Your child
Sananda fashion

কনস্টিপেশন

বাচ্চার পেটব্যথা, গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা নিয়ে জেরবার অনেক বাবা-মা। তাদের মুশকিল আসান করলেন ডা. ত্রিদিব বন্দ্যোপাধ্যায়।

g

ইন্দ্রায়ণীর মেয়ে সম্রাজ্ঞীর ছোট থেকে একটাই সমস্যা কনস্টিপেশন। তিন থেকে চারদিন অন্তর-অন্তর সে পটি করে। কখনও গ্যাপিং আরও বেশি থাকে। ফলে মাঝেমধ্যেই হয় পেটব্যথা। যত ভাল করে খাবার বানিয়ে দেওয়া হোক না কেন, সম্রাজ্ঞীর খাওয়ার ইচ্ছে কোনও সময়ই থাকে না। পেটে মাঝেমধ্যেই গ্যাস হয়। এমনকী, ইনডাইজেশনও হয়। পটি করার সময় তা শক্ত হওয়ার কারণে, খুব কষ্টও হয়। এবং তা খুবই দুর্গন্ধযুক্ত। সমস্যাটা ইন্দ্রায়ণীর একার নয়। যাঁরা এখন আমাদের ম্যাগাজ়িনটি পড়ছেন, তাঁদেরও অনেকেও হয়তো নিজের ছোট্ট সোনার এই সমস্যার কারণে চিন্তায় জেরবার। পেডিয়াট্রিশিয়ানদের কাছে যত বাচ্চা আসে, তার মধ্যে প্রায় তিন শতাংশই আসে, এই সমস্যা নিয়ে। তাই আপনাদের কপাল ভাঁজমুক্ত করে, লিটল ওয়ানকে আরাম দেওয়ার কয়েকটা পন্থা বাতলে দিলাম।

কনস্টিপেশনের লক্ষণ

প্রথমেই বলব, এই সমস্যা যেসব বাচ্চাদের থাকে, তাদের বাওয়াল মুভমেন্ট খুবই অনিয়মিত এবং পেনফুল। পটি খুব শক্ত হয়, তাই তা করার সময় পেটে ব্যথাও হয়। মাঝেমধ্যে খিঁচ দিয়েও পেটব্যথা হয়। পেটব্যথার ভয়ে, কনস্টিপেশন যেসব শিশুর আছে, তারা অনেকসময়ই পটি করতে চায় না। ফলে সমস্যা আরও জটিল হয়। জন্মের পর যেসব শিশুরা ব্রেস্টফিড করে, তাদের এই সমস্যা কম হয়। কিন্তু আর্টিফিশিয়াল ফিডিং করলে, কনস্টিপেশনের সমস্যা বেশি হয়। ছোট বাচ্চাদের কনস্টিপেশনের সমস্যা সহজে ধরা যায়, কারণ তারা বাবা-মায়ের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু যারা স্কুলে পড়ছে, তারা অনেকসময়ই এ ধরনের সমস্যার কথা বাবা-মাকে জানাতে চায় না। তাই বোঝা মুশকিল হয়। ফলে সমস্যা চিহ্নিত করতে দেরি হয়। এক্ষেত্রে বাথরুমে যদি আপনার ছেলে বা মেয়েকে বেশি সময় কাটাতে দেখা যায়, তা হলে সচেতন হবেন। আপনার সন্তানের নিয়মিত বাওয়েল ক্লিয়ার না হলেও, এক-দু’দিন অন্তর যদি তা ক্লিয়ার হয় এবং সফ্ট হয়, সেটাকে কিন্তু কনস্টিপেশন হিসেবে ধরে নেবেন না। গুরুতর কনস্টিপেশন যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে এবং তার ট্রিটমেন্ট করা না হয়, তা হলে কখনও-কখনও লিকুইড স্টুল লিকেজের মতো প্রবলেম হয়। তাকে বলা হয় এনকপ্রেসিস।

নর্মাল বাওয়েল মুভমেন্ট

সদ্য জন্মানো শিশু, যারা ব্রেস্টফিড করছে, প্রতিদিন সাত-আটবার কিংবা তার চেয়ে বেশিবারও লিকুইড স্টুল পাস করতে পারে। আবার সপ্তাহে এক কিংবা দু’বারও পটি করতে পারে। আবার টডলাররা দিনে তিনবারও বাওয়েল ক্লিয়ার করতে পারে। একটু বড় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে দিনে তিনবার কিংবা সপ্তাহে তিনবারও হতে পারে।

সমাধান

খুব ছোট বাচ্চাদের এ ধরনের সমস্যা হলে, তাদের পুরোপুরি ব্রেস্টফিড করানোই ভাল। অনেকে আবার পুরনো থিয়োরি অনুযায়ী পানের বোঁটা দিয়েও বাচ্চাকে পটি করান। কিন্তু এতে বাচ্চার নর্মাল রিফ্লেক্সটা নষ্ট হয়ে যায়। তাই পুরনো এই টোটকা থেকে অবশ্যই দূরে থাকুন। ছ’মাসের পর থেকে বাচ্চাকে জুস দিন। খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে অবশ্যই সতর্ক হোন। অনেকসময়ই বাচ্চাদের হাই ফ্যাট ও লো ফাইবার ডায়েটের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। বেশি পরিমাণে দুগ্ধজাত দ্রব্য খাওয়া এবং ফল ও সবজি এড়িয়ে চলার কারণেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। কনস্টিপেশন থাকলে বাচ্চার দু’বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত লো ফ্যাট মিল্ক বা সয়া মিল্ক খাওয়ান, হোল মিল্কের বদলে। তবে দুগ্ধজাত প্রডাক্ট খাওয়ানো যদি কমিয়ে আনেন, খেয়াল রাখবেন, আবার ক্যালশিয়ামের অভাব না হয়। তাই নিয়ম করে কমলালেবুর রস খাওয়াবেন। বাচ্চা যতই আপত্তি করুক তার রোজকার খাদ্যতালিকায় রাখুন সিজ়নাল বিভিন্ন ফল, টাটকা সবুজ শাক-সবজি। রান্না করা গাজর, হাই ফ্যাট ফুড, রিফাইনড ফুড যেমন, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, বার্গার, বেসনে ভাজা খাবার ইত্যাদি যত কম খাওয়া যায়, ততই ভাল। জল বেশি করে খাওয়াবেন, সেই সঙ্গে রসালো ফল, যেমন, আপেল, নাসপাতি, মুসম্বি, আঙুর। বাচ্চাকে নিয়মিত বাওয়েল মুভমেন্টের অভ্যেস করান। দিনে অন্তত দু’বার, যেমন ধরুন খাওয়াদাওয়ার পর তাকে বাথরুমে যেতে বলুন। কোনও জবরদস্তি নয়, তাকে উৎসাহ দিন, একবার বাথরুম থেকে ঘুরে আসার জন্য। ওকে কিছু শারীরিক এক্সারসাইজ়ও করান, যেমন নিয়ম করে খেলতে পাঠানো বা বিকেলে দৌড়ানো কিংবা সাঁতার কাটা। সমস্যা খুব বেশি হলে, বাচ্চার বাওয়েল মুভমেন্ট স্বাভাবিক করার জন্য স্টুল সফ্টনার ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু বাবা-মায়েরা অনেকসময়ই বাওয়েল সফ্ট হয়ে গেলেই সফ্টনার ব্যবহার বন্ধ করে দেন, তার প্রতি বাচ্চার আসক্তি জন্মাবে মনে করে। তাঁদের এই ভুল ধারণার কারণে, সফটনার বন্ধ করার পরই আবার সমস্যা ফিরে আসে। টানা ছ’মাস স্টুল সফটনার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সেটা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করুন।

facebook
facebook