vvvv
Travel
Sananda fashion

ইতিহাসের বোধগয়া

ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে এর সঙ্গে। ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটগুলোর মধ্যে অন্যতম। ঘুরে আসুন বোধগয়া।

g

এই সেই স্থান যার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত আছে বুদ্ধের জীবন। মহাবোধি মন্দির ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটগুলোর মধ্যে অন্যতম। ষষ্ঠ শতাব্দীতে এটি তৈরি হয় সম্রাট অশোকের ৮০০ বছর আগে নির্মিত একটি মন্দিরের উপর, যা ১১ শতাব্দীতে বিদেশিদের হাতে ধ্বংস হয়ে যায়। তার পর থেকে অবশ্য মন্দিরটির অনেক সংষ্কার করা হয়েছে। মন্দিরের ভিতরে বুদ্ধের বসানো মূর্তি আছে। পাথরের রেলিং-এর মাত্র চারপটি অবসিষ্ট আছে, বাকিগুলো আর্কিওলজিকাল মিউজ়িয়ামে দেখতে পাবেন। এর শান্তিপূর্ণ বাতাবরণ হৃদয়স্পর্শী, একবার এসে আর যেতে ইচ্ছে করবে না। মহাবোধি মন্দির দেখে মনটা আধ্যাত্মিক হয়ে উঠলে নিরিবিলিতে সময় কাটানোর জন্য ঘুরে আসুন মন্দির কমপ্লেক্সের ভিতরেই অবস্থিত মেডিটেশন পার্ক। দিনটা শেষ করুন মন্দিরের ভিতর ক্লকওয়াইজ় পায়চারি করে। দেখতে পাবেন, হলুদ এবং মেরুন পোশাক পরে হাজার হাজার বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা প্রার্থনা করছেন।

বোধগয়া এলে অবশ্যই দেখবেন বোধিবৃক্ষ, যার নীচে বসে বুদ্ধ এনলাইটেনমেন্ট পেয়েছিলেন। লাল স্যান্ডস্টোনের একটি স্ল্যাব নির্মিত আছে, যেখানে বুদ্ধ বসেছিলেন। এর নাম ‘বজ্রাসন’। বোধগয়ার বিভিন্ন মনাস্ট্রি এবং মন্দিরগুলো ঘুরে দেখলে বৌদ্ধ সংষ্কৃতি এবং স্থাপত্যশিল্প নিয়ে অনেক জ্ঞান অর্জন করা যায়। বোধগয়া গেলে আরও দেখুন দুঙ্গেশ্বরী মন্দির, যেখানে বুদ্ধ দীর্ঘকাল তপস্যা করেছিলেন। অবশ্য দ্রষ্টব্য ইন্ডোসান নিপ্পনজি মন্দির, যা জাপানি স্থাপত্যশিল্পে নির্মিত। কাছেই পড়বে ভুটানি মনাস্ট্রি, যার অপূর্ব রঙিন ফ্রেস্কোর কারুকার্য এক কথায় অনবদ্য। টিবেটের শল্পের সুন্দর নিদর্শন তেরগার মনাস্ট্রি। এ ছাড়াও আছে একটি থাই মন্দির। এখানে সকাল সন্ধে মেডিটেশন হয়। নামগ্যল মনাস্ট্রি এবং টিবেটান কর্ম মন্দিরের (দরজায় তামার ড্রাগনগুলো লক্ষ করবেন)-তে বিশাল পার্থনাকক্ষ আছে। মনাস্ট্রিগুলো সূর্য্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত খোলা থাকে। সময় পেলে বোধগয়া মাল্টিমিডিয়া মিউজ়িয়াম দেখে আসুন। ফল্গু নদীর ধারে বিষ্ণুপদ মন্দিরটিও তার অপূর্ব স্থাপত্যশিল্পের জন্য টুরিস্টদের নজর কাড়ে। বরাবর কেভসটিও দেখার মতো জিনিস। গুহার দেওয়ালে জাতকের গল্প, বিভিন্ন গল্প খোদাই করা আছে, যা ভারতীয় কেভ-আর্কিটেকচারের পারচীনতম নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম।

কীভাবে যাবেন বোধগয়া

কলকাতা থেকে জনতা এক্সপ্রেস, পূর্বা এক্সপ্রেস, হাওড়া রাজগির ফাস্ট প্যাসেঞ্জার এক্সপ্রেস, কলকাতা পাটনা গরিব রথ এক্সপ্রেস, ইত্যাদি বিহার যায়।কলকাতা থেকে হাওড়া গয়া এক্সপ্রেসে বোধগয়া যাওয়া যায়। সরাসরি বিমান পরিষেবা নেই, কানেকটিং ফ্লাইটে গয়া যেতে হবে।

মনে রাখবেন

মহাবোধি মন্দির খোলা থাকে ভোর ৫টা থেকে রাত ৯টা। মেডিটেশন পার্ক সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা খোলা দর্শনার্থীদের জন্য, মেডিটেশনের জন্য ভোর ৫টা থেকে সকাল ১০টা আর বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা খোলা। বোধগয়া আর্কিওলজিকাল মিউজ়িয়াম খোলা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা, শুক্রবার বন্ধ থাকে।

কেনাকাটা

বিহারের বিখ্যাত মধুবনি পেন্টিং করা পোশাক, ব্যাগ ইত্যাদি কিনতে পারেন। তা ছাড়া, কাগজ বা পাতায় মিনিয়েচার পেন্টিং, ওয়াল হ্যাংগিং, বিডস আর রূপোর গয়না, কাঠ, বাঁশ আর তামার শোপিস, ভাল পাওয়া যায়।

travel
facebook
facebook