Your child
Sananda fashion

মনঃসংযোগ বাড়ানোর জন্য

বাচ্চার মনঃসংযোগ বাড়িয়ে তুলবেন কীভাবে? আপনাদের জন্য রইল বিশেষ কয়েকটি পরামর্শ।

g

জানা অঙ্ক বারবার ভুল করা বা পড়ার সময়ে টিভি সিরিয়ালের দিকে মন পড়ে থাকা — বাচ্চাকে নিয়ে এই ধরনের সমস্যা সব বাবা-মায়েরই হয়। মনঃসংযোগের অভাব এর একটা প্রধান কারণ। বাচ্চার মনঃসংযোগ বাড়ানোর জন্য রইল কিছু সহজ টিপস। প্রথমেই সময়ের কাজ সময়ে করার উপর গুরুত্ব দিন। বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়ে সারাদিনের কাজকর্মের একটা মোটামুটি রুটিন ঠিক করুন। খেয়াল রাখবেন পড়াশোনা এবং খেলা বা অন্যান্য রিক্রিয়েশনের মধ্যে যেন একটা ব্যালেন্স থাকে। ছোট বাচ্চাদের টানা এক ঘণ্টার বেশি পড়তে বাধ্য করবেন না। টিভি দেখা বা কম্পিউটার গেমস খেলার সময় নির্দিষ্ট করে দিন। দিনের যেটুকু সময় ফাঁকা থাকবে, সেই সময়টুকুতে বাচ্চাকে সৃজনশীল কাজ, যেমন ছবি আঁকা, গানবাজনা করা বা গল্পের বই পড়ার মতো কাজ করতে উৎসাহিত করুন। উইকএন্ড বা ছুটির দিনগুলো রুটিনের আওতা থেকে বাইরে রাখলেই ভাল। পড়তে বসে প্রথম ৫-১০ মিনিট লেগে যায় মনঃসংযোগ করতে। তাই হালকা কোনও বিষয় দিয়ে পড়া শুরু করাই ভাল। বাড়ির যে অংশে সবসময় যাতায়াত হয় বা টিভি, কম্পিউটার থাকে, সেই জায়গায় পড়ার টেবল না রাখাই শ্রেয়। পড়ার সময়টুকুতে যেন অন্য কোনও ব্যাঘাত না ঘটে, সেই দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখুন। বাচ্চা যখন পড়ছে, তখন বাড়িতে পারতপক্ষে টিভি চালাবেন না, বা ফোন অ্যাটেন্ড করবেন না। অনেক ছেলেমেয়ে সকালবেলা পড়তে ভালবাসে, কেউ বা রাত জেগে পড়ে। সেই চয়েসটা ওদের উপরেই ছেড়ে দিন। খেলাধুলা বাচ্চাদের মনঃসংযোগ বাড়ানোর বড় সহায়ক। খুব ছোট বাচ্চাদের অ্যাবাকাসের সাহায্যে কাউন্টিং এবং সহজ অঙ্ক শেখাতে পারেন। রঙিন মজার খেলনাটা পেয়ে বাচ্চারা চটপট গুনতে শিখে যাবে। একসঙ্গে বসে জিগ-স পাজ়ল সলভ করতে পারেন। একটু বড় হলে দাবা, স্ক্র্যাবল, সুদোকু, ক্রসওয়র্ড পাজ়লের মত মজার পাসটাইমের সঙ্গে ওর পরিচয় করিয়ে দিন। প্রথম দিকে নিজে সাহায্য করুন, তারপর নিজে নিজেই খেলতে দিন। শক্ত সুদোকু বা পাজ়ল সলভ করলে একটা পছন্দমতো প্রাইজ়ও দেওয়া যেতে পারে। সন্ধেবেলা বাড়ির সবাই মিলে একটা পাজ়ল প্রতিযোগিতাও অ্যারেঞ্জ করে ফেলতে পারেন।

ছেলেবেলা থেকে বাচ্চার মধ্যে কয়েকটি ডুজ় অ্যান্ড ডোন্টস মাথায় ঢুকিয়ে দিন। যেমন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা, শুতে যাওয়া, হোমওয়র্ক সময়ে শেষ করা ইত্যাদি। নিজেও ডিসিপ্লিন মেনে চলুন, যাতে আপনাকে দেখে ও শিখতে পারে। কোনও কাজ একবার শুরু করলে, সেটা শেষ করে তবেই উঠতে পরামর্শ দিন। তা সে হোমওয়র্কই হোক বা পাজ়ল সলভিং। সবসময় নির্দিষ্ট একটা গোল বা লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করতে সাহায্য করুন।

আউটডোর অ্যাকটিভিজ় বাচ্চাদের জন্য খুবই জরুরি। ছোটাছুটি করে খেলাধুলো করা, বেড়াতে যাওয়া, এগুলো শরীর-মন তরতাজা রাখে। ফলে মনঃসংযোগ বৃদ্ধি পায়। দুরন্ত বাচ্চা কোনও কাজ ধৈর্য ধরে করলে তার প্রশংসা করতে ভুলবেন না। অন্যায় বা ভুল করলে চেঁচিয়ে বকাবকি বা মারধোর না করে যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে বলুন কাজটা কেন ঠিক হয়নি। ওকে যে কাজটার জন্য বকছেন, সেটা নিজে করবেন না যেন।

আমার ছেলের বয়স ৪ বছর ৯ মাস। কেজিতে পড়ে। লিখতে ভাল পারলেও, সমস্যা হল অক্ষর বা সংখ্যা প্রায়ই উল্টো করে লেখে। এটা কি নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যাবে না ডাক্তারের সাহায্য নেব?
শাঁওলি, বেলঘরিয়া

অক্ষর বা সংখ্যা উল্টো করে লেখা বা ‘মিরর রাইটিং’ ডিক্সলেক্সিয়ার একটা লক্ষণ। চাইল্ড সায়কায়াট্রিস্টের পরামর্শ নিলে সঠিকভাবে জানতে পারবেন আপনার ছেলের ডিক্সলেক্সিয়া আছে কি না। ডিক্সলেক্সিক শিশুদের ভাষা বুঝতে এবং লিখতে সমস্যা হয়। কিন্তু সঠিক চিকিৎসা করালে এদের স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে কোনও অসুবিধা হয় না।

facebook
facebook