Your child
Sananda fashion

অ্যাগ্রেসিভ সন্তানের জন্য

বাচ্চা কথায় কথায় রেগে যায়, ভাঙচুর শুরু করে? অ্যাগ্রেসিভ বাচ্চার পেরেন্টিং নিয়ে একটি আলোচনা।

g

আদৃত যখন ছোট ছিল, তখন অর্পিতা ভাবত ওর মতো দুরন্ত বাচ্চা বোধহয় আর হয় না। ভেবেছিল বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এই দুষ্টুমি অনেকটাই কমে যাবে। কিন্তু ওর বয়স এখন দশ। মোটামুটি বড়ই হয়ে গেছে। ওর দুরন্তপনার ধরনটা কখন যেন বদলে গেছে। এখন ওকে ভায়োলেন্ট মনে হয়। বাড়িতে অন্য বাচ্চা এসে ওর খেলনা চাইলেই প্রায় মারধর শুরু করে। কিছু নিয়ে বায়না করলে, সেটা না দিলেই চেঁচামেচি শুরু করে। অনেক সময় হাতের কাছে যা থাকে, তাই ছুঁড়ে ফেলে। পড়াশোনাতেও মন নেই ছেলের। তার মন পড়ে থাকে টিভি শো আর কম্পিউটার গেমসে। অর্পিতা বুঝে উঠতে পারে না এই ধরনের ব্যবহার কি স্বাভাবিক? সময়ের সঙ্গে কি এটা কেটে যাবে? নাকি এটার জন্যে বিশেষ কোনও ভাবনাচিন্তার প্রয়োজন?

আধুনিক জীবনে জটিলতার প্রভাব যখন প্রকট হয়ে ওঠে, শিশুদের কোমল মনে তখনই দেখা দেয় ভায়োলেন্স এবং অ্যাগ্রেশন। সবার চেয়ে সেরা হওয়ার ইঁদুর দৌড়ে সামিল এই শিশুদের জীবনে স্ট্রেস, টেনশন, ফ্রাসট্রেশন, অ্যাংজ়াইটি সব কিছুই মাত্রাছাড়া। এ ছাড়া বাবা-মায়ের অসীম প্রত্যাশার বোঝা টানতে টানতে ক্লান্ত বাচ্চারা যখন ঘুরে দাঁড়ায়, তখনই তাঁদের ব্যবহার হয়ে উঠতে পারে হিংসাত্মক। বাচ্চাদের এই আগ্রাসী মনোভাবের পিছনে যে কারণটা বড় হয়ে দাঁড়ায় তা হল অন্যকে ব্যথা বা কষ্ট দেওয়ার একটা প্রবল ইচ্ছা। তবে শিশুরা অ্যাগ্রেশন ব্যক্ত করে কিছু নির্দিষ্ট ব্যবহারের মাধ্যমে।

আপনার শিশুর মধ্যে যদি আগ্রাসী মনোভাব লক্ষ করেন, তা হলে খুঁটিয়ে দেখুন এটা ওর সাধারণ ব্যবহারের অন্তর্গত, নাকি কোনও নির্দিষ্ট মুহূর্তে ও অ্যাগ্রেসিভ হয়ে ওঠে। যদি দেখেন ভায়োলেন্স ওর ব্যক্তিত্বের একটা অঙ্গ হয়ে উঠেছে, তা হলে ওর মধ্যে জমে থাকা এনার্জি খরচ করার একটা ইতিবাচক উপায় খুঁজে বের করুন। ফুটবল, অ্যাথলেটিকস, টেনিসের মতো খেলায় উৎসাহ দিন। বাড়ির বাইরের দেওয়ালে একটা বাস্কেটবলের নেট লাগিয়ে দিন, যাতে ও যখন ফ্রি থাকবে, তখন যেন একা একাই খেলতে পারে। ধরাবাঁধা সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট বার বলটা বাস্কেটে ফেলতে পারলে ওর মনের মতো উপহার দিন।

যদি লক্ষ্য করে দেখেন কয়েকটি বিশেষ মুহূর্তে ও অ্যাগ্রেসিভ হয়ে উঠছে, তা হলে সেটার পিছনে কী কারণ থাকতে পারে সেটা খুঁজে বের করতে হবে। অনেকসময় বাড়ির লোক বা বন্ধুরা মজা দেখার জন্যে কোনও একটা বিশেষ নামে ডেকে বাচ্চাকে খেপিয়ে তোলে। কখনও বা সমবয়েসী বন্ধু বা ছোট ভাইবোনেদের সঙ্গে তুলনা টেনে বাচ্চার মধ্যে হীনম্মন্যতা বোধ জাগিয়ে তুলে, শিশুকে লজ্জায় ফেলার চেষ্টা করা হয়। এই ধরনের ব্যবহার পেলে বাচ্চার ভায়োলেন্ট হয়ে উঠতে পারে। সেই জন্য ও যাতে কোনঠাসা হয় বা অপ্রস্তুত হয়, এরকম ব্যবহার না করাই বাঞ্ছনীয়। অতিথি বা বাইরের মানুষজনের সামনে তো একেবারেই নয়।

অনেকসময় বাচ্চারা না বুঝেই নিজেদের মধ্যে মারামারি বা কামড়াকামড়ি করে থাকে। বড়রাও খেলাচ্ছলে এতে যোগ দেন মাঝে মাঝে। এতে কিন্তু বাচ্চারা বেশ উৎসাহিত হয়ে আরও বেশি করে মারামারি শুরু করে। যদি দেখেন বাচ্চা (যত ছোটই হোক না) কোনওরকম আগ্রাসী ব্যবহার করছে, তা হলে ওকে বিরত করার চেষ্টা করুন। কিন্তু বকেঝকে বা মেরে নয়। কিছুক্ষণের জন্যে বাচ্চাদের আলাদা করে দিন। একজন বাচ্চাকে বাইরে নিয়ে যান। কোনওভাবে ওকে বুঝিয়ে দিন যে এই ব্যবহার আপনি একেবারেই সমর্থন করছেন না। এই ধরনের ব্যবহার বারবার করলে কিছুদিনের জন্যে কথা বন্ধ করে দিন।

যদি বাড়ির বড়রা কথায় কথায় চেঁচামেচি করেন, গায়ে হাত তোলেন বা জিনিসপত্র ভাঙেন, বাচ্চাদের উপর তার প্রভাব পড়তে বাধ্য। হয় বাচ্চারা প্রচন্ড গুটিয়ে যাবে বা ভিতু হয়ে পড়বে, নয়তো বড়দের আচার-আচরণ নকল করবে। সেই জন্যে উত্তেজনা বা রাগের মুহূর্তে নিজের ব্যবহার সংযত রাখা জরুরি। বাচ্চাকে শেখান খুব রাগ হলে গান শুনতে বা কার্টুন দেখতে, যাতে ও মজা পায়। যার উপর রাগ হয়েছে তাকে না মেরে একটা পুরোনো কুশনে ঘুষি মেরে রাগ কমিয়ে ফেলার একটা মজার গেমও খেলতে পারেন। যদি রাগের সময় ওর মুখে কোনও খারাপ কথা শোনেন, তাহলে প্রথমেই বকাঝকা শুরু না করে, ওকে বুঝিয়ে বলুন কেন এ ধরনের কথা বলা উচিত নয়। তারপরও যদি ওর মুখে একই কথা শোনেন, তা হলে একটা চ্যালেঞ্জ ঠিক করুন। যদি ও টানা একমাস কোনও খারাপ কথা না বলে, ওকে একটা প্রাইজ় দিন। কিন্তু ব্যবহার রিপিট করলে ওর পছন্দের যে কোনও একটা অ্যাক্টিভিটি বেশ কিছুদিনের জন্যে বন্ধ করে দিন।

ছেলেবেলা থেকেই শিশুকে কোনও না কোনও সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত করুন। গানবাজনা, ছবি আঁকার মতো অ্যাক্টিভিটি ওকে মনঃসংযোগ করতে সাহায্য করবে। এ ছাড়া জিগ-স, বিল্ডিং ব্লকস, মোনোপলির মতো ফোকাসিং গেমও বাচ্চাকে সাহায্য করবে।

আমার দিদি ও জামাইবাবু দুজনেই চাকরিসূত্রে আলাদা শহরে থাকেন। ওঁদের চার বছরের একটি ছেলে আমার কাছে থাকে। ছেলেটিকে স্কুলে বাবাকে নিয়ে নানারকম প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। ও কী উত্তর দেবে বুঝতে পারে না। কীভাবে সিচ্যুয়েশন হ্যান্ডেল করব?
দেবারতি সেন, রাজারহাট

ছেলেটিকে বুঝিয়ে বলুন, ওর বাবা আলাদা শহরে চাকরি করে। সেই কারণেই অন্য জায়গায় থাকে। আর আপনারা সামার ভেকেশন বা ক্রিসমাস ভেকেশনের সময়গুলো একসঙ্গে কাটান। কেউ জিজ্ঞেস করলে, ওকে বলতে বলুন কখন ওর বাবার সঙ্গে দেখা হয়, কীভাবে একসঙ্গে সময় কাটায়, তা হলেই সহজে এই পরিস্থিতি হ্যান্ডেল করতে পারবেন।

facebook
facebook