Swastha
x

প্রিম্যারিটাল সেক্স

সেক্স—এই ছোট্ট শব্দটার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভাললাগা, ভালবাসা, জীবনের উত্তেজনা। সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করার জাদুমন্ত্রও বটে। বিয়ের আগে সেক্স নিয়ে কিছু জরুরি পরামর্শ।

g

স্নান, খাওয়া, ঘুমের মতোই একান্ত স্বাভাবিক ব্যাপার সেক্স। ভালবাসার সম্পর্কের আঁচ বজায় থাকে এই শরীরী উত্তাপ এবং একে অপরের উষ্ণ সান্নিধ্য উপভোগ করার মধ্যে। সেক্স মানেই কিন্তু যৌনমিলন নয়, আপনার ভালবাসার একটা বিশেষ এক্সপ্রেশন। আগে মনে করা হত বিয়ে আর যৌনতা একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাগীভাবে জড়িয়ে আছে। বিয়ের আগে কনসামেট করা যায় না বা উচিত নয়। যাঁরা প্রচণ্ড রক্ষণশীল, তাঁরা এখনও প্রিম্যারিটাল সেক্স নিয়ে জোরদার আপত্তি করবেন। বিয়ের আগে যৌনসুখ বা তৃপ্তি এখনও আমাদের সমাজে এখনও একটা ট্যাবু। কিন্তু আমরা মানি না মানি, সমাজে পরিবর্তন তো অবশ্যই এসেছে। যেখানে লিভ ইনের মতো কনসেপ্ট জায়গা করে নিয়েছে, সেখান প্রিম্যারিটাল সেক্স আর এখন শুধু মিথ নয়, চরম বাস্তব। এমনকী সেক্সুয়ালি কমপ্যাটিবল না হলে আজ অনেক সম্পর্ক আর বিয়ে পর্যন্ত এগোয় না। একে অপরের শরীর সম্বন্ধে কমফর্টেবল হওয়া, নিজেদের সেক্সুয়াল প্রেফারেন্স বুঝতে পারা, সম্পর্কের জড়তা কাটানোর কাজ প্রিম্যারিটাল রিলেশনশিপ ভালই করে। আসলে শুধু সেক্স যেমন সম্পর্কের ভিত্তি হতে পারে না, তেমনই এটাও সত্যিই যে সেক্স বাদ নিয়ে সফল সম্পর্ক অসম্ভব।

সেক্স সম্পর্কে কয়েকটি ধারণা

অনেকেই মনে করেন মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের শারীরিক চাহিদা বেশি, আদতে কিন্তু পুরুষ ও নারীর যৌন চাহিদা প্রায় সমান। তবে, অনেকসময়ই মেয়েদের শারীরিক চাহিদার ঘাটতির কারণ দৈনন্দিন ক্লান্তি এবং স্ট্রেস। এছাড়াও অনেক পুরুষ এখনও মেয়েদের সেক্স অবজেক্ট হিসেবে দেখতেই ভালবাসেন। শুধুমাত্র যৌনচাহিদা মেটাবার মাধ্যম বিশেষ। মেয়েদের কাছ কিন্তু সেক্স ভালবাসার একটা বিশেষ এক্সপ্রেশন। তাই প্রেমহীন শারীরিক সম্পর্ক মেয়েদের কাছে কোনও গুরুত্ব থাকে না।

সেক্স থেকে শুধুমাত্র পুরুষরাই তৃপ্তি লাভ করেন না। তবে হ্যাঁ, পুরুষ ও নারীর যৌনতৃপ্তির মধ্যে পার্থক্য অবশ্যই আছে। শারীরিক মিলনে সাধারণত পুরুষরা খুব কম সময়েই অর্গাজ়মে পৌঁছে যান। কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে ব্যপারটা ঠিক উল্টো। মেয়েদের অর্গ্যাজ়মে পৌঁছতে কিছুটা সময় লাগে। সেই সময়ের পার্থক্যটা পূরণ করার জন্যে ফোরপ্লে খুবই কার্যকর। কিন্তু যেহেতু অনেক পুরুষই সেই বাড়তি সময়টা খরচ করেন না, মেয়েরা সেক্স সেভাবে এনজয় করেন না। তবে একটু সেনসিটিভ অ্যাপ্রোচ কিন্তু সেক্স লাইফ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।

সেক্স মানেই সঙ্গম নয়। এরকম ভাবলে যৌনজীবন কিন্তু একঘেয়েমির বেড়াজালে আটকে যাবে। তার চেয়ে একটু অন্য আঙ্গিকে সেক্স ব্যপারটাকে দেখার চেষ্টা করুন। একে অপরকে অকারণে জড়িয়ে ধরা বা উইকএন্ডে একে অপরের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা মারা, এগুলোও কিন্তু সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করে। শুধু শারীরিকভাবে নয় মানসিকভাবেও একে অপরকে কাছে পাওয়ায়ই সেক্সের সফল সমীকরণ। আসলে সেক্স মানে তো শুধুই শারীরিক মিলন নয়, মনের মেলবন্ধনও বটে। একান্ত নিভৃতিতে একে অপরকে চেনা জানার মাধ্যম।

সুস্থ যৌনজীবনের জন্যে

নিজের শরীরের সঙ্গে বন্ধুত্ব করুন। শরীর নিয়ে কথা বলা তো ছাড়, অনেক সময় নিজের শরীর আয়নাতে দেখতেও আমরা লজ্জা পাই। শরীর সম্বন্ধে এই অস্বাচ্ছন্দ্য যৌনজীবনে কুপ্রভাব বিস্তার করে। নিজের শরীরকে ভাল করে চেনাজানা, নিজেকে বুঝতে অনেকটা সাহায্য করে।

সঙ্গীর যেন আপনার বন্ধু হয়। যাঁর সঙ্গে আপনি নিজের যৌনজীবন ভাগ করে নিচ্ছেন, তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক থাকাটা গুড সেক্স লাইফের প্রধান শর্ত। আপনাজের চাহিদার ফারাক থাকলেও, নিজেরা একটা মধ্যস্থতায় আসুন। একটু অপছন্দ হলেও মানিয়ে নিন। আর যৌনক্রিয়ায় সবসময় নিজে তৃপ্তি না খুঁজে, সঙ্গীকে তৃপ্ত করার চেষ্টা করুন। আশা করা যায় উনিও একইরকম চেষ্টা করবেন।

সারাদিন ধরে শরীরকে যত চালনা করবেন, সেক্সুয়াল এনার্জি ততই বাড়বে। মর্নিং ওয়ক, অ্যারোবিক্স, ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ়, বাড়ির কাজকর্ম করা সবই আপনাকে এনার্জি জোগাবে। সম্ভব হলে আপনার পার্টনারকে সঙ্গে নিন। ইমোশনাল বন্ডিং দৃঢ় হবে।

ফোরপ্লেকে অবহেলা করবেন না। শুতে যাওয়ার আগে একসঙ্গে স্নান করে ফ্রেশ হয়ে নিন। বেডরুমে সাজিয়ে দিন সুগন্ধি ক্যান্ডেল। হাতের আলতো ছোঁওয়া, চুম্বন এবং আলিঙ্গনের মাধ্যমে কাছে টেনে নিন একে অপরকে। নতুন করে খুঁজে বের করুন একে অপরকে।

হেলদি সেক্সের জন্যে হেলদি ডায়েট এক্কেবারে মাস্ট। শুতে যাবার আগে পেট ভরে না খেয়ে হালকা ডিনার করুন। জাঙ্ক ফুড আমাদের শরীর দুর্বল করে এবং এনার্জি অনেকটা শুষে নেয়, যা সেক্স লাইফের ক্ষতি করে। তাজা সবুজ শাকসবজি, ফল শরীর-মন দুইই ভাল রাখবে।

কনট্রাসেপটিভ মেথড

প্রিম্যারিটাল সেক্সে সাবধানতা অবলম্বন করা একান্ত জরুরি। অবাঞ্ছিত প্রেগনেন্সি এড়াতে নানারকম উপায় আছে।

প্রথমেই আসে কন্ডোমের কথা। কন্ডোম শুধুমাত্র গর্ভনিরোধই করে না, যে কোনও যৌন সংক্রামক অসুখ থেকেও মেয়েদের সুরক্ষিত রাখে। তবে মনে রাখবেন প্রতিটি কন্ডোম একবারই ব্যবহার করা যায়। কেনার আগে অবশ্যই পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত কন্ডোমের প্যাকিং, আইএসও অনুমোদন এবং এক্সপায়ারি ডেট। অনেক পুরুষই মনে করেন কন্ডোম তাঁদের যৌনতৃপ্তির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। এই ধারণার কিন্তু কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই, বরং কন্ডোম ব্যবহার করলে যৌন মিলনের সময় দুজনেরই একটু রিল্যাক্সড থাকার সম্ভাবনা বেশি।

গর্ভনিরোধক বড়ি বা ওরাল কন্ট্রাসেপটিভ পিল যদি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত খাওয়া যায়, তাহলে অবাঞ্ছিত প্রেগনেন্সি আসার সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে। এখন বাজারে নানা ধরনের লাইট পিল বেরিয়ে যাওয়ায় পিলে হরমোনের মাত্রা এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে ওজন বেড়ে যাওয়া বা আনুষঙ্গিক কোনও অসুবিধা মেয়েদের শরীরে না দেখা দেয়। এছাড়াও অনিয়মিত ঋতুচক্র, পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিণ্ড্রোম ইত্যাদি অসুখের চিকিৎসার জন্যেও ওরাল পিল খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। ওরাল পিল খাওয়া শুরু করার আগে অবশ্যই একবার গাইনিকলজিস্টের সঙ্গে কথা বলে নেবেন।

facebook
facebook