আপনাকেই শুধু যে অবহেলা করেন তাই নয়, নিজের সন্তানের প্রতিও স্নেহ প্রকাশ করেন না। সম্ভবত ওর নিজের বেড়ে ওঠার মধ্যে কোনও অসঙ্গতি ছিল বলেই নিজের সন্তানকে স্নেহ-ভালবাসা থেকে বঞ্চিত রাখেন। উনি প্রভুত্ব করতে যতটা আগ্রহী, আপনার অথবা ছেলের দায়িত্বের ব্যাপারে ততটা নন, সেটা বুঝতে অসুবিধে হয় না। আপনি ওর প্রভুত্ব অস্বীকার করতে পারেন, এই ভয়ে উনি আপনাকে সব সময় আপনার কর্তব্যের কথা মনে করিয়ে দেন। এমন আচরণ সত্ত্বেও আপনাকে হয়তো নিয়মিত বিছানায় শুয়ে স্বামীর দৈহিক চাহিদা মেটাতে হয়। এতে সুখের বদলে আত্মগ্লানি বাড়ে। বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে যে ওর আগ্রহ আছে তা স্পষ্ট বোঝা যায় যখন উনি শারীরিক সম্পর্কে অসমর্থ স্ত্রীর বিপক্ষে এবং চরিত্রহীন স্বামীর স্বপক্ষে সওয়াল করেন। আপনি যে ওর প্রতি যথেষ্ট বিরূপ এমন একটা আশঙ্কা থেকেও আপনাকে সাবধান করার চেষ্টাও হয়তো করেন। একে এক ধরনের ব্ল্যাকমেলই বলা যায়।

দাম্পত্য যে আপনার কাছে আনন্দের বদলে ক্রমেই ভয়-উদ্বেগের উত্‌স হয়ে দাঁড়াচ্ছে, আপনার চিঠিতে তা স্পষ্ট। এই ভয় বা উদ্বেগের মোকাবিলা করার অনেকগুলো পথ আপনার সামনে রয়েছে। ওর প্রতি আপনি রাগ দেখাতে পারেন, নিজের আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে সাহায্য চাইতে পারেন। মানসিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনি পথ নিতে পারেন। যেহেতু আপনি স্বামীর সঙ্গে সংঘাতে যেতে চান না, তাই হয়তো এগুলোর কোনওটাই আপনি করতে চাইবেন না। যদি সত্যিই স্বামীর মনোভাবের বদল ঘটাতে চান তবে আপনাকে অবশ্যই আপনার বিরূপ মনোভাবটা ওকে বোঝাতে হবে। ঝগড়া-ঝাঁটি মারামারি না করেও সেটা বোঝানো সম্ভব। এখন থেকে যখনই উনি আপনার সমালোচনা করবেন, আপনার কী করণীয় তা সবিস্তারে বোঝাবেন। দাম্পত্য-সুখের জন্য স্বামীর কী কর্তব্য সেটা ওঁর জানা উচিত। মুখে প্রতিবাদ না করলেও অন্তত ওর আচরণ যে পছন্দ করছেন না সেটা হাবেভাবে বোঝান। যখন উনি কথা বলবেন, ওর দিকে সরাসরি তাকিয়ে থাকবেন, চোখ নামাবেন না বা অন্যদিকে সরাবেন না। ওর নির্দেশগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করা বন্ধ করুন। উনি চান বা না চান, ওকে ছেড়ে বাবা-মা অথবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে গিয়ে মাঝে মাঝে থাকুন। সংসারের বাইরেও যে আপনার একটা জগত্‌ আছে সেটা ওকে বোঝানো দরকার! আর হ্যাঁ, আর্থিক ভাবে স্বনির্ভর হওয়ার চেষ্টা করুন। আপনি কারও থেকে কোনও অংশে কম নয়, এই বিশ্বাসটা মনের মধ্যে আনুন। নিজেকে পালটান এমনভাবে যাতে অন্য কেউ আপনার ওপর প্রভুত্ব করতে না পারেন।

facebook
facebook