Swastha
x

অতিরিক্ত এক্সারসাইজ়ের কুফল

সারা সপ্তাহ শেষে উইকএন্ডে টানা হাই-ইনটেনসিটি এক্সারসাইজ় ডেকে আনে চোট-আঘাতের প্রবণতা। জানাচ্ছেন কনসালটেন্ট অর্থোপেডিক সার্জন (আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি অ্যান্ড স্পোর্টস ইনজুরিস) ডা. গৌরব গুপ্ত।

g

চাকুরিজীবী মানুষদের সারা সপ্তাহ জুড়েই ব্যস্ততা। সকালে কোনও রকমে ব্রেকফাস্ট সেরেই অফিসের পথে রওনা। সারাদিনের পরিশ্রমের শেষে বাড়িতে ফিরে এক ফোঁটাও এনার্জি থাকে না এক্সারসাইজ় করার! ফলে ঘাম ঝরানোর জন্য সময় বার করতে পারা রীতিমতো দুঃসাধ্য বিষয়। সারা সপ্তাহ এক্সারসাইজ়ের যাবতীয় ঘাটতি পুষিয়ে দিতে তাঁদের ভরসা উইকএন্ড। সপ্তাহান্তের দু’দিন বা একদিনের ছুটিতে আরও নানা কাজকর্মের সঙ্গে সঙ্গে রুটিনে ঠাঁই করে নিয়েছে ওয়র্কআউট। কিন্তু সারা সপ্তাহ ওয়র্কআউট না করে হঠাৎ করে সপ্তাহের শেষে টানা চার-পাঁচ ঘণ্টার হাই-ইনটেনসিটি এক্সারসাইজ় বা স্পোর্টস অ্যাকটিভিটি শরীরের সহায়ক হয় না। বরং, তাতে ফল হয় উলটো। সাধারণত সপ্তাহে পাঁচ দিন, প্রতিদিন তিরিশ মিনিট করে এক্সারসাইজ় করার পরামর্শ দেন ডাক্তারেরা। একেই বলে ব্যালেন্সড ওয়র্কআউট। কিন্তু এর বদলে সপ্তাহের শেষে দু’দিন বড্ড বেশি এক্সারসাইজ় করলে চোট-আঘাতের সম্ভাবনা বাড়ে। সেডেন্টারি জীবনযাপন থেকে হঠাৎ করে হাই-ইনটেনসিটি ওয়র্কআউটই এ ধরনের চোটের কারণ। সাধারণত এঁদের যে ধরনের ইনজুরি হয় সেগুলি হল:

শোল্ডার টেন্ডন ইনজুরি (রোটেটর কাফ ইনজুরি)

অ্যাঙ্কল লিগামেন্ট ইনজুরি বা অ্যাঙ্কল স্প্রেন

নি লিগামেন্ট ইনজুরি

রিস্ট ইনজুরি

হ্যামস্ট্রিং, কোয়াড্রিসেপ বা কাফ মাসল ইনজুরি।

প্রতিরোধের উপায়

এ ধরনের সমস্যার সমাধানের উপায় একটাই! সারা সপ্তাহ ওয়র্কআউটের জন্য অন্তত আধঘণ্টা সময় বার করতে হবে। যদি সপ্তাহের প্রতিদিন সময় বার করা সম্ভব নাও হয়, চেষ্টা করুন যে ক’দিন পারেন এক্সারসাইজ় করতে! তাহলেও সপ্তাহের শেষে এক্সারসাইজ়ের ওভারলোড হবে না। যে কোনও খেলাধুলো বা ওয়র্কআউটের আগে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খাওয়া খুব জরুরি। শরীর যেন হাইড্রেটেড থাকে, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। পুষ্টিকর খাওয়াদাওয়াও জরুরি। এক্সারসাইজ়ের আগে ওয়র্ম-আপ ও পরে কুল-ডাউন অবশ্যই করবেন। অনেকেই ওয়র্ম-আপ না করেই এক্সারসাইজ় করতে শুরু করেন। হালকা জগিং, সাইক্লিং বা সাঁতার কাটা অাদর্শ ওয়র্ম আপ। কোয়াড্রিসেপ, হ্যামস্ট্রিং ও কাফ মাসলের উপযোগী স্ট্রেচিং করুন। এ বিষয়গুলো মাথায় রাখলে চোট-আঘাতের আশঙ্কা অনেকটাই কমবে। একইসঙ্গে কোন সারফেসে খেলছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বাচ্চারা অনেকেই এখন শক্ত সিমেন্টের মাটিতে ব্যাডমিন্টন খেলে! এটি কিন্তু চোটের আশঙ্কা বাড়িয়ে তোলে। আবার সকালে অনেকেই রাস্তা ধরে দৌড়ন। এটিও কিন্তু ভুল টেকনিক। সঠিক সারফেস ও প্রোটেকটিভ গিয়ার ব্যবহার করা প্রয়োজন। আবার অনেকেই ট্রেনিং ছাড়াই খেলাধুলো করেন। ন্যূনতম বেসিক ট্রেনিং যে কোনও খেলাধুলোর জন্যই জরুরি। এর অভাবে শরীরের বিভিন্ন অংশে চোট লাগতে পারে।

প্রতিকার কীভাবে করবেন

হাঁটুতে যদি চোট লাগে, তাহলে সেখানে স্প্লিন্টার ব্যবহার করতে হতে পারে। শোল্ডার ইনজুরি হলে শোল্ডার ব্যাগ ব্যবহার করুন। চোট লাগা জায়গাগুলোকে রক্ষা করা জরুরি। এরপরের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বিশ্রাম নেওয়া। চোট লাগা অংশে বরফের সেঁক দিতে হবে। যতটা দ্রুত সম্ভব আইস প্যাক লাগানো প্রয়োজন। চোট লাগা বা ফুলে থাকা জায়গায় ক্রেপ ব্যান্ডেজ লাগিয়ে রাখতে পারেন। পা বা হাতে চোট লাগলে তা ঝুলিয়ে রাখুন। হাঁটতে শুরু করার পরে কিছুদিন সাপোর্ট নিয়ে হাঁটুন। এতে ওই আহত জায়গায় আরও একবার আঘাত লাগার আশঙ্কা কমে। ইমার্জেন্সি প্রতিকার বলতে এগুলোই গুরুত্বপূর্ণ। কী ধরনের চোট লেগেছে তার উপর নির্ভর করে চিকিৎসার পদ্ধতি। মাইনর স্ট্রেন বা ছোটখাটো চোটের চিকিৎসা মূলত এভাবেই করা যায়। কিন্তু যদি ইন্টারনাল জয়েন্ট ড্যামেজ হয় তাহলে সার্জারির দরকার হতে পারে। লিগামেন্ট ইনজুরি, শোল্ডার মাসল টিয়ার, অ্যাঙ্কল ইনস্টেবিলিটি বা শোল্ডার ডিসলোকেশনের চিকিৎসা হল সার্জারি। এখন এই সার্জারিগুলো কি -হোল টেকনিকের মাধ্যমেই হয়। প্রাথমিক প্রতিকারের পর ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। যদি অসম্ভব ব্যথা হয়, তাহলে এক-আধটা প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে।
যোগাযোগ: ৬৬২৮৪৪৪৪

facebook
facebook