Monemone
Sananda fashion

পরীক্ষায় ভয়

স্কুল কলেজের পড়ুয়াদের পরীক্ষা নিয়ে টেনশন নতুন কিছু নয়। যেসব স্কুলে নিয়মিত ক্লাস টেস্টের ব্যবস্থা থাকে এবং হাফ ইয়ার্লি ও অ্যানুয়াল পরীক্ষার মতো ক্লাস টেস্টের রেজ়াল্টকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেখানকার পড়ুয়ারা পরীক্ষা নিয়ে তেমন উৎকণ্ঠায় ভোগে না। এই নিেয় একটি আলোচনা

g

আমার বয়স ১৮। এই বছর উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে কলেজে ভরতি হয়েছি। আমি লেখাপড়ায় ভাল, খুব সিনসিয়ার। ছোট থেকেই ক্লাসে মন দিয়ে পড়া শুনি। ক্লাসে সবসময় পড়া পারতাম। কিন্তু আমি কোনওদিনই সেই অনুপাতে ভাল রেজ়াল্ট করতে পারিনি। তার মূল কারণ আমার পরীক্ষা ভীতি। আমি পুরো সিলেবাস শেষ করি, সব পড়ে যাই, কিন্তু পরীক্ষার হলে গিয়ে আমি আর ঠিকমতো লিখে উঠতে পারিনা। পরীক্ষার হলে বসলেই আমার মধ্যে একটা অদ্ভুত প্যালপিটিশন কাজ করে। প্রশ্নপত্র হাতে পেলেই হাত পা যেন ভয়ে ঠান্ডা হয়ে যায়। এদিকে আমার সব উত্তরই জানা থাকে। কিন্তু আমি কিছুই লিখতে পারিনা। লিখতে লিখতে এই ভেবে টেনশন হয়, সময় চলে যাচ্ছে, এতে আমার ভয় আরও বেড়ে যায়। বার বার ঘড়ি দেখি আর টেনশন বাড়তে থাকে। কয়েকবার এত শরীর খারাপ হয়েছে যে পরীক্ষা পুরো না দিয়েই হল থেকে বেরিয়ে আসতে হয়েছে। এর জন্য কোনওদিনই ৬০ শতাংশের বেশি নম্বর পাইনি। ভাল কলেজেও চান্স পাইনি। কিন্তু আমি এর থেকে বেরতে চাই। কলেজের পর আমি চাকরি করতে চাই। জীবনের সব ক্ষেত্রেই তো পরীক্ষা। আমি কীভাবে এই ভয় কাটিয়ে উঠব?
রূপলেখা সাহা, ব্যারাকপুর

স্কুল কলেজের পড়ুয়াদের পরীক্ষা নিয়ে টেনশন নতুন কিছু নয়। যেসব স্কুলে বছরে একটা বা দুটো প্রধান পরীক্ষার ফল অনুযায়ী ছাত্রছাত্রীদের অর্জিত জ্ঞানকে মাপা হয়, সেইসব স্কুলের ছেলেমেয়েদের মধ্যে পরীক্ষা ভীতি বেশি দেখা যায়। তুলনায় যেসব স্কুলে নিয়মিত ক্লাস টেস্টের ব্যবস্থা থাকে এবং হাফ ইয়ার্লি ও অ্যানুয়াল পরীক্ষার মতো ক্লাস টেস্টের রেজ়াল্টকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেখানকার পড়ুয়ারা পরীক্ষা নিয়ে তেমন উৎকণ্ঠায় ভোগে না।

সব ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ধরন একরকম নয়। বুদ্ধির দিক থেকে মাঝারি বা খাটো পড়ুয়ারা কোনও কিছু জানার ব্যাপারে খুব বেশি আগ্রহী হয় না। পড়ার বই তো বটেই, গল্পের বই পড়ার ক্ষেত্রেও তাদের অনীহা থাকে। এদের মধ্যে অনেকে নিচু ক্লাসে ভাল রেজ়াল্ট করলেও যতই উপরের ক্লাসে উঠতে থাকে, ততই তাদের রেজ়াল্ট খারাপ হতে থাকে। সারাদিন বই খুলে বসে থাকলেও পরীক্ষার সময় কিছুতেই সুবিধা করতে পারে না। স্বাভাবিক বুদ্ধির ছাত্রছাত্রীদের একদল সারাবছরই কমবেশি খাটে এবং তার ফলেই পরীক্ষার সময় বাড়তি কোনও টেনশনে ভোগে না। অন্যদল সারাবছর ফাঁকি দিলেও পরীক্ষার কিছুদিন আগে থেকে দিনরাত এক করে পড়াশোনা করে। যেহেতু অল্প কিছুদিনের মধ্যে অনেকটা পড়া তৈরি করতে হয়, ফলে এদের অনেকেই পরীক্ষায় ভাল ফল করতে পারবে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কায় থাকে। বুদ্ধির দিক থেকে যারা উঁচু ধাপে থাকে, পড়ার পিছনে অনেক কম সময় দিয়েও তারা ভাল রেজ়াল্ট করার ক্ষমতা রাখে। মজার কথা, পড়াশোনার নিজস্ব ধরনধারনটা ছেলেমেয়েরা সাধারণত পালটাতে চায় না। পরীক্ষায় টেনশনের মুহূর্তে যারা প্রতিজ্ঞা করে, পরের বছর থেকে তারা নিয়মিত পড়াশোনা করবে, পরীক্ষা সাঙ্গ হতেই তা তারা বেমালুম ভুলে যায়।

তোমাকে অবশ্য ঠিক এই দলে ফেলা যাবে না। কারণ, তুমি নিয়মিত পড়াশোনা করেছ এবং ক্লাসে সবসময় ঠিকঠাক পড়া পেড়েছ। পরীক্ষা নিয়ে তোমার ভীতির পছনে সম্ভবত তোমার পরিবেশের বড়সড় প্রভাব রয়েছে। তোমার বাবা বা মা যদি উৎকণ্ঠাপ্রবণ হন, যদি ছোটবেলা থেকেই ভাল রেজ়াল্ট করার ব্যাপারে তোমার উপর চাপ থেকে থাকে, যদি অন্যের সঙ্গে তোমাকে বারবার তুলনা করা হয়ে থাকে, আর এখন তুমি নিজেই অন্যদের সঙ্গে তুলনা টেনে হীনমন্যতায় ভুগতে থাকো, তাহলে পরীক্ষাভীতি তোমার মধ্যে পাকাপাকিভাবে থাকাটাই স্বাভাবিক। যতই প্রস্তুতি নাও না কেন, আত্মবিশ্বাসের অভাবে তোমার মনে হবে, তুমি পুরনো পড়াগুলো বুঝি ভুলে যাচ্ছ, পরীক্ষায় জানা প্রশ্নগুলি বোধহয় একটাও আসবে না অথবা এলেও তোমার কিছু মনে পড়বে না। এমন একটা টানাপড়েনের মধ্যে পরীক্ষা দিতে বসে তোমার ফল যে ভাল হবে না, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

যেহেতু প্রথম কলেজের পড়া শুরু হয়েছে এবং আরও অনেক বছর ধরে অনেক পরীক্ষার মোকাবিলা করতে হবে, পরীক্ষার ভয় কাটানো তোমার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এর জন্য বারবার লেখার উপর জোর দাও। প্রাইভেট শিক্ষক বা পরিবারে কারওর কাছে বার বার ‘মক টেস্ট’ দাও। অন্যের সঙ্গে পড়ার বিষয়ে নিজেকে প্রতিযোগিতায় সামিল করো না, বরং কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে মিলে কোনও কোনও বিষয়ে গ্রুপ স্টাডি কর। এতে ভবিষ্যতে তোমার পরীক্ষা ভীতি নিশ্চয়ই কমবে।

facebook
facebook