Your child
Sananda fashion

হাইজিনের অভ্যেস

বাড়ির খুদে সদস্যটিকে হাইজিনের অভ্যেস করাতে গিয়ে অনেক বাবা-মায়েরই নাজেহাল অবস্থা হয়। আসলে বাচ্চাকে শুধু শাসন করা বা নির্দেশ দিলেই হবে না, ওকে বোঝান ওর মতো করে। তা হলেই দেখবেন বিচ্ছুটিকে বাগ মানানো অনেকটা সহজ হবে।

g

বাইরে থেকে এসে হাতমুখ ধোওয়া, রাতে ঘুমতে যাওয়ার আগে দাঁত মাজা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জামাকাপড় পরা — এই ধরনের অভ্যেসগুলো শুধু ছোটদের জন্য নয়, রোগজীবাণু থেকে দূরে থাকতে প্রত্যেকেরই মেনে চলা উচিত। আর বাড়ির খুদে সদস্যটির ক্ষেত্রে সঠিক হাইজিন মেনে চলা তো আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বড়দের চাইতে ছোটদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম থাকে। ফলে ওরা সহজেই বিভিন্ন রকম রোগে কাবু হয়ে পড়তে পারে। সঠিক হাইজিন মেনে চললে কিন্তু এই ধরনের ছোটখাটো রোগ থেকে সহজেই বাচ্চাকে দূরে রাখা যায়। কিন্তু ছোটরা নিজের মনের রাজা! তাদের খেয়ালখুশি, বায়নার সীমা নেই। আমরা বড়রা না হয় গুরুত্ব দিয়ে অভ্যেগুলো রুটিনের মতো রপ্ত করে নিতে পারি। কিন্তু বাচ্চাদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কড়া শাসন কিংবা নির্দেশ দিলেই যে ওরা হাইজিন মেনে চলবে, তা কিন্তু নয়। তাই শুধু হাইজিনের অভ্যেস নয়, কেন এগুলো মেনে চলা উচিত সেটাও বাচ্চাকে বোঝাতেও হবে। গুরুগম্ভীর তথ্য নয়, খেলার ছলে ওকে বোঝান ওর মতো করে। এখানে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই ভাবেন বাচ্চা একটু বড় হলে তখন হাইজিনের অভ্যেস করালেই হবে। এই ধারণা কিন্তু একেবারেই ভুল। হাইজিনের শিক্ষা দেওয়া শুরু করুন একেবারে ছোট বয়স থেকে। ছোট ছোট অভ্যেসের মাধ্যমে ওর মধ্যে হাইজিনের বোধ গড়ে তুলুন। একবার এগুলো ওর রুটিনের অন্তর্গত হয়ে গেলে দেখবেন আর কোনও সমস্যা হবে না।

বাচ্চার দুধের দাঁত ওঠা শুরু হলেই দাঁত পরিষ্কার করা শুরু করুন। শিশুর ৫-৬ মাস বয়সে যখন দাঁতের সংখ্যা নগন্য, তখন পরিষ্কার কাপড় দিয়ে দাঁত আলতো করে মুছিয়ে দিন। চেষ্টা করুন দিনের নির্দিষ্ট সময়ে সকালে উঠে বা রাতে শোওয়ার আগে দাঁত পরিষ্কার করে দিতে। এক বছর হয়ে গেলে ছোটদের জন্য উপযুক্ত ব্রাশ এবং পেস্ট কিনে দিন। এই বয়সে বাচ্চারা মা বাবাকে যা করতে দেখে তাই নকল করে। ওকে ব্রাশ ধরিয়ে দিয়ে আপনিও পাশে দাঁড়িয়ে ব্রাশ করুন। বাচ্চার আর একটু বড় হলে খেয়াল রাখুন ও ঠিকমতো ব্রাশ করছে কিনা। সামনের দাঁতের মতো মুখের ভিতর দিকও ঠিকমতো পরিষ্কার করা প্রয়োজন। তবে বেশিরভাগ বাচ্চাই ধৈর্য ধরে ব্রাশ করতে চায় না। শিশু ব্রাশ করার সময় সুর করে ছড়া কেটে ‘আপ অ্যান্ড ডাইন, রাউন্ড অ্যান্ড রাউন্ড’ বলতে পারেন। এতে ও উৎসাহ পাবে। ওকে খেলাচ্ছলে বুঝিয়ে দিন ঠিকমতো ব্রাশ না করলে দাঁতের কী কী ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া চকোলেট বা মিষ্টি জাতীয় কিছু খাওয়ার পরই বাচ্চা যাতে মুখ ধুয়ে নেয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।

বাচ্চা যেন বাইরে থেকে এসে সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে হাত-মুখ ধোয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। বাচ্চা ছোট থাকতেই বিকেলের দিকে বেড়াতে নিয়ে গেলে বাড়ি এসে ওর হাত-পা পরিষ্কার করে মুছে দিন। স্কুলে যাওয়া শুরু করলে, বাড়ি ফেরার পর প্রথমেই বলুন জামাকাপড় ছেড়ে হাত-মুখ ধুয়ে যেন পরিষ্কার জামাকাপড় পরে নেয়। এছাড়া যেকোনও কিছু খাওয়ার আগে হাত ধোওয়াও জরুরি। তবে এই অভ্যেস যেন বাড়ির বাকি সকলের মধ্যেও থাকে। একা ওর উপর নিয়ম চালু করলে কিন্তু ও মানতে চাইবে না। পড়াশোনার ফাঁকে যদি কিছু খেতে দেন তাহলে সন্তানের হাতের কাছে হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ার রাখুন। এতে পড়া ছেড়ে বারবার উঠতে হবে না। বাইরে বেরলে হ্যান্ড স্যানিটাজ়ার অবশ্যই ক্যারি করুন যাতে বাইরে কিছু খেতে হলে তার আগে হাত পরিষ্কার করে নিতে পারেন।

হাইজিন শিক্ষার অন্যতম, টয়লেট ট্রেনিং। বাচ্চা ছোট থাকতেই নির্দিষ্ট সময় অন্তর টয়লেট করানোর চেষ্টা করতে পারেন। বাচ্চা বসতে শিখলেই ওকে পটি সিটে বসানোর অভ্যেস করান। এতে একটু বড় হলেই বাচ্চা নিজেই বোঝানোর চেষ্ট করবে ওর টয়েলেট পেয়েছে। সবচেয়ে ভাল হয় যদি কোনও একটা নির্দিষ্ট সময়ে পটি সিটে বসানোর অভ্যেস করাতে পারেন। প্রত্যেকবার টয়লেট বা পটি করার পর বাচ্চার জেনিটাল পরিষ্কার করে ধুয়ে শুকনো করে মুছিয়ে দিন। বাচ্চারা যখন নিজে স্নান করা শুরু করবে তখন খেয়াল রাখুন ও যাতে ঠিকভাবে জেনিটাল পরিষ্কার করে।

সপ্তাহে একদিন বাচ্চার নখ কেটে দিন। অনেক বাচ্চার নখ তাড়াতাড়ি বড় হয়। সেক্ষেত্রে সপ্তাহের মাঝেও নখ কেটে দিতে হবে। নখের মধ্যে জমা ময়লা থেকে নানা ধরনের পেটের অসুখ হতে পারে। তাই এ ব্যাপারে সাবধান থাকাই ভাল। এর পাশাপাশি মাঝেমধ্যে শিশুর কান পরিষ্কার করে দেওয়া উচিত। তবে কখনই কানে খোঁচাখুঁচি করবেন না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

বাচ্চার ব্যাগে সবসময় রুমাল দিয়ে রাখুন। ঠান্ডা লাগলে হাঁচি কাশির সময়ে যাতে মুখ ঢাকা দিয়ে কাশে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

facebook
facebook