vvvv
Travel
Sananda fashion

ঝাড়খন্ড

এটি যে শুধু স্বাস্থ্যকর স্থান তাই নয়, ঝাড়খন্ড মানে এক অন্য সময়ে ভ্রমণ।

g

ঝাড়খন্ডের সঙ্গে বাঙালির আত্মার সম্পর্ক। বাংলা সাহিত্যের স্বর্ণযুগের গল্প উপন্যাসে চরিত্রদের কথাই ভাবুন না! তাঁরা প্রায়ই যেতেন ‘পশ্চিমে’ স্বাস্থ্য ফেরাতে। তবে এটি যে শুধু স্বাস্থ্যকর স্থান তাই নয়, ঝাড়খন্ড মানে এক অন্য সময়ে ভ্রমণ।

রাঁচি

ঝাড়খন্ডের রাজধানী রাঁচি বর্তমানে দ্রুত লয়ে এগিয়ে চলেছে আরবানাইজ়েশনের দিকে। কিন্তু শহুরে আধুনিকতার আর ঐতিহ্যের সুন্দর মেলবন্ধন ঘটেছে এই শহরে।

রাঁচি শহরের অন্যতম আকর্ষণ রাঁচি পাহাড়। পাহড়ের উপর থেকে পুরো শহরটার এক সুন্দর ক্যালাইডোস্কোপিক ভিউ পাওয়া যায়। পাহাড়ার মাথায় দেখা মিলবে প্রাচীন শিবমন্দিরের। স্থানীয়ভাবে পাহাড়ি মন্দির নামে পরিচিত। শ্রাবণমাসে এই মন্দিরে বহু পূণ্যার্থী এই মন্দিরে এসে ভিড় করেন। রাঁচি পাহাড়কে আর এক নাম ‘ফাঁসি টোংরি’। অনেকেই মনে করেন ব্রিটিশ শাসনকালে বহু বিল্পবীকে এই পাহাড়ের ঘন অরণ্যে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। রাঁচি পাহাড় থেকে রাঁচি শহরকে দেখতে ভারি ভাল লাগে। একদিকে দেখা যায় রাঁচি লেক। ১৮৪২ খ্রীস্টাব্দে ব্রিটিশ আমলে এই লেক খনন করা হয়। অন্যদিকে রয়েছে কাঁকে ড্যাম। প্রায় অর্ধেক শহরবাসীর জলের চাহিদা মেটায় এই ড্যাম। বর্তমানে কাঁকে ড্যামও জনপ্রিয় টুরিস্ট স্পট হয়ে উঠেছে।বোল্ডারে ঘেরা এই ড্যামের প্রাকৃতিক পরিবেশ খুব মনোরম। তাছাড়া রয়েছে বোটিংয়ের ব্যবস্থা। সন্ধেবেলা এখানে লাইট অ্যান্ড সাউন্ট মিউজ়িক্যাল ফাউন্টেন প্রদর্শিত হয়। আসুন টেগোর হিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদা জ্যোতিন্দ্রনাথ ঠাকুর এই স্থানের পরিবেশে মুগ্ধ হয়ে এখানে বাড়ি তৈরি করেন। বর্তমানে এটি একটি সমৃদ্ধশালী আর্ট মিউজ়িয়মে পরিণত হয়েছে। রাঁচি আসবেন, আর হুড্রু যাবেন না, তা হয় নাকি? সুবর্ণরেখা নদীর উপর ৩২০ ফিট উচ্চতা থেকে ঝাপিয়ে পড়ছে হুড্রু। বর্ষাকালে হুড্রু আরও উত্তাল হয়ে ওঠে। এমন পরিবেশে এমনই মন ভাল হয়ে যায়। বর্তমানে হুড্রু অ্যাডবেঞ্চারপ্রিয় মানুষদের কাছে জনপ্রিয় ট্রেকিং স্পট হয়ে উঠেছে। হুড্রু থেকে ঘুরে আসুন জোহান ফলস। স্থানীয় গ্রামের নামে এমন নামকরণ। এই অঞ্চলে গৌতম বুদ্ধের একটি মন্দির আছে। বুদ্ধের নামানুসারে জোহান ফলসকে অনেকে গৌতমধারাও বলে থাকেন। আসুন বিরসা ডিয়ার পার্ক। শাল পিপুল গাছে ঘেরা প্রায় ২৩ হেক্টর এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে এই পার্ক। পার্কে তিনটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। এখানে সহজেই দেখা মেলে স্পটেড সম্বর আর চিতল হরিণের।

কীভাবে যাবেন

দমদম এয়ারপোর্ট থেকে রাঁচি বিরসা মুন্ডা এয়ারপোর্টে আসুন। এখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে বিভিন্ন টুরিস্ট স্পটে যেতে পারেন। ট্রেনে হাওড়া রাঁচি শতাব্দী এক্সপ্রেস, হাওড়া রাঁচি ইন্টার সিটি এক্সপ্রেস, হাওড়া হাতিয়া এক্সপ্রেসে রাঁচি নেমে গাড়ি ভাড়া করে নিন।

কোথায় থাকবেন

এমারেল্ড হোটেল:
ডবল বেডরুম ২৫০০ থেকে শুরু। ফোন: ৯১ ০৬৫১ ৬৯০০০৯০।
ই মেল:[email protected] mail-to:[email protected]

হোটেল এলিমেন্ট:
ডবল বেডরুম ৩৫০০ টাকা থেকে শুরু। ফোন: ৯১ ০৬৫১ ২৪৬১৯৩৫/৩৬/৩৭।
ই মেল: [email protected]

হোটেল পার্ক ইন:
ডবল বেডরুম ১৫০০ টাকা থেকে শুরু। ফোন: ৯১ ৬৫১ ২২৫৩২২১।
ই মেল:[email protected]

দেওঘর- দুমকা

দেওগরকে এক কথায় বলা যায় মন্দির শহর। এখানে মোট ২২ টি মন্দির রয়েছে। এর মধ্যে প্র্থমেই উল্লেখ্য বৈদ্যনাথ মন্দির। দেওঘরের উচ্চতম এবং বৃহত্তম মন্দির এটি। এর উচ্চতা প্রায় ৭২ ফুট। শিবের ১২টি জ্যোতির্লঙ্গের একটি এই বৈদ্যনাথ ধাম। ফলে পূণ্যার্থীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান হিসেবে পরিচিত। শ্রাবণমাসে বহু মানুষ এই মন্দির দর্শনে আসেন। দেওঘর উত্‌সবের আমেজে মেতে ওঠে। লক্ষ লক্ষ মানুষ খালি পায়ে প্রায় ১০৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে সুলতানগঞ্জ থেকে গঙ্গা জল বয়ে আনেন শিবের মাথায় ঢালার জন্য। গেরুয়াবসনধারী ভক্তের দল, ঘণ্টাধ্বনি আর ‘বোল ব্যোম’ শব্দে শহর মুখরিত হয়ে ওঠে। বৈদ্যনাথ মন্দিরের আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ঠ্য, এখানে ত্রিশূলের পরিবর্তে রয়েছে পঞ্চশূল। বৈদ্যনাথ ছাড়াও ঘুরে দেখুন বাসুকিনাথ মন্দির, নৌলাখা মন্দির এবং হরিলা জোড়ি মন্দির। দেওঘরের প্রায় প্রতিটি মন্দিররে সঙ্গেই নানা ধরনের গল্প এবং উপকথা জড়িত। বর্তমানে যেখানে হরিলা জোড়ি মন্দির প্রাচীনকালে সেখানে নাকি বহু হরীতকী গাছ ছিল। এবং এরকমই একটি হরীতকী গাছের তলায় শিবলিঙ্গের আবির্ভাব হয়। তাই এই মন্দিরে পূজিত শিব ‘হরীতকীনাথ’ নামেও পরিচিত। নৌখালা মন্দিরের গঠনশৈলী অপূর্ব। এখানে রাধা-কৃষ্ণ পূজিত হন। এই মন্দির নির্মাণ করতে নাকি ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। তাই নাম নৌলাখা মন্দির। ঝাড়খন্ডের অনন্যতম প্রধান আকর্ষণ ত্রিকূট পাহাড়। মহাকাব্য রামায়ণের সঙ্গে এই ত্রিকূট পাহাড়ের কাহিনি জড়িত। ত্রিকূটের তিনটি চূড়াকে বহ্মা, বিষ্ণু এবং মহেশ্বর রূপে গন্য করা হয়। এই তিনটি চূড়ার মাঝে একটি বিস্তৃত সমতলভূমি রয়েছে। বারণ নাকি শিবের দর্শনে এলে তাঁর পুষ্পক রথ এইস্থানে রাখতেন। যুক্তি তক্কো সরিয়ে রেখে সেই ছোটবেলা থেকে পড়ে আসা রামায়ণের গল্পগাঁথাকে বাস্তবে মিলিয়ে নিতে ভালই লাগে। ত্রিকূটের অন্যতম আর্কর্ষণ এর যাত্রাপথ। ২২০০ ফুট উঁচু ত্রিকূটে পৌঁছনোর জন্য রয়েছে রোপওয়ে। এটিই ঝাড়খন্ডে নির্মিত প্রথম রোপওয়ে।

দুমকার প্রধান আকর্ষণ তাঁতলয় উষ্ণ প্রস্রবণ। বড়পলাশির কাছে, ভুরভুরি নদীর তীরে তাঁতলয়তে পাঁচটি উষ্ণ প্রস্রবণ রয়েছে। এই অঞ্চলটি সবসময়ই পর্যটকদের আকর্ষণ করে, বিশেষ করে শীতকালে এবং মকর সংক্রান্তির দিনে উষ্ণ প্রস্রবণে স্নান বহু জনসমাগম হয়। এই প্রস্রবণের জল সালফার সমৃদ্ধ এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় দারুণ কাজ দেয়। ভআগলপুর থেকে দুমকা-ভাগলপুর অথবা রাঁচি থেকে রাঁচি-ভাগলপুর বাসে তাঁতলয় আসতে পারেন।

কীভাবে যাবেন

দেওঘরের সবচেয়ে কাছে এয়ারপোর্ট পাটনা। দমদম থেকে ফ্লাইটে পাটনা এসে গাড়ি ভাড়া করে নিন। হাওড়া থেকে পূর্ব এক্সপ্রেস, মৈথিলী এক্সপ্রেস, ঊপাসনা এক্সপ্রেস ইত্যাদি ট্রেনে বৈদ্যনাথ ধামে নেমে সেখান থেকে গাড়িতে দেওঘর পৌঁছনো যাবে।

কোথায় থাকবেন

হোটেল বৈদ্যনাথ:
ডবল বেডরুম ১৫০০ টাকা থেকে শুরু। ফোন: ০৬৪৩২ ২২৫৯৭৬। ওয়েবসাইট: www.baidyanathhotel.com

হোটেল রামেশ্বরম:
ডবল বেডরুম ২২০০ টাকা থেকে শুরু।
ফোন: ৯১ ৬৪৩২ ২৪০৮৮৮
ই মেল: [email protected]

নেতারহাট বেতলা

প্রকৃতির কোলে অবসর কাটাতে আসুন নেতারহাট-বেতলা। ঘন অরণ্য, পাহাড়ের বুকে আঁকাবাঁকা রাস্তা, ঠান্ডা বাতাস, পাখির কুজন, আর জ্যোত্‌স্না রাতে অরণ্যের রূর দর্শন, এককথায় অভূতপূর্ব। ঘরের এত কাছেই যে এমন মায়াবী পরিবেশ আপনার অপেক্ষায় তা না দেখলে বিশ্বাস হয় না।

নেতারহাটের অন্যতম দ্রষ্টব্য কোয়েল ভিউ পয়েন্ট। সবুজ পাহাড়ের বুকে দাঁড়িয়ে উপভোগ করুন দিগন্ত বিস্তৃত মাইলের পর মাইল সবুজ ক্ষেত্র। কোয়েল ভিউ পয়েন্টের ১০ কিলোমিটার নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে কোয়েল নদী। আমাদের দেখা পরিচিত শৈল শহরগুলির চেয়ে এর রূপ অনেকটাই আলাদা। আসলে অঞ্চলটি মালভূমির উপর, তাই প্রকৃতিতে কোথাও আকাশ ছুঁয়ে ফেলার ঔদ্ধত্য নেই, বরং মাটির কাছাকাছি থেকে, বুনো গন্ধ শরীরে মেখে প্রকৃতিকে আপন করে নেওয়া যায়। এখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের রূপ দেখা এক অন্যস্বাদের অভিজ্ঞতা। সোনালি, কমলা আলো মেখে আকাশ যেন রঙের প্যালেট, আর নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে রূপোলি কোয়েল, আকাশের প্রতিচ্ছবি ধরা পড়ে নদীর বুকে। এ যেন এক স্বপ্নমাখা আবেশ।

বেতলার প্রধান আকর্ষণ বেতলা ন্যাশনল পার্ক। প্রায় ২৫০ বর্গ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে গড়ে ওঠা এই অরণ্য জীব বৈচিত্র্যের এক অন্যতম সম্ভার। এটি এই অঞ্চলে ৯ টি বাঘকে নিয়ে প্রথম টাইগার রিজার্ভ হিসেবে গড়ে ওঠে। বর্তমানে এই অঞ্চলে প্রায় ৩০টির মতো বাঘ রয়েছে। বাঘ ছাড়াও বেতলায় আরও প্রায় ৪৭ টি প্রজাতির স্তন্যপায়ী এবং প্রায় ১৭৪ প্রজাতির পাখির দেখা মেলে। অরণ্যের অন্যন্য বাসিন্দাদের মধ্যে অন্যতম বাইসন, চিতল, হাতি, শ্লথ, বন্য ভালুক, শম্বর, নীলগাই, হরিণ, অ্যান্টিলোপ ইত্যাদি। বর্ষাকাল ছাড়া এই অরণ্য সারাবছরই টুরিস্টেদের জন্য খোলা থাকে। তবে নভেম্বর থেকে এপ্রিল বেতলা ভ্রমণের জন্য আদর্শ। জঙ্গলের অনেকটা গভীর পর্যন্ত গাড়ি চলার ব্যবস্থা আছে। ফলে অরণ্যকে আরও কাছ থেকে এক্সপ্লোর করা যায়। এছাড়া পার্কের ভিতর রয়েছে এলিফ্যান্ট রাইডের ব্যবস্থা।

travel
facebook
facebook