Diet
Sananda fashion

বাইরে গেলে খাওয়াদাওয়া

কর্মসূত্রে বা ঘুরতে বাইরে গেলে খাওয়াদাওয়া সংক্রান্ত বিশেষ কোনও নিয়ম মেনে চলা প্রায় অসম্ভব। তবে কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখলে সহজেই শরীর সুস্থ রাখা সম্ভব। সমাধান জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ ডায়েটিশিয়ান।

sananda

আমাকে কর্মসূত্রে খুব ঘন ঘন বাইরে যেতে হয় এবং তা বেশ কিছুদিনের জন্য। ফলে আমার পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট ডায়েট রুটিন মেনে চলা প্রায় অসম্ভব। সব জায়গায় এক ধরনের খাবার পাওয়াও যায় না। এক্ষেত্রে আমার কোন ধরনের খাবার বাছা উচিত? কী কী খাবার এড়িয়ে চললে ভাল?
অনিন্দ্য সেনগুপ্ত, ই-মেল মারফত

বাইরে গেলে, নির্দিষ্ট ডায়েট রুটিন মেনে চলা যেমন অসুবিধে, তেমনই শরীরচর্চা করাও সম্ভব না, তা সে কর্মসূত্রেই হোক বা ঘুরতে। আবার এটাও সত্যি, হাতের কাছে যে সবসময় পুষ্টিকর খাবার পাওয়া যাবে, তারও কোনও নিশ্চয়তা নেই। সুতরাং সব মিলিয়ে শরীরে কুপ্রভাব পড়া খুবই স্বাভাবিক। তবে কিছু কিছু দিকে খেয়াল রাখলে, শরীর সহজেই এই কুপ্রভাবগুলোর সঙ্গে যুঝতে পারবে।

একটু আগে থেকে খাওয়াদাওয়ার প্ল্যান করুন। ব্যাগে বা হাতের কাছে কিছু স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স রাখুন। মাল্টিগ্রেন বিস্কুট, রোস্টেড ছোলা, বিভিন্ন ধরনের বাদাম এবং টাটকা ফল রাখুন। এগুলো মোটামুটি সব জায়গাতেই পাওয়া যায় এবং যথেষ্ট পুষ্টিকরও।

ক্যালরির পরিমাণের দিকেও একটু খেয়াল রাখুন। ঘন সস, মেয়নেজ়, ক্রিমি স্যুপ, ভারী স্যালাড ড্রেসিং, রিফাইন্ড ফ্লাওয়ারে তৈরি খাবার ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন। মেয়নেজ় ছাড়া একটা স্যান্ডউইচ খেলেও অন্তত ৩০ গ্রাম ফ্যাট শরীরে যাওয়া থেকে আটকাতে পারবেন।

হাই ফাইবার খাবার বাছুন। টাটকা ফল, সবজি, ডাল, হোলগ্রেন ইত্যাদি যুক্ত খাবার খেতে পারেন।

শরীরচর্চা করতে না পারলেও, হোটেলের রুমে সহজ ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ় করা যেতেই পারে। পুশ-আপ, সিট-আপ, স্পট মার্চিং ইত্যাদি অত্যন্ত সহজ এক্সারসাইজ় এবং এর জন্য জিমে ছোটারও প্রয়োজন নেই। ঘুম থেকে ওঠার পর এবং ঘুমতে যাওয়ার আগে প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট এই এক্সারসাইজ়গুলো করলেও শরীর ঝরঝরে থাকবে।

শরীর তরতাজা রাখতে জলের কোনও বিকল্প নেই। শরীর যত হাইড্রেটেড থাকবে, ততই ক্লান্তি কমবে।

রাস্তাঘাটের খাবার না খাওয়াই ভাল। বিশেষত কাঁচা খাবার পারত পক্ষে এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজন পরলে ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল, গ্রিলড চিকেন, মাছ বা গ্রিলড সবজি খেতে পারেন।

আমার স্বামী বিদেশে থাকেন। ফলে আমাকে মাঝেমধ্যেই বিদেশে যেতে হয়। ওঁ যেখানে থাকেন, সেখানে সামুদ্রিক খাবারই বেশি পাওয়া যায়। শাক-সবজি, ফল পাওয়া গেলেও, তা সবসময় টাটকা হয় না। চিংড়ি, স্কুইড, কাঁকড়া, টুনা ইত্যাদি সামুদ্রিক খাবার দিয়েই কাজ চালাতে হয়। এই খাবারগুলো খেতে ভাল ঠিকই, কিন্তু এতে কি কোনওরকম পুষ্টি রয়েছে? দিনের পর দিন এই ধরনের খাবার খেলে শরীরের কোনও সমস্যা হবে না তো?
রাকা মিত্র, টালিগঞ্জ

স্বাস্থ্যকর খাবার মানেই যে তা সুস্বাদু হতে পারে না, এটা ভাবার কিন্তু কোনও কারণ নেই। সামুদ্রিক খাবারই এর পারফেক্ট উদাহরণ। সামুদ্রিক খাবার যেমন সুস্বাদু, তেমনই বিভিন্ন খাবারে পুষ্টিগুণও প্রচুর। সুতরাং তা থেকে শরীরে সমস্যা হওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে সামুদ্রিক খাবারে অনেকের অ্যালার্জি থাকে। তাছাড়া সামুদ্রিক খাবার প্রতিদিন খেতেই পারেন। এতে প্রোটিন, ফ্যাট, উপকারী তেল, ভিটামিন, আয়োডিন, কপার, জ়িঙ্ক, সেলেনিয়ামের মতো মিনারেল ইত্যাদি শরীরের সব প্রয়োজনীয় উপাদানই থাকে। এছাড়া ওমেগা-৩-ফ্যাটি অ্যাসিডেরও খুব ভাল উৎস সামুদ্রিক খাবার। বেশিরভাগ শেলফিশেই (চিংড়ি, কাঁকড়া) স্যাচুরেটেড ফ্যাট তথা সামগ্রিক ফ্যাটের পরিমাণ কম থাকে এবং পরিমিত পরিমাণে কোলেস্টেরল থাকে। তবে মনে রাখবেন এই ধরনের খাবারের সঙ্গে সাধারণত যে সব সস, টপিং (মাখন, ব্রেডক্রাম) পরিবেশন করা হয়, তা কিন্তু খাবারের ফ্যাট এবং কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি এই খাবার কীভাবে খাচ্ছেন, তাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। ডিপ ফ্রাই কিংবা তেলমশলাদার গ্রেভির পরিবর্তে ব্রয়েলড, স্টিমড কিংবা গ্রিলড খাবার বাছুন।

facebook
facebook