Your child
Sananda fashion

সন্তানের সুরক্ষা

ঘরে, স্কুলে এমনকী ইন্টারনেটে ছড়িয়ে আছে নানা ধরনের বিপদ। সম্তানকে সুরক্ষিত রাখতে ওকে বিভিন্ন পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য আগে থেকে তৈরি রাখুন।

g

নিউক্লিয়ার ফ্যামিলিতে থাকেন, সকালবেলায় আপনার সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে আপনিও বেরিয়ে যান অফিসে। সারাদিনে অফিসে ব্যস্ত থাকেন আপনি, এদিকে আপনার সন্তান ছুটির পর স্কুল বাসে করে একা-একাই বাড়ি ফিরে আসে, তারপর যতক্ষণ না আপনি বাড়ি ফিরছেন, ততক্ষণ আয়ার জিম্মাতে বা ক্রেশেই কাটে তার গোটা দিন। অর্থাৎ সেভাবে দেখলে প্রায় সারাদিনই একা থাকতে হয় আপনার বাচ্চাকে। বারবার ফোন করে আপনার ছোট্ট সোনার খোঁজ নেন ঠিকই, কিন্ত তাতেও কি পুরোপুরি আশ্বস্ত হওয়া যায়? সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক। তাই আপনার অবর্তমানে যদি সন্তানকে একা থাকতেই হয়, তাহলে তাকে ঝটপট শিখিয়ে রাখুন ছোট্ট কয়েকটা জিনিস।

আপনার সন্তানকে যদি বাড়িতে একা-একা থাকতে হয়, তাহলে তাকে সাবধানতা অবলম্বন করতে শেখান। বুঝিয়ে দিন, যেন সে যখন-তখন আয়ার সঙ্গে বাড়ি থেকে না বেরিয়ে যায়। বাড়িতে যদি আয়াও না থাকে, আর আপনার সন্তানকে একা থাকতে হয়, তা হলে ও যেন কোনওভাবেই বাড়ির বাইরে না যায় তা পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিন। কেউ বেল বাজালেই যাতে দরজা না খোলে, সেটাও ওকে বলবেন। দরজা খোলার আগে আই-হোলে আগে দেখে নিতে বলুন। যত চেনা লোকই হোক না কেন, বড়রা বাড়িতে না থাকলে দরজা না খোলাই ভাল। একা বাড়িতে থাকার দায়িত্ব যে অনেক, সেটা ওকে শেখান।

আপনার সন্তানকে কিন্তু সবসময় আপনাদের বাড়ির পুরো ঠিকানা মুখস্থ করিয়ে রাখবেন। হারিয়ে গেলে ও তা হলে পুলিশকে অন্তত নিজের ঠিকানা বলতে পারবে। আপনার ও আপনার স্বামীর নাম, ফোন নম্বর ওকে মুখস্থ করিয়ে নিন। আর ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা, আপনাদের দু’জনের অফিসের ঠিকানা লিখে ওর কাছে একটা কাগজে রেখে দিন।

সন্তানের সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছেন? আর ভিড়ের চাপে কখন যে ওর হাত আপনার হাত থেকে ছেড়ে গিয়েছে, আপনি বুঝতেও পারেননি! প্যানিক করবেন না। এইরকম পরিস্থিতির জন্য সন্তানকে আগে থেকে তৈরি রাখুন। এইরকম পরিস্থিতি যদি কখনও এসে থাকে, তাহলে আপনার সন্তানকে প্যানিক করতে বারণ করবেন। ছোট্ট বাচ্চার কাছে মোবাইল থাকবে, আর সে হারিয়ে যাওয়া মাত্রই আপনাকে ফটাফট ফোন করবে, সে আশা করা অন্যায়। তাই হারিয়ে গেলে ও কী করবে, সেটা ওকে আগে থেকেই শেখান। ওইসময় অচেনা কেউ ডাকলেও ও যেন না যায়, সেটা বলুন, আর হ্যাঁ, বাচ্চাদের বড় ভরসা পুলিশরাই। তাই ওকে বলবেন, হারিয়ে গেলে ভয় না পেয়ে ও যেন রাস্তার কোনও পুলিশের কাছে গিয়ে ভাল করে ওর পরিস্থিতিটা বুঝিয়ে বলে।

আপনার সন্তানের কাছে সবসময় অরিজিনাল আই কার্ড রাখতে আমরা বলছি না। কিন্তু একটা আই কার্ডের জ়েরক্স তো ওর কাছে সবসময়ের জন্য রেখে দিতেই পারেন। খেয়াল রাখুন, ও যেন তা যত্ন করে রাখে। ধরুন কখনও আপনার সন্তান যদি হারিয়ে যায় এবং তখন ঠিকানা না মনে থাকে, তা হলে ওর কাছে থাকা আই কার্ড দেখে সেটা পুলিশ সঠিক ব্যবস্থা নিতে পারবে।

স্কুলে যৌন নিগ্রহ— এ ধরনের ঘটনা কিন্তু এখন আকছার ঘটছে। তাই সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়েও কিন্তু আপনার ওর নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকার উপায় নেই। স্কুলে তো আপনি থাকবেন না, তাই তখন নিজের একটু দায়িত্ব তো ওকেই নিতে হবে। সন্তানকে ছোট থেকে যৌনতা সম্পর্কে সাবধান করুন। যৌনতা নিয়ে ছোটদের কাছে আড়াল করার এখন আর কিছুই নেই। কাকে বলে ‘গুড টাচ’, আর কোনটাই বা ‘ব্যাড টাচ’, সেটা ওকে বোঝান। ছোটদের সঙ্গে এমন অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটলে ওরা অনেকসময় সাহস করে বড়দের বলে উঠতে পারে না। তাই ওদের বন্ধু হয়ে উঠুন, যাতে ওরা সব কথা নির্দ্বিধায় আপনাদের বলতে পারে।

এখন অনেক কম বয়স থেকেই বাচ্চাদের হাতে থাকে স্মার্টফোন। আর স্মার্টফোন মানেই ইন্টারনেটের ফ্রি দুনিয়ায় অবাধ প্রবেশের ছাড়পত্র। স্কুলে বা বন্ধুমহলে ওদের মধ্যে বয়সোপযোগী কিছু মুখরোচক গল্প হওয়াকে তো আপনি আটকাতে পারবেন না। কিন্তু রাশ টানতে পারেন ও মোবাইল, থুড়ি নেট ব্যবহারের উপরে। স্মার্টফোন ওকে যতদূর সম্ভব কম ব্যবহার করতে দিন। ল্যাপটপে আর মোবাইলে পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখুন। আর বাচ্চাকে নেট-বর্জিত রাখা আজকের দুনিয়ায় সত্যিই সম্ভব নয়। তাই যখনই ওকে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দেবেন, সামনে বা পাশে বসে থাকার চেষ্টা করবেন, তবে খবরদারি করবেন না।

কিছু ছোট-ছোট জিনিস আপনার সন্তানকে শিখিয়ে রাখুন। যেমন, ভিজে হাতে সুইচবোর্ডে হাত দেওয়া একদম উচিত নয়। ওতে শক খাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর আপনার সন্তান যাতে একা-একা গ্যাস জ্বালাতে না যায়, সে দিকে নজর রাখবেন। এ ছাড়া রান্নাঘরে ছুরি বা অন্যান্য নানা ধারালো জিনিস অনেকসময় এমনিই পড়ে থাকে। এবার থেকে সেইসব বিষয়ে আপনি সতর্ক হন। সেগুলো আপনার সন্তানের থেকে দূরে কোথাও রাখুন যাতে ও হাতের নাগাল না পায়। এইসমস্ত বিষয়ের দিকে আয়াকেও নজর রাখতে বলুন।

facebook
facebook