Travel
Sananda fashion

ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ারস

ফুলের উপত্যকা ভুইন্দর, যার পোশাকি নাম ‘নন্দাদেবী জাতীয় উদ্যান’। লোকমুখে পরিচিত ‘ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ারস’ নামে। ঘুরে এসে জানালেন কৃষ্ণেন্দু পালিত

g

৩৫২৫ মিটার উঁচুতে প্রশস্ত ‘U’ শেপের উপত্যকা ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ারস। এই উপত্যকার মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে পুষ্পবতী নদী। সিজ়নে, অর্থাত্‌ ১৫ই জুলাই থেকে ১৫ই অগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৩০০ প্রজাতির অ্যালপাইনস ফুলের সমারোহে সত্যিই যেন স্বগের্র্র নন্দনকানন জ্যোতি নেমে আসে। ১৯৩১ সালে কামেট অভিযান করে ফেরার পথে পথ হারিয়ে ফ্রাঙ্ক স্মিথ নামে একজন বিদেশি পর্যটক পরিত্রাণের আশায় ঘুরতে ঘুরতে একসময় এখানে এসে পড়েন এবং আবিষ্কার করেন এই ‘ফুঁলো কি ঘাঁটি’। ১৯৮১ সালে এটি জাতীয় উদ্যানের শিরোপা পেয়েছে। নাম হয়েছে নন্দাদেবী জাতীয় উদ্যান। এখানে একবার এলে আর ফিরে যেতে মন চাইবে না। এই উদ্যান এক কথায় অনন্য।

ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ারস-এর গেটওয়ে হল গোবিন্দঘাট। হরিদ্বার থেকে দুরত্ব ৩৪৭ কিমি। বদ্রিনাথ যাওয়ার পথে, বদ্রিনাথ থেকে ৩০ কিমি আগে অলকানন্দা ও ভুইন্দর গঙ্গার সঙ্গমে পাইন আর দেবদারু গাছে ঘেরা ছবির মতোই সুন্দর গোবিন্দঘাট। হাতে সময় থাকলে এখানে একটা দিন কাটাতে পারেন। না হলে পরেরদিন যত সকালে সম্ভব বেরিয়ে পড়ুন। যেতে হবে সাংঘরিয়া। দূরত্ব ৩০ কিমি। পথ গিয়েছে অলকানন্দার উপনদী লক্ষণ (ভুইন্দর) গঙ্গার পার ধরে। পাই, দেবদারু, ভুজ আর রডোডেনড্রনের ছায়ায় ঢাকা আগাগোড়া চড়াই এ পথের পথকষ্ট প্রায় পুরোটাই ভুলিয়ে দেবে পথশোভা। পথে পড়বে অসংখ্য চা ও ফাস্টফুডের দোকান। ক্ষানিক বিশ্রাম এবং তৃষ্ণা নিবারণের উপযুক্ত ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। সাংঘরিয়া পৌঁছাতে দুপুর পেরিয়ে বিকেল হয়ে যাবে। সারাদিনের পথশ্রমে ক্লান্ত শরীরে প্রয়োজন শুধু বিশ্রাম। সন্ধ্যায় খেয়েদেয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিছানায়। পরদিন সকালে উঠে আবার পথ চল।

সাংঘরিয়া থেকে ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ারস মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার। গোবিন্দঘাট থেকে সাংঘরিয়া পর্যন্ত ঘোড়া বা ডান্ডির চল থাকলেও, বাকি পথ পায়ে হেঁটে যেতে হবে। অন্যকিছুর অনুমতি নেই। এমনকি খাবার বা প্লাষ্টিক নিয়েও প্রবেশ নিষেধ। প্রবেশ মূল্য মাথা পিছু ৪০ টাকা। স্টিল ক্যামেরার জন্যে টিকিট না লাগলেও ভিডিও ক্যামেরা পিছু ১০০ টাকা। টিকিট কেটে তোরণদ্বার পেরিয়ে কিছুদুর এগোলেই পুলের দেখা মিলবে। প্রায় ৩০০ প্রকৃতির ফুল ফোটে এই উদ্যানে। উল্লেখযোগ্য বিরল প্রজাতির নীল পপি। এছাড়া আছে অসংখ্য প্রজাতির গাছ আর বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। আরও কিছুদূর এগোলে চোখে পড়বে সেই পুষ্পবতী নদী, রতাবন তথা ধুঙ্গি গ্লেসিয়ার থেকে তার জন্ম। নদীর উপর পুল পেরিয়ে বাঁহাতে রাস্তা। এ পথে হাঁটতে হাঁটতে ডানদিকে তাকালে চোখে পড়বে হেমকুন্ড পাহাড় সহ সপ্তশৃঙ্গ। এমনকি হেমকুন্ড যাওয়ার রাস্তাটাও পরিস্কার বোঝা যায়। কিছুদূর এগোলেই চোখে পড়বে রতাবন গ্লেসিয়ার। গ্লেসিয়ারের শিরে মুকুট হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সুমেরু শিখর। শিখরে রোদ পড়ে ঝলমল করছে রূপোর ফলকের মতো। এলোমেলো ঘুরতে ঘুরতে, আর ছবি তুলতে তুলতেই সারাটা দিন কেটে যাবে। সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসতে হবে সাংঘরিয়া। কারণ ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ারস-ও থাকার ব্যবস্থা নেই। তবে সারাদিন অভিজ্ঞতায় যত ফুল চয়ন হয়েছে তা আজীবন থাকবে মনের গহিনে।

কীভাবে যাবেন

হরিদ্বার বা ঋষিকেশ থেকে বদ্রীগামী বাসে সারাদিনের জার্নিতে গোবিন্দঘাট। পরদিন গোবিন্দঘাট থেকে ট্রেকিং শুরু হয়ে শেষ হবে ১৩ কিমি দুরের সাংঘরিয়ায়। তৃতীয় দিনে সাংঘরিয়া থেকে ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ারস দেখে আবর সাংঘরিয়া ফিরে আসা।

কোথায় থাকবেন

থাকার জন্যে গোবিন্দঘাট এবং সাংঘরিয়া নিখরচায় গুরুদোয়ারায় উত্তম ব্যবস্থা আছে। তাছাড়াও বেশ কিছু হোটেল ও লজ আছে দু’জায়গাতেই। অফ সিজ়নে আগে থেকে বুকিং না করে গেলেও ক্ষতি নেই। তবে পিক সিজ়নে অবশ্যই বুকিং করে যান।

কখন যাবেন

জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত সিজ়ন।

travel
facebook
facebook