Swastha
x

ভিটামিন সি-র অভাব

ভিটামিন সি-র অভাবে হতে পারে মাড়ি থেকে রক্তপাত বা অ্যানিমিয়ার মতো সমস্যা। সমাধানে ওষুধের পাশাপাশি ডায়েটের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জানাচ্ছেন কনসালটেন্ট ফিজ়িশিয়ান ডা. শোভন সিনহা।
- – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - -

সমস্যা ও সমাধান

আজকাল শুধুমাত্র ভিটামিন সি-র অভাবে হওয়া অসুখের সম্ভাবনা তুলনায় অনেক কমে গেছে। তবে ভিটামিন সি-র অভাবে শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্তপাত হতে পারে। মাড়ি থেকে রক্ত পড়া এর মধ্যে সবচেয়ে কমন। আবার গ্যাসট্রোইনটেস্টিনাল ট্র্যাক্ট বা শরীরের কোনও গাঁট থেকে রক্তপাত হতে পারে। এমনকী হেয়ার ফলিকলস-এর গোড়ায় ব্লিডিং হতে পারে। সেখানকার ত্বক এর ফলে রুক্ষ হয়ে যায়। শরীরের বিভিন্ন অংশে কালসিটে পড়ে যায়।

ভিটামিন সি চোট আঘাত সারানোর জন্য খুব প্রয়োজনীয়। তাই এই ভিটামিনের অভাব হলে চোট-আঘাত একবার লাগলে তা সারতে সময় লাগে বেশি।

অ্যানিমিয়াও হতে পারে এর অভাবে। আমাদের দেশে অ্যানিমিয়ার অন্যতম প্রধান কারণ আয়রনের অভাব। তবে শরীরে আয়রন অ্যাবজ়র্বশনের জন্য ভিটামিন সি-র প্রয়োজন।

কোলাজেন শরীরে প্রোটিন তৈরি করে। প্রোটিন শক্ত করতে ভিটামিন সি দরকার। এটা না হলে চোট-আঘাতও সারতে সময় লাগে।

ফলে, কেউ যদি অ্যানিমিয়ার সমস্যা নিয়ে আসেন, তাহলে তাঁকে আয়রনের সঙ্গে সঙ্গে ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়। অর্থাৎ ভিটামিন সি-র অভাবে মূলত তিনটি সমস্যা হতে পারে: ব্লিডিং, অ্যানিমিয়া ও চোট শুকোতে দেরি হওয়া।

লক্ষণ

ভিটামিন সি-র অভাবের প্রধান লক্ষণ হল মাড়ি ফুলে গিয়ে মাড়ি থেকে রক্ত পড়া। এছাড়া ত্বকে কোনও কারণ ছাড়াই কালসিটেও পড়তে পারে। তবে এধরনের সমস্যা শিশুদের ও বৃদ্ধদের হতে পারে। শিশুদের সাধারণত ফোটানো দুধ দেওয়া হয়। ভিটামিন সি দুধে পাওয়া যায় না। আর কোনও কিছু সিদ্ধ করে বা ফুটিয়ে খেলেও ভিটামিন সি পাওয়া যায় না। বয়স্ক মানুষদের, বিশেষত যাঁদের দাঁত না থাকার ফলে অনেক কিছু খেতে পারেন না, তাঁদের অনেকের ভিটামিন সি-র অভাবজনিত সমস্যা দেখা দেয়। বা কারওর কোনও গুরুতর সার্জারির পরে খাওয়াদাওয়া করতে অসুবিধে হলেও এরকম সমস্যা হতে পারে। পেটে বা গ্যাসট্রোইনটেস্টিনাল ট্র্যাক্টে কোনও সার্জারি হলেও খাওয়াদাওয়া অনেকটা নিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়।

উপসর্গ নিয়ে যদি কেউ ডাক্তারের কাছে আসেন ও তাঁকে দেখে যদি বোঝা যায় যে তিনি পুষ্টির অভাবে ভুগছেন, তাহলে মোটামুটি ধরে নেওয়া হয় তাঁর শরীরে ভিটামিন সি-র অভাব আছে। ব্লাড টেস্ট করতে দেওয়া হয়। রক্তের লিউকোসাইট কোষের পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায় শরীরে কতটা ভিটামিন সি সঞ্চিত আছে। সবক্ষেত্রে রক্তপরীক্ষা করা হয় না অবশ্য।

চিকিৎসা

চিকিৎসা হিসেবে সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়। বিশেষ করে অপারেশনের পরে রোগীকে মাল্টিভিটামিন দেওয়া হয়। এতে ভিটামিন সি-ও পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে। বা ভিটামিন সি ট্যাবলেট নির্দিষ্ট ডোজ়ে সাত-আট দিন নিলেও কাজে দেয়। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ডায়েট। প্রায় সব ফলেই ভিটামিন সি আছে। তবে সিট্রাস ফল (টক ফল) ভিটামিন সি-র ভাল উৎস। পাতিলেবু, কমলালেবু, মুসাম্বি, আমলকি, টোম্যাটো ইত্যাদি খুব ভাল। এছাড়া সবুজ পাতাওলা সবজিও খেতে পারেন। ফ্রোজ়েন ভেজিটেবল খাওয়া ভাল। ভিটামিন সি-র অভাব কিন্তু একদিনে হয় না। শরীরে এমনিতেই ভিটামিন সি সঞ্চিত থাকে। আর এটি যেহেতু মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস, তাই একটু খেলেই দীর্ঘদিন এর অভাব হয় না। ভিটামিন সি খেলে সর্দিকাশি হয় না, এরকম ধারণা অনেকের মধ্যে আছে। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুল। এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

facebook
facebook