Swastha
x


এনলার্জড অ্যাডিনয়েড

বাচ্চা প্রায়শই ঘুমের মধ্যে উঠে বসে? খেলাধুলোর সময়ে একটু দৌড়ঝাঁপ করলেই হাঁপিয়ে যায়? হতে পারে এটা এনলার্জড অ্যাডিনয়েড গ্ল্যান্ডের জন্য হচ্ছে। এনলার্জড অ্যাডিনয়েড গ্ল্যান্ডের সমস্যা নিয়ে জানালেন চাইন্ড স্পেশ্যালিস্ট অ্যান্ড নিওনেটোলজিস্ট ডা. শান্তনু রায়

g

শিশুদের নাকের পিছনে একটু উপরের দিকে থাকে অ্যাডিনয়েড গ্রন্থি। টনসিলের মতোই অ্যাডিনয়েড লিমফ্যাটিক টিস্যু দিয়ে তৈরি এক ধরনের গ্ল্যান্ড। এটা গলার ওপরের দিকে নাকের পিছনের দিকে অবস্থিত। বাচ্চার ৩-৫ পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত অ্যাডিনয়েড গ্ল্যান্ড আকারে ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। ৭-৮ বছরের পর থেকে এটা নিজে নিজেই ছোট হতে থাকে এবং বয়ঃসন্ধির পরে প্রায় মিলিয়ে যায়। টনসিল ও অ্যাডিনয়েড গ্ল্যান্ড নানারকম ভাইরাস বা ব্যাকটিরিয়ার হাত থেকে বাচ্চাদের রক্ষা করে।

সাধারণভাবে অ্যাডিনয়েড থেকে অসুবিধে হওয়ার কোনও কারণ নেই। বিশেষ করে নিঃশ্বাসে অসুবিধে হবে এমন কোনও কথা নেই। কিন্তু ঘন ঘন ঠান্ডা লেগে আপার রেসপিরিটরি সিস্টেমে ইনফেকশন হয়ে অ্যাডিনয়েড গ্ল্যান্ড বড় হয়ে গেলে তা নাক দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে বাধার সৃষ্টি করে। টনসিলও বড় হয়ে যায়। এ ছাড়া অ্যালার্জি থেকেও অ্যাডিনয়েড বড় হয়ে যেতে পারে। অনেক বাচ্চার আবার জন্ম থেকেই অ্যাডিনয়েডের আকার বড় থাকে। সঠিক সময়ে এনলার্জড অ্যাডিনয়েডের চিকিৎসা না হলে বাচ্চাদের কথা বলার সমস্যা, কানে কম শোনা, শ্বাস-প্রশ্বাসে অসুবিধা হয়। এমনকী, টানা মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নিতে হয় বলে দাঁতের গঠন খারাপ হয়ে মুখের বিকৃতিও দেখা দিতে পারে। হতে পারে ব্রঙ্কাইটিস বা নিউমোনিয়ার মতো অসুখও।

লক্ষণ

যেহেতু অ্যাডিনয়েড নাকের পিছনের দিকে থাকে, তাই অ্যাডিনয়েড এনলার্জড হয়ে গেলে নাক দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসে অসুবিধে হয়, নাকে সর্দি জমে যায়, ব্লিডিংও হতে পারে। ঘুমের মধ্যে বাচ্চা হাঁ করে শ্বাস নিতে পারে এবং নাক ডাকার মতো ঘড়ঘড় শব্দ হতে পারে। এমনকী রাতে বাচ্চা ঘুম থেকে উঠে বসে থাকতে পারে। সমস্যা জটিল আকার ধারণ করলে শুধু রাতে নয়, দিনেও বাচ্চা হাঁ করে নিঃশ্বাস নিতে হতে পারে। ঘুম ঠিকমতো না হওয়ায় বাচ্চার বিকাশ ব্যাহত হয়। মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নেওয়ার ফলে বারবার মুখ শুকিয়ে যায় ও ঠোঁট ফেটে যায়। অ্যাডিনয়েড এনলার্জমেন্টে নাক থেকে কানেও ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে কানের নানা সমস্যা হতে পারে, যেমন কানে ঘন ঘন ইনফেকশন হতে পারে। মিডল ইয়ারে ফ্লুইড জমতে পারে। এর সঙ্গে কানে শোনার সমস্যাও হতে পারে। ক্রনিক অ্যাডিনয়েড ইনফেকশন থেকে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। এনলাজর্ড অ্যাডিনয়েড থেকে অনেকসময় কথা বলার সময় উচ্চারণেও অসুবিধে হতে পারে। বাচ্চার খেতে অসুবিধে হতে পারে। কারণ খেতে গেলেই সে হাঁপিয়ে উঠবে। খাবার গিলতে অসুবিধে হতে পারে। অ্যাডিনয়েড এনলার্জমেন্টের সঙ্গে যদি টনসিলের অসুবিধে থাকে, তাহলে গলাতেও অস্বস্তি থাকতে পারে। বাচ্চা খুব একটা খেলাধুলাও করতে পারবে না। পরিশ্রমের যে কোনও কাজ করতে গেল হাঁপিয়ে পড়বে।

চিকিৎসা

বিশেষ এক ধরনের আয়না দিয়ে বা এন্ডোস্কোপের মাধ্যমে বোঝা যায় অ্যাডিনয়েড কতটা বড় হয়েছে। কখনও কখনও ইনফেকশন আছে কি না বোঝার জন্য ব্লাড টেস্ট করতে হতে পারে। থ্রোট এক্স-রেও করতে হতে পারে। অ্যাডিনয়েড প্রথম দিকে বড় হলে বা মাইল্ড এনলার্জমেন্ট হলে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দেওয়া যেতে পারে। ব্রিদিং ডিফিকাল্টির জন্যে প্রাণায়াম করতে বলা হয়। তবে ক্রনিক এনলার্জড অ্যাডিনয়েডের ক্ষেত্রে যখন বাচ্চার বিকাশ ঠিকমতো হয় না, তখন শুধু অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে না। সেক্ষেত্রে অ্যাডিনয়েড গ্ল্যান্ড অপারেট করতে হয়। সাইনুসাইটিস, বারবার কানের ইনফেকশন, শোনার সমস্যা, মুখ দিয়ে ব্লিডিং, স্লিপ অ্যাপনিয়া, দাঁত ঠিকমতো না উঠলেও অনেক সময় অ্যাডিনয়েড বাদ দিতে হয়। একে বলা হয় অ্যাডিনয়ডেক্টমি। অ্যাডিনয়েড অপারেশনে ভয়ের কিছু নেই। বাচ্চা বড় হলে পরে করব, এটা ভাবার মতো কিছু নেই। কারণ অ্যাডিনয়েড গ্ল্যান্ড ১২-১৪ বছরের পর সবারই ছোট হয়ে যায়। ৮-১০ বছরেই ওটা সবথেকে বড় হয়। অসম্পূর্ণভাবে অ্যাডিনয়েড বাদ দিলে তখন পরে আবার জটিলতা দেখা যেতে পারে। না হলে চিন্তার কিছু নেই। অপারেশনের দু’দিন পরে হাসপাতাল থেকে সাধারণত ছেড়ে দেওয়া হয়। অপারেশনের পরে দু-চার দিন ব্যথার সিরাপ, অ্যান্টিবায়োটিক ও হালকা খাওয়াদাওয়া, যেমন স্যুপ ইত্যাদি দেওয়া যেতে পারে।

facebook
facebook