Your child
Sananda fashion

অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

বিভিন্ন অসুখে বাচ্চাদের অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াতে হয়। তবে এই মহৌষধ থেকেও হতে পারে নানা প্রতিক্রিয়া। জানাচ্ছেন সিনিয়র কনসালটেন্ট পিডিয়াট্রিশিয়ান ডা. সৌমিত্র দত্ত।

g

ভাইরাল ইনফেকশনের জেরে জ্বর-সর্দি লেগেই থাকে। আর অনেকেই আছেন, যাঁরা বাচ্চাদের নির্দ্বিধায়, নির্বিচারে অ্যান্টিবায়োটিক খাইয়ে দেন। কথায় কথায় অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফল কিন্তু মারাত্মক হতে পারে। না জেনে, না বুঝে, ডোজ়ের অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক খেলে ছোট বড় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়াটা মোটেও অস্বাভাবিক নয়। তবে কিছুটা সতর্ক থাকলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

কী ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে

এক এক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকে এক এক ধরনের প্রতিক্রিয়া হতে পারে। অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড গ্রুপের অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিক্রিয়ায় নেফরোটক্সিসিটি (কিডনির উপরে প্রভাব) আর ওটোটক্সিসিটি (কানের উপর প্রভাব) হতে পারে। কিডনির সমস্যা থাকলে এসব অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া যাবে না। পেনিসিলিন গ্রুপের কিছু অ্যান্টিবায়োটিকে মাইনর সাইড এফেক্ট হতে পারে। বাচ্চাদের ডায়রিয়া হতে পারে, ডায়াপার এরিয়ায় ফাংগাল ইনফেকশন হতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে শরীরে ব্লাড কাউন্ট কমে যেতে পারে। হতে পারে সিউডো মেমব্রেনাস কোলাইটিস নামে এক ধরনের ডায়রিয়াও। যে অ্যান্টিবায়োটিকগুলো সাধারণত ব্যবহার করা হয়, তার প্রতিক্রিয়ায় কারও বমি হয়, ডায়রিয়া হয়, শরীরে র‌্যাশ বেরয়, এমনকী লিভার ডিসফাংশনও হতে পারে। কারও শরীরে গোল গোল চাকা চাকা র‌্যাশ বেরয়। কারও আবার মুখের ভিতরেও র‌্যাশ বেরয়। তবে পেটে ইনফেকশন ও তা থেকে বমি, গা গোলানো ভাব খুব সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কুইনোলোন গ্রুপের ওষুধে প্রবল গ্যাসট্রাইটিস হতে পারে। মাথাব্যথা, তড়কা পর্যন্ত হতে পারে। তবে অ্যান্টিবায়োটিকের অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই কিন্তু অত্যধিক ডোজ়ের কারণে হয়। এখানে মজার ব্যাপার হল, এমন অনেক ওষুধই আছে, যেগুলো বাচ্চারা বড়দের থেকে বেশি সহ্য করতে পারে। আবার সালফোনামাইড গ্রুপের একটি বিশেষ অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় যে অসুখটি হয় তার নাম স্টিভেনস-জনসন সিনড্রোম। এর ফলে সারা শরীরের চামড়া পুড়ে যাওয়ার মত হয়, চামড়া খসে পড়ে। শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্ত পড়তে পারে। তবে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিক্রিয়ায় সবসময় যে এত মারাত্মক ফল হয়, তা কিন্তু নয়। আবার কিছু অ্যান্টি-টিউবারকিলোসিস ওষুধেও লিভারের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ব্লাড কাউন্ট, বিশেষ করে প্লেটলেট কমে যেতে পারে।

ডায়াগনোসিস ও চিকিৎসা

কোনও নির্দিষ্ট অসুখের যে সাধারণ লক্ষণ, তার বাইরে অন্য কোনও উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা গেলে অ্যান্টিবায়োটিককে সন্দেহ করা যেতে পারে। যেমন ধরুন, নিউমোনিয়া হলে একজন বাচ্চার শ্বাসকষ্ট হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু যদি তার শরীরে র‌্যাশ বেরয়, মুখের ভিতরে আলসার হয়, তাহলে সেটা কোনও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে হতে পারে। আবার ধরুন, কোনও বাচ্চার যদি ইনফেকশাস মনোক্লিওসিস রোগ হয়, তাহলে অ্যামোক্সিসিলিন গ্রুপের অ্যান্টিবায়োটিক দিলে শরীরে র‌্যাশ বেরয়। ফলে ওই অসুখে ওই ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক সাধারণত দেওয়া হয় না। কিন্তু যদি দেখা কোনও বিশেষ অসুখে র‌্যাশ বেরনোর কোনও সম্ভাবনাই নেই, তবুও র‌্যাশ বেরলে অ্যান্টিবায়োটিককে দোষ দেওয়ার কথা ভাবতে হবে। অর্থাৎ, যে অসুখে যে উপসর্গের সম্ভাবনা নেই, সেই অসুখে সেই উপসর্গ হলে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে নির্দিষ্ট কিছু কিছু লক্ষণ দেখলেই বোঝা যায় যে এটি অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিক্রিয়ার ফলশ্রুতি। স্টিভেনস-জনসন সিনড্রোমে সারা শরীরে লাল গোলাকার দাগের ভিতরে কালো স্পট দেখা যায়। শুধু ক্লিনিকাল ডায়াগনোসিসে ধরা না গেলে, ল্যাবরেটরি ডায়াগনোসিসের প্রয়োজন হয়। সন্দেহ হলে ওই অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধ করে দেওয়া হয়। দেখা যায়, তার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই উপসর্গ কমতে শুরু করেছে। মাথায় রাখতে হবে, অ্যান্টিবায়োটিকের ডোজ় কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিছু কিছু অ্যান্টিবায়োটিক বেশি ডোজ়ে দিলে তার মারাত্মক ফল হতে পারে। তাই সঠিক ডোজ়ে, ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তবেই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত। যদি উপসর্গ অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে হয়, অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধ করে দেওয়া হয়। সঙ্গে অ্যান্টি-অ্যালার্জিক দিতে হতে পারে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয়। লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়। ডায়রিয়া হলে প্রোবায়োটিক ব্যবহার করা যেতে পারে। ওষুধ কেনার আগে অবশ্যই ড্রাগ লেবেল দেখে নেওয়া প্রয়োজন। আর সাধারণ যে লক্ষণগুলো দেখা যায়, তার মোকাবিলায় বাচ্চাকে হালকা খাওয়াদাওয়া করান। ডায়রিয়া হলে প্রচুর জল খাওয়ান।

facebook
facebook